Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৬ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৩-২০১৯

জেলা শিক্ষা অফিসারের এক চিঠিতে ২২ ভুল, নেট দুনিয়ায় তোলপাড়!

জেলা শিক্ষা অফিসারের এক চিঠিতে ২২ ভুল, নেট দুনিয়ায় তোলপাড়!

ঝিনাইদহ, ০৩ আগস্ট - ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে ইংরেজি পড়তে না পাড়ার দায়ে একজন সহকারী শিক্ষককে বরখাস্ত করার ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইংরেজি পড়তে পারেনি এ কারণে উক্ত বিষয়ের সহকারী শিক্ষককে বরখাস্ত করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার। তবে মজার ব্যাপার হলো- জেলা শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষরিত ওই বরখাস্তের চিঠিতেই রয়েছে অন্তত ২২টি ভুল।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের জানান, ছাত্রদের ভুলে শিক্ষক বরখাস্ত হলে জেলা শিক্ষা অফিসারের ভুলে কে বরখাস্ত হবেন?

সম্প্রতি এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ওই চিঠিতেই ২২টি ভুল থাকায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে, হচ্ছে সমালোচনা।

জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আকতারুজ্জামান। তিনি চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বইয়ের একটি চ্যাপ্টার থেকে রিডিং পড়তে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়তে পারেনি।

ব্যস, এ কারণে শিক্ষা অফিসার ওই শ্রেণিতে যিনি ইংরেজি পড়ান তাকে দায়ী করেন। তিনি জেলা শিক্ষা অফিসে ফিরেই সহকারী শিক্ষক নার্গিস সুলতানাকে বরখাস্ত করেন। ওই বরখাস্তের আদেশের অনুলিপি দেন মহাপরিচালক, বিভাগীয় উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও। বৃহস্পতিবার থেকেই আদেশ কার্যকর হয়।

কিন্তু জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আকতারুজ্জামান যে বরখাস্তের চিঠি দিয়েছেন তাতে রয়েছে ২২টি ভুল। যে ইংরেজি বই পড়তে না পারার কারণে শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর সেই ইংরেজি বানানেও ভুল করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার। chapter লিখতে গিয়ে লিখেছেন cahpter।

এছাড়া ‘শ্রেণি’ বানানের ক্ষেত্রে কোথাও লিখেছেন ‘শ্রেণি’, আবার কোথাও লিখেছেন ‘শ্রেণী’। অসদাচরণ বানান লিখতে গিয়ে ভুল করেছেন। এমন অন্তত ২২টি ভুল করেছেন তিনি। সরকারি চিঠিতে এমন ভুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। জেলা শিক্ষা অফিসারদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ক্ষুব্ধ অনেক শিক্ষক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আকতারুজ্জামান বলেন, ‘৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীও যদি রিডিং পড়তে পারত আমি ক্ষমা করতে পারতাম। একটি বাচ্চাও রিডিং পড়তে পারেনি। যার রোল নম্বর ২ সেও পারল না। যার রোল নম্বর ৩ সেও পারল না। শিক্ষকও রিডিং পড়তে গিয়ে দুটি শব্দ ভুল করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরও ভুল করেছে তাহলে আমার কী করণীয়? জাতি আর কত সময় দেবে। আমি বরখাস্ত করেছি। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভাগীয় মামলা রুজু করব।’

ভুল বানানের বিষয় শেখ মো. আকতারুজ্জামান বলেন, ‘আমার বয়স ৫০-এর বেশি। আমার চশমাটা কে বা কারা নিয়ে গেছে। মুখে বলে দিয়েছি প্রধান সহকারী লিখেছেন। চশমা না থাকার কারণে ঠিকমতো দেখতে পারিনি। খেয়ালও করিনি। সরল বিশ্বাসে সই করে দিয়েছি। বানান ভুল হয়ে গেছে। পরে যখন জেনেছি তখন আবার একই স্মারকে সংশোধন করে দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঞ্জুর কাদির বলেন, ‘ছাত্ররা ইংরেজি পড়তে পারে না এ কারণে শিক্ষককে বরখাস্ত করা ঠিক হয়নি। শিক্ষকের দক্ষতার অভাব থাকতে পারে। কিন্তু সেজন্য তাকে সময় দিতে হবে। জেলা শিক্ষা অফিসার যে ভুল করেছেন সেটাও তার অপরাধ এবং অদক্ষতা।’

মহাপরিচালক জানান, এ বিষয়টি দেখবেন তিনি।

সূত্র :  বিডি২৪লাইভ
এন এইচ, ০৩ আগস্ট.

ঝিনাইদহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে