Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৪ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৮-০২-২০১৯

যে জায়গার জন্য প্রাণ গেল সেখানেই দাফন

যে জায়গার জন্য প্রাণ গেল সেখানেই দাফন

ফেনী, ০২ আগস্ট- এক শতক জায়গা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে মামলা-মোকদ্দমা এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটেছে ফেনীর সোনাগাজীর জামাল উদ্দিনের। ওই জায়গাকে কেন্দ্র করেই বুধবার রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে মৃত্যু হয় তার। শুক্রবার ওই বিরোধপূর্ণ জায়গায়ই তাকে দাফন করা হয়েছে।

জামাল উদ্দিন (৫৫) সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিবেশী শাহ আলমের সঙ্গে বাড়ির পাশের এক শতক জায়গা নিয়ে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সমাজের পঞ্চায়েত ও ইউপি চেয়ারম্যান সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের অনেকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন। এ নিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলার পর পুলিশের মধ্যস্থতায় ওই জায়গা মেপে বণ্টনও করা হয়। কিন্তু দু'পক্ষের নেতিবাচক ভূমিকার কারণে তাতেও সমাধান হয়নি। জামাল উদ্দিন কিছুদিন আগে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করেন। তখন আদালত ওই ভূমি দখলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শাহ আলমের পরিবার জায়গাটি ব্যবহার শুরু করলে গত ২৪ জুলাই দু'পক্ষের মারামারি হয়। এ ঘটনায় জামালের পুত্রবধূ জাকিয়া আক্তার বাদী হয়ে শাহ আলমসহ ছয়জনের নামে মামলা করেন। এ মামলায় শাহ আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জাকিয়া আক্তার জানান, শাহ আলম গ্রেফতার হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। বুধবার রাতে তার চার ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা জামাল উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে জামাল ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই ছেলেকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। ওই সময় ঘর থেকে টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটও করে তারা। আহত জামাল উদ্দিনকে প্রথমে ফেনী আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

জাকিয়া আক্তার আরও জানান, মারা যাওয়ার পর বিরোধের জায়গায়ই দাফন করা হয়েছে জামাল উদ্দিনকে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আলমের স্ত্রী আজিমা আক্তারকে আটক করে পুলিশ। পরে শুক্রবার জাকিয়া আক্তার বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।

মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু জানান, জায়গা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আগের চেয়ারম্যান তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারেননি। তিনিও কয়েকবার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মইন উদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

সূত্র: সমকাল
এনইউ / ০২ আগস্ট

ফেনী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে