Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১১-২০১৯

এক মেয়রে ফিরবে ঢাকা?

এক মেয়রে ফিরবে ঢাকা?

ঢাকা, ১১ আগস্ট -  ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দ্বিখণ্ডিত করে উত্তর-দক্ষিণ করা এবং দুই মেয়রের নেতৃত্বে সিটি কর্পোরেশন পরিচালনার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত একাধিক পরামর্শকদের পর্যালোচনা এবং মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই মেয়র তত্ত্ব অচল। বরং এক মেয়রের অধীনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে পরিচালিত করে কাউন্সিলরদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং কাউন্সিলরদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার মধ্য দিয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়।

উল্লেখ্য যে, ২০১১ এর ডিসেম্বরে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ভেঙে দুটি সিটি কর্পোরেশনে পরিণত করা হয়েছিল। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ একক মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল ২০০২ সালে। সেই মেয়র নির্বাচনে সাদেক হোসেন খোকা প্রায় বিনাভোটেই মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেও দুইবছর মেয়রপদে খোকা অধিষ্ঠিত ছিলেন কোনো নির্বাচন ছাড়াই। এরপরে আওয়ামী লীগ সরকার দুই মেয়রের তত্ত্ব নিয়ে আসে। ঢাকার উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখা, কাজের সুবিধার জন্য দুই মেয়রের নেতৃত্বে সিটি কর্পোরেশন পরিচালনার উদ্যোগ নেয়। এ সংক্রান্ত একটি বিল ২০১১ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদে পাশ হয়। এই বিল পাশের পর মামলা এবং বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। ২০১৫ এর এপ্রিলে এসে প্রথমবারের মতো দুই সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে উত্তর থেকে আনিসুল হক এবং দক্ষিণ থেকে সাইদ খোকন নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০১৫ সালে দুই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নবযাত্রার পর প্রথমদিকে ভালোই চলছিল। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী কর্মপরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন নগরবাসীকে আশান্বিত করেছিল। কিন্তু আনিসুল হকের অকাল মৃত্যুর পর ঢাকার দুটি সিটি কর্পোরেশনই প্রায় উদ্ভাবনহীন, গতানুগতিক এবং অক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বরং বিভিন্ন বিষয়ে জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন বিষয়ে শুধুমাত্র দোষারোপের রাজনীতি করে দুই সিটি কর্পোরেশন ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপানোর যারপরনাই চেষ্টা করেছে।

কিন্তু সাধারণ মানুষ এই সমস্ত অজুহাতে আশ্বস্ত হতে পারেনি। তারা মনে করছে যে সিটি কর্পোরেশন তার অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুই সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবতা এবং দুই সিটি কর্পোরেশন কতোটা কার্যকর, সে ব্যাপারে একাধিক গবেষণা পরিচালনা করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে। এরকম একাধিক গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে দুই সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্ব ঢাকার বাস্তবতায় যৌক্তিক নয়। বরং একটা সিটি কর্পোরেশন রেখে সিটি কর্পোরেশনের যে ওয়ার্ডগুলো রয়েছে সেই ওয়ার্ডে নির্বাচিত কমিশনারদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করলে ঢাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

পাশাপাশি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ‘সিটি গভর্নেস’ করারও পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত পরামর্শক পর্যালোচনার মূল্যায়ন প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে যে দুটি সিটি কর্পোরেশন থাকার কারণে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে, কাজের অসামঞ্জস্যতা তৈরি হচ্ছে, অনেকগুলো কাজেরই সমন্বয় সাধন করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। তারা উদাহরণ দিয়েই বলেছেন যে, যেমন কাওরান বাজারের মধ্যবর্তী সড়কটিই দুই সিটি কর্পোরেশনকে বিভক্ত করেছে। অথচ এই কাওরান বাজার এবং হাতিরঝিল এলাকার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। এরকম তারা উদাহরণ দিয়ে আরও অন্তত ১০টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে যেখানে সিটি কর্পোরেশনের বিভক্তির ফলে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, ২০১১ সালে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আওয়ামী লীগ সিটি কর্পোরেশনকে দ্বিখণ্ডিত করেছিল। এর ভেতরে উন্নয়ন ভাবনার যে আওয়াজটা ছিল তা আদতে ছিল একটি রাজনৈতিক স্লোগান। কারণ সেসময় সিটি নির্বাচনে সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। আর সেসময় আওয়ামী লীগে সার্বজনীন একজন নেতার অভাব ছিল যিনি সিটি কর্পোরেশনের একক দায়িত্ব নিতে পারবেন। এই প্রেক্ষিতেই এসেছিল বিভক্তির চিন্তা বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র দাবি করেছে। কিন্তু এখন বাস্তবতা ভিন্ন হয়ে গেছে। তাছাড়া গত ৮ বছরে দেখা গেছে যে সিটি কর্পোরেশনের কাজে গতিশীলতা আনার জন্য একজন ভালো নেতার কোনো বিকল্প নেই যিনি পুরো ঢাকাকে এগিয়ে নিতে পারবেন। এরকম বিবেচনা থেকেই আবার এক মেয়রের পথে আওয়ামী লীগ সরকার হাঁটবে কিনা তা নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা বলেছেন, এটি শুধুমাত্র একটি গবেষণা রিপোর্ট। এই রিপোর্ট গ্রহণ করা না করা সরকারের এখতিয়ার। তবে সরকারের মধ্যে ইতিমধ্যেই নানারকম কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে যে একক মেয়রের কর্তৃত্বে ঢাকাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। তাহলে ঢাকার উন্নয়নগুলো সমন্বিত হবে, অপরিকল্পিত এবং বিচ্ছিন্নভাবে যে কাজগুলো হচ্ছে সেগুলো বন্ধ হবে। ঢাকাকে একক সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নিয়ে আসার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো একক নেতৃত্ব। এরকম কি একজন নেতা পাওয়া যাবে যিনি এককভাবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে চালাতে পারবে?

এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সামনে এখন বেশকিছু বিকল্প আছে বলে দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। জাহাঙ্গীর কবির নানকের কথা ভাবা হচ্ছে, আসছে সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম, এমনকি ফজলে নূর তাপসের কথাও একক মেয়র হিসেবে ভাবা হচ্ছে। এরা সবাই দলের ডাকসাইটে নেতা। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতাই মেয়র হতে চান। তবে দ্বিখণ্ডিত ঢাকার মেয়র হতে রাজি নন কেউই। ঢাকাকে বাসযোগ্য, উন্নত এবং আধুনিক একটি শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একজন ভালো নেতার কোনো বিকল্প নেই। এই উপলব্ধি গত ৮ বছরে আওয়ামী লীগের হয়েছে। বিশেষ করে আনিসুল হক যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারপর থেকে বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে একজন ভালো মেয়র ঢাকা শহরকে বদলে দিতে পারে। সেই বিবেচনা থেকে আওয়ামী লীগ হয়তো এই গবেষণা, পর্যালোচনাগুলোর আলোকে ঢাকাকে আবার একক মেয়রের যুগে ফিরিয়ে নিতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে প্রধান বিবেচনা হবে যে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য এবং সার্বজনীন নেতা খুঁজে পাওয়া। যদি এরকম নেতা খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে একক মেয়রের নেতৃত্বে ঢাকাকে ফিরিয়ে নেওয়া অবাস্তব চিন্তা নয়।

সূত্র : বাংলা ইনসাইডার
এন এইচ, ১১ আগস্ট.

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে