Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৮-১৮-২০১৯

২৮ বছর পর সন্তানের স্বীকৃতি পেলেন পটুয়াখালীর ইদ্রিস

২৮ বছর পর সন্তানের স্বীকৃতি পেলেন পটুয়াখালীর ইদ্রিস

পটুয়াখালী, ১৮ আগস্ট- দীর্ঘ ২৮ বছর পর সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন পটুয়াখালী শহরের চটপটি বিক্রেতা মোহাম্মদ ইদ্রিস বিশ্বাস (২৮)। সম্প্রতি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ইদ্রিস বিশ্বাসকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বিশ্বাস। পিতা-পুত্রের সম্পর্ক জোড়া লাগাতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বাবুল খান।

জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে পারিবারিকভাবে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ গ্রামের সাফিয়া বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় একই জেলার কলাপাড়ার ধুলাসার গ্রামের সাইফুল ইসলাম বিশ্বাসের। বিয়ের পর স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে নেন সাইফুল। তাদের ঘরে জন্ম নেয় ইদ্রিস বিশ্বাস। তবে সাফিয়াকে বাড়িতে তুলে নেওয়ার পর থেকেই সাইফুলের বাবা-মা বিয়ে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। ইদ্রিস বিশ্বাসের জন্মের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সাইফুলের সঙ্গে সাফিয়ার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ইদ্রিস বিশ্বাসের বয়স এখন ২৮-এর কোঠায়। মা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পটুয়াখালী শহরে বসবাস করছেন তিনি।

সবকিছু থাকার পরও বাবার শূন্যতা ইদ্রিসকে প্রতিনিয়ত কাঁদিয়েছে। এ কারণে সময় ও সুযোগ পেলেই বাবাকে খুঁজতেন ইদ্রিস। অবশেষে গত ২১ জুলাই পিতা-পুত্রের সাক্ষাৎ হয়। ইদ্রিসের বাবা সাইফুল ইসলামী ব্যাংকের পটুয়াখালী শাখার একজন কর্মকর্তা। সাইফুল পরে আবার বিয়ে করেছেন। সেখানে তার পাঁচ সন্তান রয়েছে।

সাইফুলের আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও ইদ্রিস বেড়ে উঠেছেন অভাবের সংসারে। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর জেলার মির্জাগঞ্জে নানাবাড়িতে আশ্রয় নেন ইদ্রিস। অর্থাভাবে লেখাপড়াও শেষ করতে পারেননি। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে পটুয়াখালী শহরে এসে খালাতো ভাইয়ের দোকানে কাজ করেন। এর পর শহরের শহীদ আলাউদ্দিন শিশুপার্ক চত্বরে চটপটির দোকান দেন। ২০১২ সালে বিয়ে করেন ইদ্রিস। তিনি এখন দুই ছেলে-মেয়ের বাবা। চটপটির দোকানের আয় দিয়েই চলছে তাদের সংসার। থাকেন শিশুপার্কের পাশেই ভাড়া বাসায়।

ইদ্রিস বলেন, 'জন্মের পর থেকে বাবার আদর-স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকে বাবাকে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। অনেক সাধনা ও কষ্টে ২৮ বছর পর বাবাকে খুঁজে পেয়েছি। আমি খুবই খুশি।'

ইদ্রিসের মা সাফিয়া বেগম বলেন, 'অন্যায়ভাবে আমার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শাশুড়ির কারণে স্বামীর সংসার ছাড়তে হয়েছে আমাকে। তবে, ২৮ বছর পর হলেও ছেলে সন্তানের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমি খুশি।'

সাইফুল বিশ্বাস বলেন, ইদ্রিস তারই ছেলে। কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জানান, ইদ্রিস বিশ্বাসের অভিযোগ পেয়ে তিনি সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামেন। দেখতে পান ইদ্রিসের কথাই সত্য। এর পর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ইদ্রিসকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন সাইফুল।

সূত্র: সমকাল
এনইউ / ১৮ আগস্ট

পটুয়াখালী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে