Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০২-২০১৯

ধনীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলাই সুন্দরী শিরিনের পেশা!

মনজুরুল ইসলাম


ধনীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলাই সুন্দরী শিরিনের পেশা!

ময়মনসিংহ, ০৩ আগস্ট - ময়মনসিংহের ত্রিশালে ধনী ব্যক্তিদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়াই সুন্দরী শিরিনের পেশা বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

স্বামী পরিত্যক্তা নারী শিরিন উপজেলার বিয়ারা গ্রামের আ. ছালামের মেয়ে। শিরিনের বাবা বাজারে চা বিক্রি করে কোন রকম চলত। কিন্তু বর্তমানে শিরিনকে দিয়ে এ সব কাজ করিয়ে বাড়িতে বিল্ডিং এবং অনেক টাকার মালিক হয়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ত্রিশাল থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, এই শিরিন ধর্ষণের অভিযোগে তিন জনের নামে তিনটি মামলা করেছেন। তবে আমি যোগদানের পর কয়েক মাসের মধ্যে দুটি ধর্ষণের মামলা করেছেন শিরিন। আগের মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, একজন নারী বাদী হয়ে তিনজনের নামে ধর্ষণ মামলা করায় বিষয়টি আমার সন্দেহ হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি মামলা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য।

শিরিনকে এসব অপকর্মে পুলিশের এক এসআই সহযোগিতা করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, বালিপাড়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা এসআই হারুন অর রশীদকে সরিয়ে অন্য আরেক এসআইকে এই ইউনিয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এমনই একজন শিরিনের মিথ্যা ধর্ষণ মামলার শিকার একই উপজেলার আওলাদ হোসেন। সে ধলা নামাপাড়া গ্রামের মো. শামছুদ্দিনের ছেলে মো. আওলাদ হোসেন। সে পেশায় ব্যবসায়ী। বালিপাড়া বাজারে ফ্রিজ টিভির দোকান।

আওলাদ বলেন, শিরিন আমার দোকান থেকে একটি টিভি কিস্তিতে ক্রয় করে। তারপর থেকে সে আমার দোকানে প্রায়ই আসা যাওয়া করত। একদিন টিভির কিস্তির জন্য আমাকে তার বাড়িতে যেতে বলে। আমি তার বাড়িতে কিস্তির টাকার জন্য গেলে সে আমাকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে চিৎকার-চেচামেচি করে। তখন তার বাবা-মা এসে আমাকে আটকিয়ে আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে, তা না হলে আমার নামে মামলা করবে বলে হুমকি দেয়।

আওলাদ আরও বলেন, টাকা না দেয়ায় আমাকে পুলিশ দিয়ে আমার নামে ধর্ষণ মামলা করে। এখন আমি জামিনে আছি। এরপর সে আমার দোকানে ইয়াবা রেখেও ফাঁসানোর চেষ্ঠা করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এমনই মামলার শিকার উপজেলার ইছামতি গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. আসাদুল।

আসাদুলের বাবা মোফাজ্জল হোসেনে বলেন, আমার ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার ছেলেকে পুলিশে দিয়ে ধর্ষণ মামলা করে। পরে ৩ লাখ টাকা দিয়ে এই মামলা মীমাংসা হয়।

আরেক ভুক্তভোগী বালিপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের পুত্র বিল্লাল হোসেন। একই অভিযোগে তাকে থানা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়।

শিরিন খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে এক বছরে তিনটি ধর্ষণের মামলার কথা জানতে চাইলে তিনি কোন কথা না বলেই লাইন কেটে দেন।

উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মো. বাদল এক প্রত্যায়ন পত্রে শিরিনকে চরিত্রহীন দাবি করে বলেন, শিরিন একজন উশৃঙ্খল ও বেপর্দা নারী। এই মহিলা এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করছে বলেও ওই প্রত্যায়ন পত্রে উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, মামলা তো হয়েছে তিনজনের নামে। এমন আরও ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক সুন্দরী শিরিনের এই ফাঁদে পড়ে ফতুর হয়েছেন।

শিরিনের এ কাজের কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিরিন প্রথমে বিভিন্ন ধনী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ও তাদের সাথে বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে। এক সময় তাদেরকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে অবৈধ সম্পর্ক করে। তারপরই শুরু হয় নাটকীয়তা। মোটা অংকের টাকা দাবি করে। তা না হলে মামলা করার হুমকি দেয়। অনেকে মান-সম্মানের ভয়ে টাকা দিয়ে সমাধান করে ফেলে। কেউ টাকা না দিলে তার নামে হয় ধর্ষণ মামলা।

সুত্র : বিডি২৪লাইভ
এন এ/ ০৩ আগস্ট

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে