Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৪ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৭-২০১৯

এবার কি ৩৭১-এও কোপ? অশান্তির আশঙ্কা উত্তর–পূর্বে

এবার কি ৩৭১-এও কোপ? অশান্তির আশঙ্কা উত্তর–পূর্বে

ত্রিপুরা, ০৭ আগস্ট - ৩৭০-এর পর কি ৩৭১? আশঙ্কা বিজেপির জোট শরিক ত্রিপুরার আইপিএফটি-রও। তাই সোমবারই আইপিএফটি সভাপতি তথা বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের রাজস্বমন্ত্রী এনসি দেববর্মা দাবি তুলেছেন, কাশ্মীর নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখুক কেন্দ্র। তাঁর দল চিঠিও দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। আইপিএফটি-র সাধারণ সম্পাদক তথা ত্রিপুরার মন্ত্রী মেবারকুমার জমাতিয়া অবশ্য কাশ্মীর ভাগে খুব খুশি। তাঁর আশা, এবার মিলবে তাঁদের সাধের তুইপ্রাল্যান্ড। শুধু তুইপ্রাল্যান্ড কেন, নতুন দুটি কেন্দ্রশাসিত রাজ্য ঘোষিত হতেই ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ নিউ স্টেটস দাবি তুলেছে, গোর্খাল্যান্ড, বোড়োল্যান্ড, কুকিল্যান্ড, বুন্দেলখণ্ড, পূর্বাঞ্চল, বিদর্ভ, স্বশাসিত কার্বি আংলং প্রভৃতি পৃথক রাজ্যের দাবিকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যেই বোড়োল্যান্ডে পৃথক রাজ্যের দাবিতে শুরু হয়েছে ফের আন্দোলন।

জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারার মতো উত্তর– পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির পাশাপাশি ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ৩৭১ ধারা চালু রয়েছে। এক দেশ, এক আইনের প্রবক্তারা এবার কি সেই সুবিধেও বিলোপ করতে চলেছেন? এই আশঙ্কা থেকেই প্রাক্তন আমলা তথা ত্রিপুরার মন্ত্রী এনসি দেববর্মা সোমবার জানিয়েছেন, তাঁরা জোটের শরিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে কাশ্মীরে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার অনুরোধ জানাবেন। ত্রিপুরায় সিপিএমের উপজাতি সংগঠন গণমুক্তি পরিষদের নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ জিতেন চৌধুরিরও আশঙ্কা, উত্তর–পূর্ব ভারতে ফের অশান্তি ডেকে আনবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত। সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা উৎসাহিত হবেন বলেও তিনি মনে করেন। তাঁর আশঙ্কা যে অমূলক নয় সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন, অসমের জঙ্গি সংগঠন আলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেতিয়া। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত খুব খারাপ হবে। ৩৭১ ধারাও বিলোপ হলে উত্তর–পূর্বাঞ্চল হারাবে তার নিজস্বতা। আইডেনটিটি রক্ষার স্বার্থে ফের হাতে বন্দুক তুলে নিতে অনেকে উৎসাহিত হবে।’ আর এই আশঙ্কা থেকে অসমের বাঙালি অধ্যুষিত হাইলাকান্দি জেলায় সোমবার থেকেই জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। বাতিল করা হয়েছে সভা-সমিতিও।

রাজ্যসভাতে সোমবারই উঠেছিল পৃথক বোড়োল্যান্ডের দাবি। মঙ্গলবার দাবি উঠল, গোর্খাল্যান্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যকে টুকরো করার দাবি। অসমের বোড়ো এলাকায় বিভিন্ন সংগঠন ইতিমধ্যেই পথে নেমেছে নিজেদের দাবি আদায়ে। ত্রিপুরায় তুইপ্রাল্যান্ডের দাবি উঠে এসেছে ফের সামনের সারিতে। অসমের ভারতীয় গোর্খা পরিসঙ্ঘ সোচ্চার পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে। উত্তর–পূর্বাঞ্চলে ফের অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। তাঁর মতে, গোটা উত্তর–পূর্বাঞ্চল–সহ ভারতেই নেমে আসছে অন্ধকার দিন। ৩৭০ ধারা বিলোপকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি। অসমের বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়াও কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে ৩৭১ ধারা বিলোপের মতো ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্ত না নেওয়ার দাবি তুলেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবশ্য এদিন সংসদে জানিয়েছেন, ৩৭১ ধারা প্রত্যাহারের কোনও চিন্তা সরকারের নেই। উত্তর পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা অমূলক। কিন্তু কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারির দাবি সরকার উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষকে ভুল বার্তা দিচ্ছেন।  
   
৩৭১-এর এ থেকে জে অবধি বিভিন্ন ধারা  বলে উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সিকিম, অসম, নাগাল্যান্ড থেকে শুরু করে দক্ষিণের অরুণাচল প্রদেশ, গোয়া এমনকী, গুজরাটও বিশেষ সুবিধা ভোগ করছে। মূলত স্থানীয় জনজাতিদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এই বিশেষ অধিকার। এখন ‘এক দেশ, এক আইন’-এর সমর্থকদের হাতে সেই রক্ষাকবচের ভবিষ্যৎ প্রশ্নচিহ্নের সামনে। অথচ, ১৮৭৩ সাল থেকেই উত্তর–পূর্ব ভারতের বেশ কিছু অঞ্চল বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন বলে বিশেষ রক্ষাকবচ ভোগ করে আসছে। স্বাধীনতার পরও সেই রক্ষাকবচ ওঠেনি। তাই উত্তর–পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম বা নাগাল্যান্ডে যেতে গেলে ভারতীয় নাগরিকদেরও ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) লাগে। ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয় দিলেই শুধু হয় না, পয়সা খরচ করে জোগাড় করতে হয় আইএলপি। এমনকী, ভিনরাজ্য থেকে এইসব রাজ্যে চাকরি করতে আসা মুখ্য সচিব বা ডিজিপিরাও আইএলপি নিতে বাধ্য। চলতি মাসেই আইএলপি না থাকায় মিজোরামে ১,১৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মিজোরামে বিজেপির বন্ধু সরকার। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা লাল থানহাওলা কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন ৩৭০ বিলোপের। বিদেশি নাগরিকদের জন্য লাগে রেস্ট্রিক্টেট এরিয়া পারমিট (র‌্যাপ)। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এখন গেরুয়া–শিবির থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আইএলপি তুলে দেওয়ারও দাবি উঠতে শুরু করেছে।    


এন এইচ, ০৭ আগস্ট.

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে