Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ , ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২৯-২০১৯

জীব বৈচিত্র ও খাদ্য সংকট, কমছে বাঘের অস্তিত্ব

শিমুল বারী


জীব বৈচিত্র ও খাদ্য সংকট, কমছে বাঘের অস্তিত্ব

ঢাকা, ২৯ জুলাই - আজ সোমবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। এবারের বাঘ দিবসে বাংলাদেশের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘বাঘ বাঁচাই, বাঁচাই বন, রক্ষা করি সুন্দরবন’। তবে এবারের বাঘ দিবস ২৯ জুলাইয়ের পরিবর্তে বাংরাদেশে পালন করা হবে আগামী ৩১ জুলাই।

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় বেশি মনোযোগী সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে সুন্দরবনে দস্যুতা এবং শিকারিদের তৎপরতা কমেছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। এসব কারণে সুন্দরবনে আগের তুলনায় বাঘ অনেকটা সুরক্ষিত এবং বাঘের বিচরণ ক্ষেত্রও নিরাপদ হওয়ায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

বন্য প্রাণী সংরক্ষক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ মাহববুল আলম বলেন, জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারও বাঘ সংরক্ষণে আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। যে কারণে অতীতের চেয়ে বর্তমানে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্বে ৯ প্রজাতির বাঘ ছিল। বর্তমানে সেটা কমে ৫ প্রজাতিতে এসে ঠেকেছে। বর্তমানে যে পাঁচটি প্রজাতির বাঘ রয়েছে- চাইনিজ, রাশিয়ান, সাইবেরিয়ান, আফ্রিকান ও বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

বাংলাদেশের বাঘ মূলত অন্যান্য দেশের তুলনায় একটু রুগ্ন। কারণ তাদের খাদ্য সংগ্রহ করতে খুব বেগ পেতে হয়। তবে অন্যান্য অঞ্চলের বাঘের খাদ্য সংগ্রহ করতে তেমন বেগ পেতে হয় না। এসব কারণেই আমাদের দেশের বাঘ রুগ্ন এবং সংখ্যায় কম। তবে আশার কথা হলো সম্প্রতি শুমারিতে দেখা গেছে, এ বছর বাংলাদেশে ৮টি বাঘ বেড়েছে। আশা করি টাইগার সেফটি জোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে সর্বশেষ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যেই সুন্দরবনে বাঘের ক্যারিং ক্যাপাসিটির পরিমিত সংখ্যায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনে তৃতীয় দফায় ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে বাঘ গণনা বা পরীক্ষণ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। সুন্দরবনের খুলনা ও শরণখোলা রেঞ্জের দুটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ৪৭৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় করা হয় এই মনিটরিং। ২৩৯টি পয়েন্টে গাছ বা খুঁটির সঙ্গে ৬৭০টি ক্যামেরা বসিয়ে এ বাঘ মনিটরিং করা হয়। এর আগে প্রথম দফায় ২০১৩ সালে সুন্দরবনের ২৬ শতাংশ এলাকায় ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে বাঘ শুমারি হয়েছিল। ওই সময় বাঘের উপস্থিতি বেশি এমন এলাকা বেছে নেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ করা হয়। ২০১৫ সালের মার্চে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি। এর আগে ২০০৪ সালের এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ৪৪০টি। এর মধ্যে পুরুষ ১২১টি, স্ত্রী ২৯৮টি এবং বাচ্চা রয়েছে ২১টি। তবে সর্বশেষ সুন্দবনের বাঘের সংখ্যা, অবস্থান ও গতিপ্রকৃতি জানতে আবারও মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করে বন বিভাগ। তবে দিন দিন বাঘের সংখ্যা সুন্দরবনের বাংলাদেশ অঞ্চলে কমছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের বাঘশুমারিতে ১০৬টি বাঘ থাকার কথা বলা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টি। সে হিসেবে ৪ বছরে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ৮টি।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ

এন এইচ, ২৯ জুলাই.

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে