Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-৩১-২০১৯

উন্নয়নের আত্ম-অনুসন্ধান জরুরি

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান


উন্নয়নের আত্ম-অনুসন্ধান জরুরি

একটি সুষম উন্নয়ন কাঠামোতে অর্থনীতিক সুযোগ পাওয়ার যেসব প্রতিযোগিতা থাকে, তার দ্বারগুলো খোলা রাখা প্রয়োজন। চেষ্টা করলে যে কেউ যাতে সেগুলোতে ঢুকতে পারে। যেন রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি ব্যবস্থা আছে, আমার দক্ষতাও আছে; চেষ্টা করলে আমিও এখানে ঢুকতে পারব, কাজটি করতে পারব। কিন্তু এখন এটা কঠিন হয়ে গেছে, অর্থনৈতিক সুযোগগুলো কুক্ষিত হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা বলয়ের সঙ্গে ভালো সংযোগ থাকলেই অর্থনৈতিক সুযোগগুলোতে আমি সহজে ঢুকতে পারছি। ক্ষমতা বলয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নেই তো আমার অংশগ্রহণের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির যে বাস্তবতা, গত ১০-১৫ বছরে তার মারাত্মক পরিবর্তন ঘটছে। প্রতিযোগিতায় প্রতিবন্ধকতাই শুধু তৈরি হয়নি; অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নানা ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে। তৈরি হয়েছে স্বজনতোষী পুঁজিবাদ বা ক্রনিক ক্যাপিটালিজম। আমরা আসলে ক্রনিক ক্যাপিটালিজমের এক ধরনের মডেলে ঢুকে পড়ছি।

দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, স্বজনতোষী ব্যবস্থার মধ্য দিয়েও যারা ঠিকাদারি পাচ্ছে, তারাও পরিশ্রমের কাজটা করছে না। পরিশ্রমের কাজটা আরেকজনকে দিয়ে দিচ্ছে। লাভের সিংহভাগ লাইসেন্সধারী ঠিকাদার নিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ ক্ষমতার সঙ্গে যাদের সংযোগ আছে, সে সড়কের ঠিকাদারি পাচ্ছে। তার পছন্দমতো আরেকজন মূল কাজটি করছে। আমরা যে মধ্যস্বত্বভোগীদের কথা বলি, এরা হচ্ছে এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তারা দারুণ লাভ করছে আর আমাদের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করে চলেছে। 

অর্থনৈতিক সুশাসনও নাজুক অবস্থায়। যেমন ব্যাংকিং খাতের দিকে তাকালে অর্থনৈতিক সুশাসনের ঘাটতির তিনটা উপসর্গ খুবই দৃশ্যমান। প্রথমত, ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা বা দুর্নীতি; দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং খাত যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে ঋণখেলাপি বাড়ছে; তৃতীয়ত, সুযোগ-সুবিধা যতভাবে কুক্ষিগত করার উপায় রয়েছে, তার সবই এখন ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান। 

আমরা অদ্ভুতভাবে সাশ্রয়ী খরচের বদলে অপচয়মূলক খরচে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছি। মেগা বা অন্য প্রকল্পগুলোতে আমরা দেখব, এক কিলোমিটার রাস্তা বানাতে উন্নত বিশ্বের চেয়েও বেশি ব্যয় হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, আমাদের অনেক প্রকল্পে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ট্রেনিংয়ের নামে বরাদ্দ থাকে। একই ধরনের একাধিক প্রকল্পে ভিন্ন ভিন্ন কর্মকর্তাকে একই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অনেকে প্রশিক্ষণ নিলেও তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন না। অর্থাৎ সাশ্রয়ী নয়, বরং দুর্নীতিমূলক খরচের দিকে আমরা বেশি ঝুঁকে পড়েছি।

লেখক: অর্থনীতিবিদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

এমএ/ ১০:৩১/ ৩১ জুলাই

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে