Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০২-২০১৯

নরসিংদীতে পেট-বুক জোড়া লাগানো যমজ দুই শিশুর জন্ম

নরসিংদীতে পেট-বুক জোড়া লাগানো যমজ দুই শিশুর জন্ম

নরসিংদী, ০৩ আগস্ট- নরসিংদীতে পেট ও বুক জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। তবে দুই সন্তান জোড়া অবস্থায় জন্ম নেয়ায় আনন্দ রূপ নিয়েছে দুঃশ্চিন্তায়। মুখে হাসি থাকলেও কণ্ঠে বিষাদের সুর। মাথায় পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

সন্তান দুইটি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিপাকে পড়েছেন নবজাতকের পরিবার। চিকিৎসা ব্যয়ের কথা ভেবে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র এই পরিবার। তাই হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় নিয়ে শিশুদের পরিচর্চা করা হচ্ছে। যমজ ও জোড়া বাচ্চা জন্মের খবরে নবজাতকের বাড়ি ভিড় করছেন উৎসুক গ্রামবাসী।

সিভিল সার্জন বলছেন, শিশুটির সব অরগান যদি আলাদা আলাদা থাকে, তাহলেই দুইটি শিশুকেই বাঁচানো সম্ভব। তবে সেজন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

জানা গেছে, প্রায় ১ বছর আগে বেলাবো উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের আঙ্গুর মিয়ার ছেলে রাজমিস্ত্রি ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে নরসিংদী রায়পুর উপজেলার ডৌকারচর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের রিকশাচালক আবদুল হামিদ মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়।

বুধবার শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাদের কোল আলো করে জন্ম নেয় জোড়া লাগানো অবস্থায় ছেলে যমজ সন্তান। দুইটি শিশুর মাথা ও কাঁধের নিচে থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগানো। শিশু দুইটির নাক কান ও মুখসহ মাথা সম্পূর্ণ আলাদা।

তবে ৪টি হাত, ৪টি পা ও দুইটি মাথা আলাদা অবস্থায়। খাবারও খাচ্ছে আলাদা আলাদাভাবে। শনিবার শিশুদের নানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

চিকিৎসা ব্যায় ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশুগুলোকে রেখে দেয়া হতে পারে এই কথা ভেবে শিশুগুলোকে এখনো বাড়িতেই রাখা হচ্ছে।

নবজাতকের নানী নাসিমা বেগম বলেন, প্রতিদিনই নানা ধরনের লোকজন বাড়িতে আসছে। এখন আমরা ভয়ে আছি।

চিকিৎসা না করিয়ে বাসায় কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে যদি বাচ্চা দুইটিকে রেখে দেয়। সেই ভয়ে বাসায় রেখে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

নবজাতবের বাবা ইসমাইল মিয়া বলেন, আল্লাহ আমাকে যমজ দুইটি জট সন্তান দেয়ায় আমি খুশি। আমি তাতে নারাজ না। আল্লাহতায়ালা ভালো বুঝেই হয়তো পাঠিয়েছেন। তবে আমার যে আর্থিক অবস্থা তাতে এই সন্তানদের সুচিকিৎসা আমার জন্য বড়ই কঠিন। কারণ কোনো অর্থ সম্পদ নেই। শিশু দুইটিকে আলাদা করতে না পারলে খুব কষ্ট হবে। তাই দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই আমরা।

এদিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর খানিকটা অসুস্থ নবজাতকের মা মোসাম্মৎ সুমি আক্তার। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। একদিকে নিজের অসুস্থতা অন্যদিকে জোড়া লাগানো সন্তান। সবমিলিয়ে অনেকটা বিমর্ষ এ মা।

মা সুমী আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমার বাবা রিকশাচালক। স্বামী রাজমিস্ত্রি কাজ করেন। এই সন্তানদের আলাদা করতে যে খরচ তা আমাদের নেই। তাই কিভাবে তাদের বাঁচিয়ে রাখবো সে চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

রায়পুরা ডৌকারচর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ ফরাজি বলেন, পরিবারটা খুবই দরিদ্র। তাই আমরা খুব উদ্বিগ্ন। কীভাবে তাদের চিকিৎসা হবে? আমরা স্থানীয়ভাবে শিশু দুইটিকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছু সহায়তা করছি। সরকারিভাবে সহায়তা পেলে শিশুগুলোকে বাঁচানো সম্ভব।

নরসিংদী (ভারপ্রাপ্ত) সিভিল সার্জন ডা. আমিরুল হক শামীম বলেন, শিশু দুইটিকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদের আলাদা করা প্রয়োজন। শিশু দুইটির অরগান যদি আলাদা আলাদা থাকে, তাহলেই দুইটি শিশুকেই বাঁচানো সম্ভব। তবে সেজন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। তবে জাতীয় চিকিৎসায় অনেক খরচ। প্রয়োজনে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আর্থিক সহায়তা করা হবে।

সূত্র: যুগান্তর

আর/০৮:১৪/০৩ আগস্ট

নরসিংদী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে