Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-৩১-২০১৯

নিয়ম তোয়াক্কা না করে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে স্টাফ কেবিন

নিয়ম তোয়াক্কা না করে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে স্টাফ কেবিন

ব‌রিশাল, ৩১ জুলাই -  দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথগুলো ঘিরে একের পর এক বিলাসবহুল ও আধুনিক নৌযান (লঞ্চ) যুক্ত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী নৌ-পরিবহন বহরে।

যাত্রীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে লঞ্চের সংখ্যাও। তারপরও কেবিন সংকটে ভোগেন প্রায় সব নৌ-পথের যাত্রীরা।

বিশেষ করে বরিশাল-ঢাকা রুটে সাধারণ সময়ে ৪-৫ দিন আগে না চাইলে কেবনিই পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। আর বিভিন্ন উৎসব-পার্বন, ছুটিছাটা ঘিরে কেবিনের বিষয়টি হয়ে দাঁড়ায় ‘সোনার হরিণে’র মতো।

আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৎপর থাকে কালোবাজারিরা। তারা যেমন চড়াদামে কেবিন বিক্রি করেন, তেমনি আবার স্টাফরাও লঞ্চে তাদের থাকার জন্য তৈরি কেবিনগুলো বিক্রি করছেন যাত্রীদের কাছে। যদিও বিআইডব্লিউটিএ বলছে, স্টাফদের কেবিন যাত্রী বা ভোক্তা পর্যায়ে ভাড়া দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তবে স্টাফ কেবিন ভাড়া প্রতিরোধে কঠোর কোনো পদক্ষেপও নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার বরিশাল নদীবন্দরে ঢাকা থেকে আসা বিলাসবহুল যাত্রীবাহী লঞ্চ পারাবত-৭ এর স্টাফ কেবিন থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  তবে তার সঙ্গে ঢাকা থেকে আসা পুরুষসঙ্গী লাশ উদ্ধারের আগ থেকেই ছিল নিরুদ্দেশ।

২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন-৬ লঞ্চের মাস্টার (স্টাফ) কেবিন থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় (৩৫) এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আর চলতি বছরের গত ২০ জুলাই আবারও বরিশাল নদীবন্দরে ঢাকা থেকে আসা বিলাসবহুল যাত্রীবাহী সুরভী-৮ লঞ্চের ইঞ্জিনরুমের কাছের একটি স্টাফ কেবিন থেকে গার্মেন্টসকর্মী আঁখি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মরদেহটিও উদ্ধারের সময় ঢাকা থেকে তার সঙ্গে আসা যুবক ছিল নিরুদ্দেশ। পরে যদিও নিরুদ্ধেশ যুবককে গ্রেফতার করা হলে জানা যায়, আঁখি আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুলাই মাসের ঘটনাপ্রবাহ প্রায় কাছাকাছি। এতদিনে গল্পের চরিত্রের নাম বদলালেও ঘটনা প্রায় একই ধরনের।  এর মধ্যে কেটে গেছে অনেক দিন, বদলেছে অনেক প্রেক্ষাপট। বেড়েছে লঞ্চ, বেড়েছে স্টাফ কেবিনের সংখ্যাও। হিসাব বলছে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কেবিন ছাড়া স্টাফ কেবিনগুলোতেই ঘটছে চুরি, খুনসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। যদিও প্রতিটি ঘটনার পর লঞ্চ মালিক ও প্রশাসন কয়েকদিনের জন্য কড়াকড়ি আরোপ করে।

হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধ সংঘঠিত করে স্টাফ কেবিন থেকে সহজেই চলে যেতে পারে অপরাধীরা। তাই এদিকেই আগ্রহ রয়েছে মুখোশধারী যাত্রীদের। যারা মূলত অপরাধ সংগঠিত করার জন্যই লঞ্চে ওঠেন, কারণ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কেবিনগুলো যাত্রীদের কোনো না কোনো তথ্য বা কারো রেফারেন্স দিয়ে নিতে হয়। আর স্টাফ কেবিনগুলো ওইসব ঝামেলা ছাড়াই ভাড়া নেওয়া যায়। ভাড়াও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ কেবিনের থেকে কম পড়ে।

লঞ্চ মালিকরা বলছেন, সাধারণত লঞ্চের সিঙ্গেল, ডাবল, সেমি ভিআইপি কেবিনগুলো ভাড়া দেওয়ার সময় যাত্রীর পরিচয় নয়তো মোবাইল নম্বর রেখে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের আইডি কার্ডের ফটোকপি রাখা হতো। এতে কিন্তু অপরাধ করলেও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অথচ স্টাফ কেবিনে কিছু ঘটলে ক্লু খুঁজে পেতেই কষ্ট হয় পুলিশের।

লঞ্চ স্টাফরা বলছেন, ঠিকমতো বেতন-ভাতা ও বোনাস না দেওয়ায় পেট চালাতে গিয়ে হিমশিত খেতে হয় তাদের। তাই নিজের জন্য বরাদ্দ কেবিনটি ভাড়া দিতে হয় তাদের।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল অফিস জানায়, দুটি ঈদসার্ভিস ছাড়া বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে ১৭টি লঞ্চ চলাচল করে। এই ১৭টি লঞ্চের মধ্যে ১০টি লঞ্চের সার্ভে জরিপ বলছে ১৮০ জন স্টাফের জন্য নির্ধারিত কেবিন বরাদ্দ দেওয়া আছে। আর বাকি ১০ লঞ্চে মোট হিসাবে দুইশর মতো স্টাফ কেবিন রয়েছে। যেগুলোর বেশিরভাগই রাতের যাত্রায় ভাড়া দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নোঙর করা লঞ্চের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে স্টাফ কেবিন বিক্রির জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে যাত্রী ডাকেন প্রত্যেকটি লঞ্চের স্টাফ। এদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এ সিস্টেম। শুধু স্টাফ কেবিন নয়, চালনার কক্ষের বিভিন্ন স্থানে সিট পেতে বিভিন্ন দামে ভাড়া দিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বরিশাল নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শেখ আবুল হাশেম বলেন, স্টাফ কেবিন ভাড়া দেওয়া যাবে না এমন কোনো আইন নেই। বিষয়টি নিয়ে গত রোববার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি বলেছি, স্টাফদের বেতন-বোনাস ঠিকমতো পরিশোধ করুন। দেখবেন স্টাফ কেবিন ভাড়া দেবে না। তার মতে, সবাইকে বোঝতে হবে নিজের ঘুমানোর জায়গাটি মানুষ কখন অন্যের কাছে ছেড়ে দিয়ে রাত জাগে!

অপরদিকে নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, স্টাফ কেবিন যাত্রীদের কাছে ভাড়া দেওয়ার বিধান নেই। কেউ স্টাফ কেবিন ভাড়া দিলে তিনি আইন ভঙ্গ করছেন।

তিনি বলেন, লঞ্চ মালিক-স্টাফ ও যাত্রীদের সচেতন হওয়া উচিত। খুনের ঘটনা শুধু স্টাফ কেবিনেই হতে পারে তা কিন্তু নয়; অন্য কেবিনেও হতে পারে। তখন কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকে না। কারণ আপনি কার সঙ্গে চলছেন তাতো আপনি জানেন, কেবিনওয়ালা জানবেন না।


সূত্র :  বাংলাদেশ প্রতিদিন

এন এইচ, ৩১ জুলাই.

বরিশাল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে