Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৭-২০১৯

‘দুটি চামড়া বিক্রি করে এক কাপ চা ও হয় না’

মনজুরুল ইসলাম


‘দুটি চামড়া বিক্রি করে এক কাপ চা ও হয় না’

ময়মনসিংহ, ১৮ আগস্ট- ‘দুটি চামড়া ২৪ টাকায় বিক্রি করি। তাহলে, দুটি চামড়ার ২০ টাকা খাজনা দিয়ে বাকি টাকায় একটি চায়ের দাম হয় না’  বলে অভিযোগ করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১৭ আগস্ট) এমন চিত্রই দেখা যায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিখ্যাত চামড়া বাজার শম্ভুগঞ্জে। এই বাজারে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসে খুচরা ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী সন্টু রবিদাস বলেন, প্রতিটি খাসির চামড়া কেনা ১০ থেকে ১২ টাকা। প্রতি চামড়ায় লবণ, খাজনা, লেবার খরচসহ দাম পড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। টেনারীর ক্রেতারা প্রতিটি চামড়ার দাম বলে, ১০ থেকে ১২ টাকা। তাই বাধ্য হয়েই চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, টেনারী মালিকরা প্রতিটি খাসির চামড়ার দাম বলে ১০ থেকে ১২ টাকা। যদি দুটি চামড়া ২৪ টাকায় বিক্রি করি। তাহলে, দুটি চামড়ার ২০ টাকা খাজনা দিয়ে বাকি টাকায় একটি চায়ের দাম হয় না। বাকিট সবই লোকসান থেকে যায়।

নেত্রকোনার হিরনপুর থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা উজ্জল রবিদাস বলেন, আমি ৫০ টি চামড়া ১৪০ টাকা বিক্রি করেছি। কি কারণে এত কম দামে চামড়া বিক্রি করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, টেনারীর ক্রেতারা বলছে আমার নাকি নস্ট হয়ে গেছে। তাই, বাধ্য হয়ে চামড়া বিক্রি করেছি। তাছাড়া, বাড়িতে যাওয়া আসার খরচ তো তুলতে হবে।ঈশ্বরগঞ্জ থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা রিপন মিয়া বলেন, ২৫ থেকে ৩০ ফুট একটি চামড়া ক্রয় করেছি ৩০০শ টাকায়। প্রতি চামড়ায় লবণ, খাজনা, জিলানী, লেবার ও খাজনাসহ মোট দাম হয় ৫৫০ শ থেকে ৬০০ শ টাকা।

টেনারীর মালিকরা প্রতি চামড়া দাম বলে ৩০০ শ থেকে ৩৫০ শ টাকা। সুদের উপর টাকা নিয়ে এত টাকার চামড়া কিনেছি। যদি চামড়ার যথাযথ দাম না পাই। তবে, চামড়া মাটিতে পুতে ফেলব।

সুদের বিষয়ে জানতে চাইলে রিপন বলেন, ৩ লাখ টাকা সুদের উপর নিয়েছি। প্রতি লাখে ১০ দিনে ১০ হাজার টাকা সুদ দিতে হবে। ১০ দিন পর সুদের পরিমান দ্বিগুন হয়ে যাবে। যদি চামড়া বিক্রি করতে না পারি। তাহলে, বউ বাচ্চা নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা খুচরা ব্যবসায়ী জামাল মিয়া বলেন, আমি প্রায় আড়াইলাখ টাকার গরুর চামড়া ক্রয় করেছি। বাজারে চামড়ার যে দাম তাতে মনে হয়, দেড় লাখ টাকার বেশি লোকসান হবে।

কৃষ্ণপাল নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমি নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে এখানে চামড়া বিক্রি করতে এসেছি। এলাকায় ঘুরে ঘুরে আড়াই লাখ টাকার চামড়া কিনেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, আমার অর্ধেক টাকাই লোকসান হবে।

শম্ভুগঞ্জ বাজারের ইজারাদা মাহবুবুল হক বাবলু সরকার বলেন, গরুর প্রতি চামড়া প্রতি ৫০ টাকা ও খাসির প্রতি চামড়া প্রতি ১০ টাকা খাজনা ধার্য করা হয়েছে।

তবে, গতবারের তুলনায় চামড়া বেচাকেনা অনেক কম। আমরা ১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় বাজার ডেকেছি, তা উঠবে বলে মনে হয় না।

রিলায়েন্স টেনারীর ক্রেতা আবু তাহের বলেন, সরকার নির্ধারিত গরুর প্রতি ফুট চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দামে চামড়া ক্রয় করছি। তবে, খুচরা ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে কম দামে চামড়া কেনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।

রহমান লেদার প্রোডাক্টস’র মালিক আব্দুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কম। তাই, চামড়ার দামও কম। তাছাড়া ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ লোন টেনারী মালিকদের দেয়ার কথা ছিল। তা, দিচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ
এনইউ / ১৮ আগস্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে