Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৩-২০১৯

‘মা ওরা আমাকে লাশ বানিয়ে পাঠাবে’

‘মা ওরা আমাকে লাশ বানিয়ে পাঠাবে’

ঢাকা, ১৩ আগস্ট - কান্না জড়িত কণ্ঠে নিহত বর্ণালীর বাবা বাবুল মজুমদার বলছিলেন, অবশেষে বর্ণালীর শঙ্কাই সত্যে পরিণত হলো। লাশ হয়ে ফিরতে হলো তাকে বাবার বাড়ি। বর্ণালীর মা শিখা রানী জানান, স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেয়ে তার মেয়ে বাড়ি চলে এসেছিল। স্বামীর সাথে ঢাকায় ফিরে যেতে চায়নি। কিন্তু সকলে বুঝিয়ে সুজিয়ে তাকে স্বামীর সাথে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।

গত ২ জুলাই স্বামী মিথুন ওরফে রাহুল বর্ণালীকে হত্যা করে করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় রামপুরা থানায় মিথুনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে আসামির খালাতো ভাই একজন পুলিশের এসআই হওয়ায় মামলার সঠিক তদন্ত নিয়ে আশঙ্কা করছেন নিহতের বাবা মা। তারা প্রকৃত তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

নিহত বর্ণালীর স্বজনরা জানান, ২ জুন বর্ণালীর মৃত্যুর পর ৩ তারিখে মিথুনের বাবা মাসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দেয়ার চেষ্টা করা হয় কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। অবশেষে ওই দিন রাতে পুলিশের ইচ্ছা অনুযায়ী কেবল মিথুনকে আসামি করে মামলা দিতে বাধ্য হন তারা।

তারা আরও জানান, ঘটনার পর দিন ঢাকায় গিয়ে দেখা যায় লাশ হাসপাতালে অপর দিকে বর্ণালীর স্বামী মিথুন রামপুরা থানাতে আটক রয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত মিথুনের খালাত ভাই পুলিশের এসআই হওয়ায় তারা প্রকৃত বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নিহতের স্বজনরা।

এ ব্যাপারে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আঃ কুদ্দুস ফকির সাংবাদিকদের জানান, বর্ণালীর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে, বর্ণালীর পরিবারের অভিযোগ রয়েছে, স্বামী মিথুনের খালাতো ভাই এস আই দিপক দে মিথুনকে রামপুরা থানায় নিয়ে যায়। পরে মৃত বর্ণালীর পরিবার রামপুরা থানায় গেলে দেখেন এস আই দিপক থানায় যাতে মামলা দিতে না পারে তার জন্য তদবির চালান। বর্ণালী কি কারণে মারা গেছেন তার সঠিক তদন্ত হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বর্ণালীর মা-বাবা।

নিহতের স্বজনরা জানায়, গত ৫বছর আগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বাবুল মজুমদার এর মেয়ে বর্ণালী মজুমদার বন্যার সাথে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের চুনি লাল দের ছেলে মিথুন দে (রাহুল) এর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বর্ণালী স্বামীর সাথে ঢাকায় চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে বিয়ের পর থেকে প্রায় প্রতিনিয়ত মিথুন ও মিথুনের পরিবার নিহত বর্ণালীকে শাররীক ও মানসিক নির্যাতন করত। এক পর্যায়ে বর্ণালী ঢাকায় স্বামীর বাসা থেকে বোরহানউদ্দিনে বাবার বাড়ি চলে আসে।

সম্প্রতি সকলের মিলে অনেকটা জোর করেই বর্ণালীকে ঢাকার বনশ্রী এলাকায় স্বামীর বাসায় পাঠায়। পাঠানোর সময় বর্ণালী তার মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি আর ঢাকা যাবো না। আমার স্বামী ও শ্বশুর শ্বাশুরী আমাকে লাশ বানিয়ে তোমাদের কাছে পাঠাবে। শেষ পর্যন্ত বর্ণালীর কথাই সত্য প্রমাণিত হলো। লাশ হয়েই বাপের বাড়ি ফিরলেন বর্ণালী মজুমদার বন্যা।

গত ২জুলাই রাতে বনশ্রী এ ব্লকের ২নম্বর সংলগ্ন একটি বাসা থেকে রাত ১১ টার দিকে অচেতন অবস্থায় স্বামী মিথুন বর্ণালীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বর্ণালীকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে বর্ণালীর মৃত্যুর পর তার স্বামী মিথুন বর্ণালীর লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে রামপুরা থাকায় গিয়ে আত্মসমর্পন করে।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ
এন এইচ, ১৩ আগস্ট.

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে