Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ২ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৯-২০১৯

আ’লীগে গেলে যদি রেল কাম সড়ক সেতু হয় আমি রাজি

আ’লীগে গেলে যদি রেল কাম সড়ক সেতু হয় আমি রাজি

চট্টগ্রাম, ০৯ আগস্ট - ডিসেম্বরের মধ্যে কর্ণফুলীর কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণের পরিণতি না দেখলে আসসালামু আলাইকুম বলে সংসদ থেকে বেরিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল।

জীবন সায়াহ্নে এসে আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও যদি জীবদ্দশায় সেতুটি হয় তবে দল বদলেও রাজি বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম ক্লাবে কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণের দাবিতে চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, কালুরঘাট সেতুর ৭১-৭৯ জায়গায় কর্ণফুলী দেখা যায়। আড়াই মাইল গতিতে ফার্নেস অয়েলবাহী ও কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন যায়। ৫০ হাজার লোক এ সেতু দিয়ে হেঁটে পার হন। ২-৩ ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। তারা অপেক্ষাকালীন মানুষ আমার মৃত মাকে গালি দেন। এর থেকে মুক্তি চাই।

এ সেতু নিয়ে চারবার সমীক্ষা হয়েছে। কোরিয়ান কোম্পানি চূড়ান্ত সমীক্ষা করেছে। রেলওয়ের ধারণা, ৮০০ কোটি টাকা লাগবে। কোরিয়ানরা বলেছিল ১২০০ কোটি টাকা লাগবে। তারা ৮০০ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়। সরকারকে দিতে হবে ৩৭৯ কোটি।

এটি সবচেয়ে বড় সামরিক প্রয়োজনীয়তা মেটাবে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ হাবকে সংযুক্ত করবে। কক্সবাজারে ঝিনুক মার্কা আন্তর্জাতিকমানের রেল স্টেশন করা হচ্ছে। আমি এর বিপক্ষে নই। যদি কালুরঘাট সেতু না হয় তাহলে ঝিনুক ভেঙে মুক্তা বেরিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ফ্লাইওভার করছেন সবার বাধা উপেক্ষা করে। চট্টগ্রাম পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য যেখানে ফ্লাইওভারের নিচেও পানি, উপরেও পানি।

গবেষণা বলছে, ৪১ বছর পর চট্টগ্রাম পানির নিচে ডুবে যাবে। এর নমুনা এখন দেখছি। চট্টগ্রাম-৮ আসনের শহরাঞ্চলে জোয়ারের পানি ঢুকে। জোয়ার কবে আসবে জেনে বিমানবন্দরে যেতে হবে।

বঞ্চনার কথা তুলে ধরে মইন উদ্দিন খান বলেন, ঢাকা দুইভাগ হওয়ার পর চট্টগ্রাম সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন। এ মেয়রের মন্ত্রীর স্ট্যাটাস দেওয়া হলো না কেন?

দায়দায়িত্ব মাথায় রেখে বলতে চাই, ১০ বছরে বহুবার বলেছি, চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিনিয়োগে মাথায় রাখতে হবে প্রায়োরিটি ও কস্ট বেনিফিট। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জন্য কর্ণফুলী, শঙ্খ, মাতামুহুরী, বাঁকখালীতে সেতু লাগবে।

জলাবদ্ধতার সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রতিষ্ঠানকে দিলেন না কেন?

চট্টগ্রাম খুবই স্পর্শকাতর এলাকা। এটিকে কুড়িগ্রাম ভাবলে হবে না। কালুরঘাট সেতু থেকে ৩৯ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী টানেল। রেল তো টানেল দিয়ে যাবে না। কালুরঘাট সেতু দিয়ে কক্সবাজারে রেল যাবে। আমাদের দাবি রেল কাম সড়ক সেতু করা হোক।

পায়রা বন্দরে গভীর সমুদ্রবন্দর ধারণা সঠিক নয় উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রামে বে টার্মিনাল হলে দেশের ৩০ বছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মহিউদ্দিন চৌধুরী সন্দ্বীপ চ্যানেলে বন্দর করার কথা বহু আগে বলেছিলেন।

রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়ার শুরুতে বিরোধিতা করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের মধ্যে সেফ জোন করতে হবে। কসবো, গাজার মতো সেফ জোন করতে হবে। কাফফারা দিতে হচ্ছে চট্টগ্রামের মানুষকে। রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে। ভৌগোলিক মানচিত্র, সংস্কৃতি পরিবর্তন করে ফেলছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিনিয়র সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, ফারুক ইকবাল, হাসান আকবর, মুস্তফা নঈম, কামাল পারভেজ, শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, অনিন্দ্য টিটো প্রমুখ।

আলী আব্বাস বলেন, কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু হবে। চট্টগ্রামের সব সংসদ সদস্য ও মেয়রকে নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা করেন। আপনি পারবেন। আপনি বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের শ্রেষ্ঠ পার্লামেন্টারিয়ান। যে নেত্রী আপনাকে সম্মান দিয়েছেন, তিনি সেতুও দেবেন।

সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
এন এইচ, ০৯ আগস্ট.

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে