Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৫-২০১৯

আসামিদের না ধরা পর্যন্ত ছেলে কাটা হাত সঙ্গে রাখবেন বাবা

আসামিদের না ধরা পর্যন্ত ছেলে কাটা হাত সঙ্গে রাখবেন বাবা

রাজবাড়ী, ০৫ আগস্ট- মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে এক যুবকের হাত কেটে নিয়েছে স্থানীয় মাদক কারবারীরা। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বিচার চেয়ে ছেলের কাটা দুই হাত নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন বাবা। গেছেন পুলিশের কাছে। তিনি বলেছেন, যতদিন আসামিদের ধরা না হবে, ততদিন তিনি কাটা হাত তার কাছে রাখবেন এভাবে।

এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলে ভর্তি হাসপাতালে।

জানা গেছে, রোববার (৪ আগস্ট) রাজবাড়ীতে কেটে নেওয়া হয় ২৫ বছর বয়সী যুবক শাহিন খানের দুই হাত। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট বা পঙ্গু হাসপাতালে।

শাহিন খান রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের হাসেম খানের ছেলে। শোকাতুর হাসেম তার ছেলের দুই হাত পলিথিনের ব্যাগে করে সোমবার সকালে যান রাজবাড়ী সদর থানা এবং পরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে। সেখানে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে সান্তনা দিয়ে আশ্বাস দেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার।

হাসেম বলেন, ‘আমার ছেলেরে পঙ্গু কইরা দিছে আমি তার বিচার চাই। যতদিন বিচার না হবে, আমার ছেলের হাত আমি আমার কাছে এভাবেই রাখব’- বলতে বলতে চোখেন কোণে পানি চলে আসে বাবা হাসেম খান।

শাহিনের বাবার অভিযোগ, এলাকার এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের কর্মকাণ্ডে বাধা হয়েছিলেন তার ছেলে। অবৈধ কাজ করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয় তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকাল তিনটার দিকে শাহিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আধা কিলোমিটার দূরে কল্যাণপুর মহিলা মাদ্রাসার পাশে নিয়ে দুই হাতই কনুইয়ের উপর থেকে কেটে ফেলে। এসময় শাহীনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

ছেলেকে হাসপাতালে পাঠিয়ে সোমবার সকালে বাবা হাসেম খান যান থানায়। মামলা করেন পাঁচজনের বিরুদ্ধে। প্রধান অভিযুক্ত ইসমাইল ও শাহীনের বিরুদ্ধে থানায় মাদকের মামলা ছিল আগে থেকেই।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুলিশে চাকরি করেছি, আমরা অনেক নৃশংস ঘটনা দেখেছি। কিন্তু এই ধরনের অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি। বিষয়টি আমার কাছেও খুব খারাপ লেগেছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কল্যাণপুর গ্রামের শাহিন রারীকে সোমবার দুপুরে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ওই মামলার এজাহারভুক্ত তৃতীয় আসামি। তার দেখানো মতে শাহিনের হাত কাটায় ব্যবহত তিনটি চাপাতিও উদ্ধার হয়েছে।

সূত্র: গো নিউজ২৪
এনইউ / ০৫ আগস্ট

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে