Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৪ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২১-২০১৯

ঢাকা উত্তরে তাবিথ আউয়াল, দক্ষিণে ইশরাক চূড়ান্ত

নজরুল ইসলাম


ঢাকা উত্তরে তাবিথ আউয়াল, দক্ষিণে ইশরাক চূড়ান্ত

ঢাকা, ২২ আগস্ট- ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্তই বলা যায়। অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে উত্তরে তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে ইশরাক হোসেন প্রার্থী হবেন। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। নগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সহসভাপতি আবু সুফিয়ানের মধ্যে একজন প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে।

দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, প্রাণঘাতী ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমানে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সরকার যথাসময়ে নির্বাচন দেবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা আছে। তবু দল তাদের প্রার্থী চূড়ান্তকরণের কাজ এগিয়ে রাখছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় এ প্রতিবেদককে বলেন, তার দল সব স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে মোতাবেক সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও যাবে। তিনি বলেন, কারা প্রার্থী হবেন তা নিয়ে দলের একটি সিদ্ধান্ত আগেই থাকে। এবারও সে রকম প্রস্তুতি তো আছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ হয়েছে, তাদের তিনি তার পছন্দের প্রার্থীদের নাম জানিয়েছেন। ঈদের আগে তারেক রহমানের নির্দেশে দুই মেয়রপ্রার্থী তাবিথ ও ইশরাক বাড্ডায় গণপিটুনিতে নিহত নারী তাসলিমা বেগম রেনুর স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের ঈদ উপহার দেন। এর মাধ্যমে তারেক রহমান তার দুই প্রার্থীর ব্যাপারে নেতাকর্মীদের কাছে বার্তা দিয়েছেন।

চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটিতে ভোট হওয়ার কথা। কোরবানির ঈদের আগে স্থায়ী কমিটিতে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে- জাতীয় ও স্থানীয় যে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, উত্তরে গত সিটি নির্বাচনের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে এবারও বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনিই দলের প্রার্থী সেই বার্তা ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি নেতাকর্মীদের জানিয়ে দিয়েছেন তারেক রহমান। উত্তর কমিটিকে তাবিথের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণে প্রভাবশালী নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অথবা তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের মেয়রপ্রার্থী পদে নির্বাচন করার আগ্রহ নেই। সেখানে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান।

ইশরাককে প্রার্থী করার পক্ষে যুক্তি হলো- দক্ষিণের বেশিরভাগ মানুষই স্থানীয় বাসিন্দা। পুরনো ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা হলে আনুকূল্য পাওয়া যায়। সেই চিন্তা থেকে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। যদিও দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ আছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলের।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছিল। তখন দলের নেতাকর্মীদের অধিকাংশ হয় কারাগারে নইলে পলাতক ছিল। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। নেতাকর্মীরা জামিনে আছেন। আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তাই নির্বাচন মোটামুটিভাবে স্বচ্ছ হলেই জয়ী হবেন তারা।

জানা গেছে, তারেক রহমানের নির্দেশের পর উত্তরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন তাবিথ। কয়েক দিন আগে তাবিথকে নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আগুনে পুড়ে যাওয়া মিরপুর-৭ ঝিলপাড় চলন্তিকা বস্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান।

তাবিথ আউয়াল এ প্রতিবেদককে বলেন, গতবার প্রার্থী ছিলাম। নির্বাচনের পর থেকেই উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এখনো করছি। নির্বাচনের জন্য আমি প্রস্তুত। তবে সরকার নির্বাচন আদৌ দেবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

একই সময়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটিতে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে প্রাথমিক নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম করছেন ইশরাক। ঈদের দিন বিকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।

ইশরাক হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, এ সরকারের অধীনে বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। আগামী সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে- এটিও মনে করি না। তার পরও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করতে আমি প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমার বাবা অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। আমিও প্রকৌশলী। ঢাকাকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি। আমি নিজেও যানজট নিয়ে পড়াশোনা করেছি। তাই বাবার অভিজ্ঞতা আর আমার পড়াশোনাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক ঢাকা গড়তে পারব।

জানা গেছে, বিএনপি হাইকমান্ডের দৃষ্টিতে ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে যোগ্য। মহানগরে তার শক্ত অবস্থান আছে। তবে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বকর ও সহসভাপতি আবু সুফিয়ানেরও আগ্রহ আছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, স্পর্শকাতর মামলার জটিলতা না থাকলে কারাবন্দি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে প্রার্থী করার পক্ষে নেতাকর্মীরা। সুফিয়ানের পক্ষে আছেন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ স্থায়ী কমিটির এক নেতা।

ডা. শাহাদাত হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, দল নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি প্রার্থী হবেন। এখানে ৪১টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রস্তুতির কোনো সমস্যা নেই। তবে অতীতে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপি থেকেই বেরিয়ে আসতে হবে।

আর/০৮:১৪/২২ আগস্ট

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে