Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৭-২০১৯

কালুখালী থানায় যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

কালুখালী থানায় যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

রাজবাড়ী, ০৭ আগস্ট- রাজবাড়ীর কালুখালী থানায় শাহীন বিশ্বাস নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) লাবীব আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। শাহীন কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের ফয়জুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। ঘটনার পর তিনি সদর হাসপাতালে পাঁচদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় ফয়জুদ্দিন বিশ্বাস গত ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে শাহীনের বাবা ফয়জুদ্দিন বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে তিন বছর ধরে গাজীপুরে রঙমিস্ত্রির কাজ করে। বছরখানেক আগে প্রেম করে ঢাকার একটি মেয়েকে বিয়ে করে বাড়িতে এনে ঘর-সংসার শুরু করে। মেয়েটির বাবা একাধিকবার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার বাড়িতে আসেন। কিন্তু মেয়ে যেতে চায়নি। গত ৩০ জুলাই দুপুর ১টার দিকে কালুখালী থানার এসআই সহিদসহ পুলিশের তিন সদস্য তার বাড়িতে গিয়ে শাহীনের স্ত্রীকে পার্শ্ববর্তী মহেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে শাহীন ছুটে গেলে তাকে কালুখালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি খবর পাওয়ার পর স্থানীয় একজন মাতব্বরসহ চার-পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান। তখন থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, এএসপি লাবীব আব্দুল্লাহ এলে শাহীনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। রাত ১০টার দিকে এএসপি থানায় আসার পর শাহীনের স্ত্রীকে তার বাবার সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মেয়ের বাবা কোনো মামলা বা জিডি করেননি। তারা চলে যাওয়ার পর এএসপি লাবীব থানার একটি কক্ষে শাহীনকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন। পেটাতে পেটাতে দুটি লাঠি ভেঙে ফেলেন। এতে শাহীন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফেরার পর আবারও পেটানো হয়।

শাহীনের বাবা অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, 'থানার পাশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে শাহীনের আর্তনাদে উপস্থিত আমরা সবাই কেঁদে ফেলি। প্রায় দুই ঘণ্টা মারপিট করে এএসপি থানা থেকে চলে যাওয়ার পর আমরা থানায় ঢুকি। তখন ওসি আমাদের বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে আগামীকাল (৩১ জুলাই) শাহীনকে থানা থেকে নিয়ে যেতে বলেন। ৩১ জুলাই সকালে আমরা থানায় গেলে থানার ওসি শহিদুল ইসলাম একটি সাদা কাগজে সই নিয়ে শাহীনকে ছেড়ে দেন। ওই দিনই শাহীনকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।'

এ বিষয়ে কালুখালী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমি একেকজনের কাছ থেকে একেক রকম শুনছি। তদন্ত করে করে দেখি। এর আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।'

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও কপি হাতে এসে পৌঁছেনি।

অভিযুক্ত এএসপি লাবীব আব্দুল্লাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমি কেন তাকে মারতে যাব? তার বিরুদ্ধে তো কোনো অভিযোগ নেই। আমার সঙ্গে শত্রুতাও নেই। মারতে চাইলে আমি তো একজন এসআইকে দিয়ে মারতে পারতাম।'

তবে ওই দিন রাতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। দুই পক্ষের মীমাংসায় মেয়েটিকে তার বাবার সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান এএসপি লাবীব।

সূত্র: সমকাল
এনইউ / ০৭ আগস্ট

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে