Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৩-২০১৯

 নম্বর না বদলে অপারেটর বদলে বাধা কে?

হিটলার এ. হালিম


 নম্বর না বদলে অপারেটর বদলে বাধা কে?

ঢাকা, ১৩ আগস্ট - নম্বর না বদলে অপারেটর পরিবর্তনের সেবা তথা এমএনপি চালু হয়েছে ৯ মাস হলো। এর মধ্যেই এই সেবা সফলভাবে নিতে পেরেছেন ৫ লাখ গ্রাহক। তবে অপারেটর বদলের আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া, করপোরেট ব্যবহারকারীদের সিম ব্যবহারে শর্তযুক্ত থাকা এবং সচেতনতার অভাবে খুব বেশি গ্রাহক এই সেবায় যুক্ত হতে পারেননি। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ও খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মোবাইল ফোন অপারেটররা বেশি মাত্রায় আবেদন প্রত্যাখান করায় এ খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।

এমএনপি (মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি) সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডি জানায়, এমএনপি আবেদন প্রত্যাখানের হার ৩৫ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ ১০০টি আবেদন পড়লে ৩৫টির বেশি বাতিল হচ্ছে।

এমএনপি মূলত সেবা নিয়ে এক অপারেটরের সঙ্গে অন্য অপারেটরের প্রতিযোগিতা। গ্রাহকের আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারলেই অপারেটরগুলোর লাভ। গ্রাহক থেকে যায়। এমএনপিতে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা, কলড্রপ, কোয়ালিটি অব সার্ভিস ইত্যাদি বেশি জড়িত। ফলে যে অপারেটর বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারে, ভালোমানের সেবা দিতে পারে, মোবাইল ব্যবহারকারীরা সেই অপারেটরকেই বেছে নেবে।

এসব কারণে টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতোদিনেও এমএনপির ব্যাপক প্রসার না হওয়ার পেছনে মোবাইল অপারেটররাও একটা কারণ। কেউই গ্রাহক হারাতে চায় না। অপারেটরগুলোর ‘অদৃশ্য’ বাধা দূর করা না গেলে এমএনপি এরকম দুর্বল গতিতেই এগোবে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা এমএনপি নিয়ে সফল বা সন্তুষ্টু এটা বলবো না। তবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। সমস্যার কথা যা বলা হয়েছে, তাতে সব পক্ষেরই বোঝার কিছু ঘাটতি আছে।’

তিনি জানান, যে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে তা মেনেই এমএনপি হচ্ছে। কিছু ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর কারণে হয়তো এমএনপি সফল হচ্ছে না।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেখা গেলো কারও মোবাইলে টাকা অব্যহৃত রয়েছে। এখন ওই টাকা শেষ (ব্যালেন্স শূন্য) না হলে যে অপারেটরকে ছেড়ে যাওয়া হচ্ছে, সে ক্লিয়ারেন্স দেবে না। অন্যদিকে পোস্ট পেইড গ্রাহকদের বেলায় একই কথা, বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।’

মন্ত্রী মনে করেন, মূল সমস্যা মোবাইল সেবার মানে। আসলে অপারেটরগুলোর সেবার মান (কোয়ালিটি অব সার্ভিস) ভালো না হওয়ায় গ্রাহক কোথাও যেতে পারছে না। নেটওয়ার্ক খারাপ থাকায় অপারেটর বাছতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে এমএনপি যতো সংখ্যায় হওয়ার কথা ছিল, সে সংখ্যার অনুপাতের তুলনায় কম হচ্ছে।

মোবাইল অপারেটরের সেবার মানের প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ধরা যাক-গ্রামীণফোনের সার্ভিসে আমি অতিষ্ঠ। যেতে চাই টেলিটকে। কিন্তু টেলিটকের নেওয়ার্ক সব জায়গায় নেই। তাহলে কোথায় যাবো? অন্যদিকে রবি ছেড়ে গ্রামীণফোনে যেতে চাই। কিন্তু গ্রামীণফোনের কোয়ালিটি অব সার্ভিস খুবই খারাপ। ওদের সেবা ইম্প্রুভ না হলে তো ওখানে কেউ যাবে না। ফলে সবার আগে কোয়ালিটি অব সার্ভিস ভালো করতে হবে। যারটা বেশি ভালো হবে, সবাই অপারেটর বদলে সেরাটাতেই যাবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমএনপি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাবরুর হোসেন বলেন, ‘সাধারণত তিনটি কারণে অপারেটর পরিবর্তনে আগ্রহীদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকে। প্রথমত, পোস্ট পেইড বিল বকেয়া থাকলে। দ্বিতীয়ত, মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স থাকলে। তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট নম্বরটি ৯০ দিন বন্ধ (ইনঅ্যাক্টিভ) থাকলে। মূলত এই তিনটি কারণেই বেশ সংখ্যক আবেদন প্রত্যাখ্যান হচ্ছে।

তিনি জানান, মূলত ডোনার অপারেটর (যে অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে যাওয়া হবে) কোনও আবেদন রিজেক্ট করলে আমরাও রিজেক্ট করে দিই। গ্রাহক যদি কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে করেন, তাহলে আমরা তা বিটিআরসিতে পাঠিয়ে দিই। বিটিআরসিই তখন বিষয়টি দেখভাল করে। এর বাইরে অপারেটররা কীভাবে রিজেক্ট করে এই বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানিয়েছেন মাবুরুর হোসেন।

জানা গেল, ৯ মাস আগে এমএনপি সেবা চালু হওয়ার পর গত মে ও জুন মাসের দিকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার ব্যবহারকারী অপারেটর বদলের আবেদন করলেও জুলাই মাসে তা এক হাজারের নিচে নেমে যায়। নতুন বাজেটে সিম ট্যাক্স (সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্স) ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করায় আবেদনের হার কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে আবারও আবেদন বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিন এখন প্রায় তিন হাজার আবেদন জমা পড়ছে। গত মাসে আবেদন পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার।   


এন এইচ, ১৩ আগস্ট.

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে