Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৬ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১২-২০১৯

নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির আলমগীরের ক্ষমতার উৎস কী?

নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির আলমগীরের ক্ষমতার উৎস কী?

নোয়াখালী, ১২ আগস্ট- মোহাম্মদ আলমগীর। নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির। ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি চাকরিতে থেকেও পরিচয় গোপন করে ব্যবসা পরিচালনা, বিচারাধীন মামলায় প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে— তিনি চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দু’টি মামলা করেছে আলমগীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতার হলেও সাত ঘণ্টার ব্যবধানে জামিনে মুক্ত হন তিনি। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচার মামলায় সাধারণত কারও জামিন হয় না। কিন্তু আলমগীর ঠিকই জামিন পেয়েছেন।

আলমগীরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার চার্জশিট শিগগিরই দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার ক্ষমতার উৎস কী, তা খতিয়ে দেখেছে দুদক। আলমগীরের ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও বিত্তবান হওয়ার নেপথ্যে কারা কাজ করেছেন, কাদের ইন্ধন আছে, চার্জশিটে সেসব উল্লেখ থাকবে বলে জানা গেছে।

১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি স্টেনোগ্রাফার হিসেবে নোয়াখালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্ম জীবন শুরু করেন আলমগীর। পরে পদোন্নতি পেয়ে নাজির হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলমগীরের স্ত্রী নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার নাজমুন নাহার। এই দম্পতির দুর্নীতি, অনিয়ম আর ক্ষমতার অপব্যবহারের সহযোগী আলমগীরের বোন আফরোজা আক্তার ও বন্ধু বিজন ভৌমিকের বিরুদ্ধে গত ৬ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় দু’টি মামলা করে।

মামলায় বিজন ও আফরোজার ঠিকানা ফেনীর দাগনভূঞা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আলমগীরের গ্রামের বাড়িও ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার হীরাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল মান্নান। মামলার বাদী হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ।

এই দুই মামলায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর  আলমগীর ও তার সহযোগীদের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক বলে জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ৬ আগস্ট সকাল পৌনে ৯টার দিকে নোয়াখালীর মাইজদীর কৃষ্ণরামপুরের পল্লবী সরকারি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন আলমগীর। এ সময় তার কাছ থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে দুদক টিম। ওইদিনই বিকাল তিনটার দিকে সিনিয়র স্পেশাল জজ ছালেহ্ উদ্দিন আহমদের আদালতে হাজির করা হয় তাকে। শুনানি শেষে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারক।

দুর্নীতি ও অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পরও আলমগীর কীভাবে জামিন পেলেন, জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী আবুল কাশেম বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত চাইলে যে কাউকে জামিন দিতে পারেন।’ শুনানিতে আলমগীরের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন।

দুদক জানায়, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী আলমগীর তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের যে হিসাব দিয়েছেন, সেখানে গ্রামে তার ও তার স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদের উল্লেখ ছিল না। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন আলমগীর। নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এমনকি চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচায়ও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

আলমগীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

১. আলমগীর, তার স্ত্রী, বোন ও বন্ধুর ভোগদখলে আছে ৭ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ৬২৫ টাকার অবৈধ সম্পদ।

২. আলমগীরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ঐশী ট্রেডার্স। কোনও সরকারি কর্মচারী নিজের পরিচয় গোপন করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। তারপরও ব্যবসা করেছেন তিনি।

৩. আলমগীরের বিরুদ্ধে ব্যবসার আড়ালে ২০১০ সাল থেকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৭ কোটি ৮২ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৬ টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

৪. ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউসিবিএল, ডাচ বাংলা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকে হিসাব আছে তার।

৫. আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজের নাম ভাঙিয়ে ২০০৭ সালে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬০ জনকে চাকরি দেওয়ার নামে জনপ্রতি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য করেন আলমগীর।

৬. সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিভিন্ন মামলায় দালালি ও অনিয়ম করেন তিনি।

৭. ২০০৭ সালে স্ত্রীকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের অফিস সহকারী ও ভাইকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্টেনোগ্রাফার পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।

৮. কর্মস্থল নোয়াখালী হলেও ফেনীতে নিজ এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমবায় সমিতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন আলমগীর।

৯. সরকারি চাকরি করেও মাতু ভূঞা করিম উল্ল্যা উচ্চ বিদ্যালয় ও মাতু ভূঞা ভাষা শহীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তিনি।

১০. দাগনভূঞা বন্ধুর বন্ধন বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আলমগীর।

১১. তার বিরুদ্ধে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের সই ও স্মারক জাল করার প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

১২. তিনি   অবৈধ টাকায় নোয়াখালী পৌরসভার ৯৫ নম্বর কৃষ্ণরামপুর মৌজার মাইজদী আবাসিক এলাকার দক্ষিণে ও দীঘির পশ্চিম পাশে স্থানীয় সফিউল আলমের স্ত্রী রোকসানা বেগমের কাছ থেকে দোতালা ভবনসহ আড়াই শতাংশ জমি কিনেছেন। দুই কোটির টাকারও বেশি দামের এই সম্পদ দলিল করার সময় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

১৩. তিনি রিনারায়ণপুর মৌজায় ৭ শতাংশ (২৩২ নম্বর প্লট) জমি কিনেছেন ৬৩ লাখ টাকায়।

১৪. কাদির হানিফ ইউনিয়নের সুজাপুর মৌজায় তার আছে ১৫ শতাংশ জমি।

১৫. আইয়ুবপুর মৌজায় তার ২০ শতাংশ জমি (৩২৩, ৩৪১ ও ৩৪৩ নম্বর প্লট)আছে, যার দাম ৬০ লাখ টাকা।

১৬. তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পশ্চিম পাশে বলয় সেন নামে একজনের কাছ থেকে দুই কোটি টাকায় এক একর ২০ শতাংশ জমি কিনেছেন।

১৭. জেলা কারাগার এলাকায় তার আছে আরও  ২৩ শতাংশ জমি।

১৮. একটি প্রাইভেট কারেরও মালিক আলমগীর।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ আলমগীর এবং তার স্ত্রী নাজমুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এনইউ / ১২ আগস্ট

নোয়াখালী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে