Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৪ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৮-২০১৯

ডাক্তার-নার্সের বয়ানে নুসরাতের যন্ত্রণাদগ্ধ দিনগুলো!

ডাক্তার-নার্সের বয়ানে নুসরাতের যন্ত্রণাদগ্ধ দিনগুলো!

ফেনী, ০৮ আগস্ট- মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় চিকিৎসক-নার্সসহ আরও চারজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার পর তাদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

এদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ, বার্ন ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ডা. ওবায়দুল ইসলাম ও ডা. একেএম মনিরুজ্জামান এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্চনা পাল আদালতে সাক্ষ্য দেন।

ফেনী জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি হাফেজ আহাম্মদ জানান, আলোচিত এই হত্যা মামলায় এ নিয়ে মোট ৯২ সাক্ষীর মধ্যে আদালতে ৮৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হলো।

সাক্ষ্য শেষে বিচারক আগামী ১৮ আগস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওইদিন চট্টগ্রাম সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ও হস্তলিপি বিশেষজ্ঞ মো. শামছুল আলমের সাক্ষ্য নেয়ার কথা রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, গত ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যু হয়। পরদিন পুলিশ কনস্টেবল রমজান আলী মরদেহ আনলে, তার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। এ সময় একই বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।

সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকালে কি পেয়েছেন, তার বিস্তারিত তিনি আদালতকে জানান।

এদিন আরেক সাক্ষী ডা. ওবায়দুল ইসলাম আদালতকে বলেন, ‘গত ৬ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডা. একেএম মনিরুজ্জামান ও সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্চনা পালের সামনে নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুকালীন জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। মৃত্যুর আগে জবানবন্দিতে নুসরাত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনার বিভিন্ন অংশ বর্ণনা করেন। জবানবন্দি লেখা হলে আমি তা পড়ে শোনাই। তখন তার স্বাক্ষর করার মতো অবস্থা ছিল না বলে টিপসই নেয়া হয়।’

নুসরাতের লিখিত জবানবন্দিতে তিনজনেরই স্বাক্ষর আছে বলে আদালতকে জানান তিনি।

ডা. একেএম মনিরুজ্জামান ও সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্চনা পাল আদালতে একই বক্তব্য উপস্থাপন করায় ডা. ওবায়দুল ইসলামের সাক্ষ্যটি তাদেরও সাক্ষ্য বলে আদালত গ্রহণ করেন।

আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এরপর এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন সেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন পর ঢামেকে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

ইতোমধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

এ মামলায় গ্রেফতারের পর অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সূত্র: পরিবর্তন 
এনইউ / ০৮ আগস্ট

ফেনী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে