Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ২ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৭-২০১৯

বরগুনা পৌরসভার মেয়রপুত্র মামুনের ইয়াবা সিন্ডিকেট

হাবিব রহমান


বরগুনা পৌরসভার মেয়রপুত্র মামুনের ইয়াবা সিন্ডিকেট

বরগুনা, ১৮ আগস্ট- কয়েক বছর আগের কথা। ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়ে পড়েন নাফির আল মামুন। আসক্তির এক পর্যায়ে তিনি চিন্তা করেন, এ মরণনেশার পেছনে প্রতিদিন টাকা খরচ না করে উল্টো রাতারাতি বিপুল টাকার মালিক হওয়া যেতে পারে, যদি তিনি নিজেই এহেন কারবারে জড়িয়ে পড়েন। এবং একসময় সত্যি সত্যি এতে জড়িয়ে পড়লেন এবং বিপুল পরিমাণ বিত্ত-বৈভব গড়ে তুললেন ধনাঢ্য পরিবারের এ যুবক।

প্রচলিত আছে, পাপ কখনো চাপা থাকে না। তার বেলায়ও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান থেকে মামুনকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে পল্টন থানাপুলিশ। এ সময় তার দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানিয়েছেন তার এ কারবারের অনেক অজানা তথ্য।

৩৫ বছর বয়সী মামুন বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছেন। বর্তমানে বাস করেন তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে। গুণধর (!) এ যুবকের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে, তিনি বরগুনা পৌরসভার মেয়র শাহাদাত হোসেনের ছেলে। বরগুনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন জেলাটিতে ক্ষমতাসীন দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী বলয়ের রাজনীতিতে সক্রিয়। মামুন প্রথমে বরগুনা শহরে ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। কিন্তু নিজের পছন্দে বিয়ে করায় তার বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এর পর থেকে রাজধানীতেই তিনি বেশিরভাগ সময় থাকতেন। তাকে বরগুনা শহরে খুব কমই দেখা যেত।

পুলিশ জানায়, মামুনকে সন্দেহ হলে টহল পুলিশের একটি দল তাকে তল্লাশি করতে চায়। কিন্তু মামুন এতে বাধা দিলে পুলিশের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। এরপর তার দেহ তল্লাশি করে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হলে তাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সংশ্লিষ্ট বিচারক। গতকাল মামুন ও তার দুই সহযোগীকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, তিনি নিয়মিত ইয়াবা সেবন করেন। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে বরগুনা সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে আসা ইয়াবার চালান রাজধানীতে এনে বিক্রি করতেন। টেকনাফসহ কক্সবাজারজুড়ে মাদকবিরোধী জোরদার অভিযান চলছে। এ কারণে ইয়াবা কারবারিরা বর্তমানে বাংলাদেশে ইয়াবার চালান পাঠানোর ক্ষেত্রে নৌরুটে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। এ সুযোগটা কাজে লাগাতেন মামুন। মামুনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বর্তমানে এ যুবক তার তৃতীয় স্ত্রীসহ রাজধানীতেই বসবাস করেন। পুলিশ বলছে, তার স্ত্রী স্বামীর ইয়াবা কারবারের বিষয়টি জানেন কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আমাদের সময়ের সঙ্গে শাহাদাত হোসেন তার ছেলে সম্পর্কে বলেন, আমার ছেলে সিগারেট খায়। বিয়ে নিয়ে তাকে আমি ত্যাজ্য করেছিলাম। ইয়াবাও হয়তো খেতে পারে। কিন্তু সে ইয়াবার ব্যবসা করে বা করতে পারে বলে আমার বিশ^াস হয় না। ধারণা করছি, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) মিশু বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে বলেন, মামুনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। সেদিনই তিনি মারা যান। এ খুনের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুুকযুদ্ধে নিহত হন। আলোচিত এ হত্যাকা-ের পর বরগুনার স্থানীয় রাজনীতি, শহরজুড়ে মাদকের কারবার, বিশেষ করে ইয়াবা কারবারের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। নয়ন বন্ডসহ তার সহযোগীদের মাদক সেবনের তথ্যও উঠে আসে সংবাদ মাধ্যমে।

আর/০৮:১৪/১৮ আগস্ট

বরগুনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে