Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৮-০২-২০১৯

‘আগরতলায় রানওয়ে-র জন্য বাংলাদেশের জমিই লাগবে, বিষয়টা সে রকম নয়’

রঞ্জন বসু


‘আগরতলায় রানওয়ে-র জন্য বাংলাদেশের জমিই লাগবে, বিষয়টা সে রকম নয়’

আগরতলা, ০৩ আগস্ট - ত্রিপুরাতে আগরতলা বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে জমি চাইছে, এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর দিল্লি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গেছে। রাজধানীতে ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই প্রস্তাব দেওয়ার কথা সরাসরি স্বীকার করছেন না, আবার অস্বীকারও করছেন না।

ভারতে বিমানবন্দরগুলো যে কেন্দ্রীয় সংস্থার অধীনে, সেই এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে বাংলাদেশের জমি নিয়েই আগরতলার রানওয়ে সম্প্রসারণ করতে হবে, এই মর্মে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

আর ত্রিপুরা রাজ্যের পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী প্রাণজিৎ সিংহরায় এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়াতে গেলে জমি লাগবে এটা তো খুব সহজ কথা। কিন্তু সেই জমি বাংলাদেশের জমিই হতে হবে এমন তো নয়। টেকনিক্যাল পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে, কিন্তু এর জন্য বাংলাদেশের জমিই লাগবে এ রকম কোনও সিদ্ধান্ত আদৌ হয়নি।’

ত্রিপুরার ওই সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৫ আগস্ট (সোমবার) আগরতলা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে হয়তো এই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে।

যারাই আগরতলায় ত্রিপুরার প্রয়াত মহারাজা বীর বিক্রম মাণিক্যের নামাঙ্কিত বিমানবন্দরে নেমেছেন, তারা জানেন ওই বিমানবন্দরের রানওয়ের একটি প্রান্ত একেবারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে।

আগরতলা থেকে যখন প্লেন ওঠানামা করে, তখন জানালার পাশের সিটে বসার সুযোগ হলে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াও স্পষ্ট দেখা যায়। এমন কী টার্মিনাল ভবনের কোনও কোনও অংশ থেকেও সেটা চোখে পড়ে।

এখন সেই রানওয়ে যদি লম্বায় বাড়াতে হয়, তাহলে দুটোই রাস্তা। এক, ভারতের দিকে – যেদিকে আগরতলা শহর বিস্তৃত হতে শুরু করেছে। অথবা দুই, বাংলাদেশের দিকে – যেদিকে এখনও মূলত কৃষিক্ষেত রয়েছে।

এই পটভূমিতেই গত বছর থেকে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বাংলাদেশকে বাজিয়ে দেখা শুরু হয়, রানওয়ের জন্য সীমান্তের অন্য পাড়ে কয়েক একর জমি অধিগ্রহণ করে ভারতকে দেওয়া সম্ভব কি না।

ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বা বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ঢাকায় তাদের কাউন্টারপার্টদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি ‘ইনফর্মালি’ তুলেছিলেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে বিষয়টি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল, এই বিবেচনায় ভারত এই ব্যাপারে কোনও লিখিত প্রস্তাব বা অনুরোধ এখনও জানায়নি। বাংলাদেশের মনোভাব ইতিবাচক হলে তবেই এ ব্যাপারে এগোনো হবে, এমনটাই ছিল দিল্লির পরিকল্পনা।

এই পটভূমিতে এই প্রস্তাবের খবর বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় দিল্লি যথেষ্ঠ বিড়ম্বনায় পড়েছে।  বিশেষত আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সফরের ঠিক আগে এই খবর ভারতের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।

নাম প্রকাশ না-করার শর্তে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জানি বিষয়টি খুব সেন্সিটিভ। তবে শেষ পর্যন্ত যদি ভারতের পক্ষ থেকে অল্প পরিমাণ জমি চেয়ে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাহলে হয়তো আমাদের নিরাশ হতে হবে না।'

'প্রথম কথা হলো, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বাংলাদেশের একটা বিস্তীর্ণ অংশের মানুষজনও কিন্তু আগরতলা বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। ওই বিমানবন্দরের রানওয়ে লম্বা হলে বড় বিমান সেখানে নামতে পারবে, বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের মানুষও তখন সরাসরি দিল্লি-মুম্বাই আসতে পারবেন আগরতলা দিয়েই। কার্গো পরিবহনেও অনেক সুবিধে হবে, ফলে লাভ দুপক্ষেরই।'

'তা ছাড়া মনে রাখতে হবে, ঠিক চার বছর আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যখন ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছিল, তখন কলমের এক খোঁচায় ভারত কিন্তু ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দশ হাজার একর জমি ছেড়ে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি। ফলে আজ ভারত যদি মাত্র কয়েক একর জমি বিশেষ প্রয়োজনে চায়, বাংলাদেশ সেই অনুরোধ ফেরাবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস’, বলেন ওই কর্মকর্তা।

সুত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এ/ ০৩ আগস্ট

ত্রিপুরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে