Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৭ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২১-২০১৯

প্রয়াত নায়ক রাজকে নিয়ে যা বললেন তারকারা

প্রয়াত নায়ক রাজকে নিয়ে যা বললেন তারকারা

ঢাকা, ২১ আগস্ট -  নায়ক রাজ বলতে বাংলাদেশে একজনই ছিলেন। তিনি হচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাক। যে মানুষটি একাধারে একজন অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ভূমিকা পালন করেছিলেন। ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অভিভাবক। তার হাত ধরেই বাংলা চলচ্চিত্রে শুরু হয় নতুন ধারার, নতুন যুগের।

আজ থেকে দুই বছর আগে (২১ আগস্ট ২০১৭) পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অনন্তের পথে পাড়ি জমান ‘অনন্ত প্রেম’র নায়ক রাজ্জাক। আজকের আয়োজনে থাকছে নায়ক রাজ রাজ্জাককে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

অভিনেতা ও রাজনীতিবীদ মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা বলেন, আমার সাথে রাজ্জাক সাহেবের খুব ভালো বন্ধত্ব সম্পর্ক ছিল। উনি অভিনয়ের জন্য জন্মেছিলেন। উনার মত অভিনেতা খুব দরকার ছিল আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য। তিনি একজন দাপুটে অভিনেতা ছিলেন। তিনি অভিনয়ের যায়গাতে কাউকে ছাড় দিতেন না। উনার চলে যাওয়ার আজ দুই বছর। আমি বলবো এই দুই বছর বাংলা চলচ্চিত্র হারিয়েছে অবিভাবককে। আর কোনদিন এই অভাবটা পূরণ হবে না।

জীবনের শেষ মূহুর্তে এসে যতটুকু চাওয়ার ছিল চলচ্চিত্রের কাছে সেটা তিনি পাননি। চলচ্চিত্রে উনাকে অনেক কিছু দিয়েছি। তিনি চলচ্চিত্রের জন্য অনেক কিছু করেছেন। আমি বলব উনি একজন অভিনয়ের মানুষ ছিলেন।

বাংলাদেশ পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুসফিকুর রহমান গুলজার বলেন, উনার অভবা আমরা এখনও অনূভব করি। চলচ্চিত্রের জন্য উনি জীবনের শেষদিন পযর্ন্ত ছিলেন। চলচ্চিত্রের প্রতি উনার যে গভীর ভালোবাসা ছিল তা ভুলবার না। বাংলা চলচ্চিত্র উনাকে সব সময় শ্রোদ্ধার যায়গাতে রাখবে। রাজ্জাক স্বরণে আজ পরিচালক সমিতি দোয়া ও মিলাদ মাগফিলের আয়োজন করেছে।

বরেণ্য অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা বলেন, আমরা যেন তাকে (রাজ্জাক) ভুলে না যাই। এ প্রজন্মের শিল্পীরা যেন তাকে মনে রাখে শ্রদ্ধা করে। তার রেখে যাওয়া আদর্শ যেন অনুসরণ করে। আমি যখনই সুযোগ পেয়েছি তাকে নিয়ে কথা বলেছি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সামনে রাজ্জাক ভাইকে নিয়ে কথা বলেছি। তার স্মৃতি চিরজাগরূক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। যে যার জায়গা থেকে এ কাজটি করতে হবে।

বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি ও অভিনেতা অমিত হাসান বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র পিতা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন দু’বছর আগে। আজকে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে মিলাদ মাহফিল হচ্ছে অথচ আমরা জানিনা। আমাদের জানানো হয়নি। শুধু আমাকে না, ওমর সানি, মৌসুমিকেও জানানো হয়নি মিলাদের বিষয়ে।

বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির বর্তমান সেক্রেটারি ও অভিনেতা জায়েদ খান বলেন, আমার রাজ্জাক সাহেবের মৃত্যু বার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছি।

চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেত্রী চম্পা বলেন, অ্যাকশান, রোমান্টিক, কমেডি তিন ধরনের ছবিতেই নায়ক রাজ রাজ্জাক ছিলেন দক্ষ। তার চলে যাওয়ার দুই বছরের চলচ্চিত্র পরিবার স্বরণ করবে তাকে। অভিনয় জীবনে তিনি পেয়েছেন দর্শকদের অফুরন্ত ভালবাসা ও শ্রদ্ধা। বলা যায়, এ তিন চরিত্রে ত্রিরত্নের মতো বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নায়ক রাজ রাজ্জাকের জন্ম, কলকাতার টালিগঞ্জে। অভিনয়ের শুরুটাও ছিল সেখানেই। কিশোর বয়সে কলকাতার মঞ্চ নাটকে জড়িয়ে শুরু। এরপর ১৯৬৪ সালে আলে দাঙ্গার উত্তাল সময়ে নতুন জীবন গড়তে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আবদুর রাজ্জাক পরিবারসহ ঢাকায় চলে আসেন। কঠোর পরিশ্রম আর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সাথে সংগ্রাম করে উপাধি পেয়েছেন নায়ক রাজ রাজ্জাক।

জীবনে নানা সংগ্রামের পথ অতিক্রম করেন তিনি। তারপর আব্দুল জব্বার খানের সহযোগিতায় তিনি একবাল ফিল্মে কাজ করার সুযোগ লাভ করেন। ‘উজালা’ ছবিতে কাজ শুরু করেন পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারী হিসেবে। এরপর সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের ‘তেরো নাম্বার ফেকু অস্তাগড় লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক।

পরবর্তীতে ‌কার বউ, ডাক বাবু, আখেরী স্টেশনসহ আরও বেশ কটি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে তিনি। পরে বেহুলা চলচ্চিত্রে সুচন্দার বিপরীতে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে উপস্থিত হন এবং সবার মন জয় করে নেন। দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি নায়করাজ হিসেবে পরিচিতি পান।

১৯৭৩ সালে রংবাজ ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করে রাজ্জাক বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন ধারা প্রবর্তন করেন। তিনি সূচনা করেন চলচ্চিত্রের আধুনিক অ্যাকশন যুগেরও। রংবাজ দিয়েই রাজ্জাক তাঁর অভিনয় জীবনে বৈচিত্র নিয়ে আসেন। ওই সময় রাজ্জাক বলেছিলেন, রংবাজ ছবির সাফল্যের পর আমার মনে হলো, দর্শকদের একঘেয়েমি থেকে মুক্ত রাখতে হলে সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। প্রয়োজনে দর্শকদের জন্য নিজের অর্থে ছবি নির্মাণ করতে হবে।

‘কি যে করি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি আজীবন সম্মাননা অর্জন করেছেন। এই পর্যন্ত তিনি চার বার জাতীয় সম্মাননা লাভ করেন। বাংলা সিনেমার খ্যাতনামা এই অভিনেতার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।


এন এইচ, ২১ আগস্ট.

ঢালিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে