Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২৯-২০১৩

যৌনক্ষুধায় নারী শিকার : ওরা ‘প্রফেশনাল’ শিকারী


	যৌনক্ষুধায় নারী শিকার : ওরা ‘প্রফেশনাল’ শিকারী

মৌলভীবাজার, ২৭ সেপ্টেম্বর- যৌনক্ষুধায় ক্ষুধার্থ দুই শিকারী ওরা। নারীদেহের ঘ্রাণ আর অবয়ব মুখস্ত করাই যেন ওদের সহজাত প্রবৃত্তি। যৌন আকাঙ্খায় ওরা এতটাই কাতর যে, খানিকটা নির্জনতা পেলে ওরা শিকার (নারী) এর ওপর হামলে পরে খোলা আকাশের নিচেও। হোক অল্প বয়েসী কিশোরী অথবা কলেজ পড়–য়া তরুণী দেহের বৈভব যারই আছে তারা টার্গেট করে তাকেই। সম্পর্কের আড়ালে চলে তাদের ব্ল্যাকমেইলিং। এ কাজে ওরা খুবই পরিপক্ক। দু’জনই ঘনিষ্ট বন্ধু। ছোটবেলা থেকে একে অন্যের জানাশোনা। অবিবাহিত এই দুই নারী শিকারীর লেখাপড়ার গন্ডি একজনের পাঠশালা (প্রাথমিক) তো অন্য জনের টেনেটুনে মাধ্যমিকে অকৃতকার্য। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তারা যতই অযোগ্য হোক না কেন, নারী শিকারের ব্যাপারে দুই বন্ধুই রীতিমত ‘প্রফেশনাল’। যৌন শিকারের নানা ছলা-কলা আর কৌশল তাদের নখদর্পনে। নানা বয়সী মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে যৌনতার তীব্র লালসা নিবারণ ও স্বর্বস্ব লুটে নেওয়াই মূল লক্ষ্য। একজনের আছে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের অভিজ্ঞতা আর অন্যজন এ কাজে ঘনিষ্ট সহযোগী। একজন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মেয়েদের নিয়ে আমোদে মাতে নানা ভঙ্গিমায় আর অন্যজন সেই ‘কূৎসিত’ দৃশ্যগুলো ক্যামেরায় ধারণ করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। চা ও রাবার বাগানের বিভিন্ন স্পটে খুবই গোপনীয়তায় চলে এমন দৃশ্য ধারণ। শ্যুটিং পর্ব শেষে ইন্টারনেট ও বন্ধুদের মোবাইল ফোনে তা ছড়িয়ে দিয়ে আরেক প্রস্থ বিকৃত আনন্দ লাভ করে তারা। বিকৃতরুচির এ দুই লম্পটের নাম লিটন মিয়া (২৮) ও ময়নুল ইসলাম (২৯)। বাড়ী; কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের ভূইগাঁও পাইকপাড়া গ্রামে।
গোমড় ফাঁস হয় যেভাবে : সম্প্রতি একই ইউনিয়নের একই পরিবারের দুই বোনের সাথে এই দুই লম্পট পুরোনো কৌশলে ‘গভীর প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে তোলে। পর্যায়ক্রমে তারা দু’বোনের সাথে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তোলে। সম্প্রতি লিটন ও ময়নুল ১ম বোনকে নানা কৌশলে নির্জন চা বাগানে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের অশ্লীল দৃশ্য ধারণ করে। পরদিন ওই দুই তরুণীর বাবার কাছে তারা মোটা অংকের টাকা দাবী করে। অন্যথায় ভিডিও ক্লিপটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হুমকি দেয়। যদিও এর আগেই ভিডিও ক্লিপটি তারা তাদের ঘনিষ্ট বন্ধুমহল ও পুরোনো গ্রাহকদের কাছে ব্লু-টুথের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে লোকমুখে এমন খবর পেয়ে লজ্জা ও ঘৃণায় ওই বোনদের ১ম জন আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলেও জানা গেছে। লম্পটদের অব্যাহত হুমকির প্রেক্ষিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অসহায় পিতা লোকলজ্জা ও মানসম্মানের ভয়ে থানার আশ্রয় নেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর মেয়ের পিতা কুলাউড়া থানায় ময়নুল ইসলাম (২৯) (পিতা এবাদুল্লাহ সালিম, গ্রাম ভূইগাঁও) ও লিটন মিয়া (২৮) (পিতা নুর বক্স ওরফে ফুল মিয়া, ভূইগাঁও পাইকপাড়া,) কে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৭/৯ (১) / ৩০ তৎসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং : ২৯। মামলা দায়েরের ঘটনা জানতে পেরে মামলার প্রধান আসামী ময়নুল ইসলাম পালিয়ে গেলে ২৫ সেপ্টেম্বর ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আটক করে। অন্যজন পালিয়ে যাওয়ার সময় নিজ এলাকায় কুলাউড়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়।
কুলাউড়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওরা দীর্ঘদিন থেকে এমন অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করে আসছে। একাধিক মেয়ের সর্বনাশ করলেও লোকলজ্জার ভয়ে তারা কেউ মুখ খোলেনি। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তারা দুজনই ছোটবেলা থেকে বখাটে প্রকৃতির। তারা নানা প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের গোপন অভিসারের অশ্লীল দৃশ্য ধারণ করে তা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাজারে ছেড়ে দিতো। এমনকি এলাকার অনেক পরিচিত মেয়ের মুখের ছবি কাটিং করে অন্যদের শরীরে লাগিয়ে পর্নো স্থির ছবি তৈরী করতো। আর সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অতি গোপনে এসব কাজ চলতো স্থানীয় পাইকপাড়া বাজারের লিটনের কম্পিউটারের দোকানে। আর একাজে উৎসাহ যোগাতো লিটনদের কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধু। তারপর তারা নির্দিষ্ট গ্রাহক উঠতি বয়সী তরুণ ও কিশোরদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে মোবাইলে আপলোড করে দিতো।
এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, কুলাউড়া সার্কেল আলমগীর হোসেন পিপিএম, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আব্দুর রহমান জানান, ওদের এমন বিকৃত রুচি দেখে যে কারো বিবেক স্থম্ভিত হবে। শিক্ষিত না হয়েও তারা যেভাবে দক্ষতার সাথে এ অপরাধগুলো সংঘটিত করেছে তা কোন সাইবার অপরাধীর চেয়ে কম নয়। এ দুই লম্পটের কাছ থেকে পুলিশ পর্ণোছবির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও অশ্লীল দৃশ্য সংবলিত মেমোরি কার্ড উদ্ধার করেছে। দুই বোনকে ব্ল্যাক মেইলিং করে অশ্লীল দৃশ্য ধারণ করা ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে একাধিক মেয়ের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

মৌলভীবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে