Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৫-২০১১

বন সম্মেলনে আফগানিস্তানকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আহ্বান

বন সম্মেলনে আফগানিস্তানকে
দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আহ্বান
বন, ৬ ডিসেম্বর: বন শহরে আন্তর্জাতিক আফগানিস্তান সম্মেলনে তার দেশকে দীর্ঘমেয়াদি সাহায্যের আহ্বান জানালেন আফগান প্রেসিডেন্ট কারজাই৷ আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতেই এই সম্মেলন৷ পাকিস্তান এই সম্মেলন বর্জন করেছে৷
২০১৪ সাল নাগাদ আফগানিস্তান ত্যাগ করবে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আইসাফ বাহিনীর সেনারা৷ এই লক্ষ্যে আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব ধীরে ধীরে তুলে দেয়া হচ্ছে আফগানদের হাতে৷ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে আফগান বাহিনী কী সেদেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সক্ষম হবে? বিশেষ করে একটি বড় নিরাপত্তা বাহিনীর খরচ মেটানোর মত অর্থ কি আফগান সরকারের রয়েছে? কেননা, শুধু নিরাপত্তা নয় আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে প্রয়োজন সেবা খাতে বিনিয়োগ, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ, চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগ, আর পরিকাঠামোগত পুনর্গঠন তো রয়েছেই৷ পর্যাপ্ত বিদেশী সাহায্য ছাড়া এতসব খাত সামলানো আফগান সরকারের পক্ষে অসম্ভব৷
হামিদ কারজাই বলেছেন, ২০১৪ সালে নেটো নেতৃত্বাধীন যুদ্ধরত সৈন্যরা সেদেশ ছেড়ে চলে যাবার পরও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত থাকাটা খুবই জরুরি।
হামিদ কারজাই বলেন, ?গত দশ বছরে অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট উন্নতি হয়েছে। কিন্তু স্থিতিশীল, স্বনির্ভর এবং গণতান্ত্রিক আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন এখনো বহু দুরে। এ পথে বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সেগুলো আমাদের অগ্রগতিকে লাইনচ্যুত করার ও অর্জনগুলোকে উল্টে দেবার ক্ষমতা রাখে।?
তিনি বলেন, ?তালেবানের নিরাপদ আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে।?
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আশ্বাস দিয়েছেন যে স্থিতিশীলতার পথে আফগানিস্তানের উত্তরণের জন্য মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি বলেন, ?এ জন্য আফগানিস্তানকে তার অঙ্গীকারগুলো পুরণ করতে হবে, সংস্কার করতে হবে, নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে।?
হিলারি ক্লিনটন ঘোষণা করেন যে আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের কাজে অর্থ ছাড় করা আবার শুরুর কাজে তারা অন্য সহযোগীদের সাথে যোগ দিচ্ছেন, যাতে এ সম্পদকে কাজে লাগানো যায়।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইডো ভেস্টারভেলও বলেন, ?এ সম্মেলনের বার্তা স্পষ্ট। আফগানিস্তানের জনগণকে কেউ ত্যাগ করবে না বা পেছনে ফেলে চলে যাবে না।? তিনি বলেন, ?আফগান সংকটের সামরিক পন্থায় সমাধান হবে না- সমাধান হতে হবে রাজনৈতিক।?
ভেস্টারভেল বলেন, ?আফগানিস্তান এবং এর জনগণের যা প্রয়োজন তা হলো - ২০১৪ সালেল পর কিভাবে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা হবে সে ব্যাপারে একটা স্পষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি এবং নির্ভরযোগ্য অঙ্গীকার করা।? তিনি বলেন, ?আফগানিস্তানে স্থায়ী শান্তির জন্য মৈত্রী পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক ভাবে সমর্থন দেয়া অব্যাহত রাখতে হবে।?
ব্রিটেনে আফগানিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদুত আহমেদ ওয়ালি মাসুদ - যিনি প্রথম বন সম্মেলনে ছিলেন- সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ?আফগানিস্তানে বিছু উন্নতি অবশ্যই হয়েছে - শিক্ষা, নারীর অধিকার, মানবাধিকার, সংবাদমাধ্যম এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে। কিন্তু হাজার হাজার লোকের মৃত্যু আর কোটি কোটি ডলারের অপচয়ের সাথে তুলনা করলে বলতে হবে - অর্জিত হয়েছে খুবই সামান্য।?
তিনি বলেন, ?এর আগে আফগানিস্তান নিয়ে যত সম্মেলন হয়েছে , এবারেরটি তার চাইতে আলাদা কিছু হবে বলে আমার মনে হয় না, একে ঘিরে প্রত্যাশাও হয়তো পুরণ হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবচাইতে বড় ভুল ছিল কারজাইয়ের নেতৃত্বাধীন দলকে রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য নিয়ে আসা। আজ আমরা দেখছি যে এ সরকার একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে।?
এ সম্মেলনে যেটা একটা বড় চোখে পড়ার মতো বিষয়, তা হলো পাকিস্তানের অনুপস্থিতি। কিছুদিন আগে ন্যাটোর বিমান হামলায় পাকিস্তানের ২৪ জন সৈন্য নিহত হওয়ার প্রতিবাদে তারা এ সম্মলন বয়কট করছে।
তবে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান মোসাজাই বলেন, পাকিস্তানের উপস্থিতি ছাড়াও এ সম্মেলন সফল হতে পারে। তবে তালেবানের কাছে পৌঁছাতে হলে পাকিস্তানের সাহায্য দরকার, আর শান্তি প্রক্রিয়ায় তালেবানকে নিয়ে আসার চেষ্টা তারা ছাড়বেন না।
২০০১ সালে প্রথম আফগানিস্তান সম্মেলনের আয়োজন করে বন৷ এরপর পেরিয়ে গেছে দশ বছর৷ ২০১১ সালে আবারো সেই বন শহরে অ‍নুষ্ঠিত হচ্ছে আফগানিস্তান সম্মেলন৷ এবারের সম্মেলনে আফগানিস্তানে সামরিক নয়, রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে৷ সেদেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেই এখন যৌক্তিক বলে মানছে আন্তর্জাতিক সমাজ৷
আফগানিস্তান পুনর্গঠনে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সমাজ৷ প্রথমত, আফগানিস্তানের দায়িত্ব হস্তান্তর৷ এই পর্যায়ে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে৷ স্থানীয় বাহিনীর কাছে ক্রমান্বয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে৷ একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করা হচ্ছে৷ দুর্নীতি প্রতিরোধে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে৷ দ্বিতীয়ত, আফগানিস্তানের পুর্নমিলনে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ‍অব্যাহত রাখতে চায় আন্তর্জাতিক সমাজ৷ তৃতীয়ত, ২০১৪ সালের পর আফগানিস্তানকে আর্থিক এবং নানাবিধ সহায়তা অব্যাহত রাখা৷
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসুদ মান্নান৷ তিনি বলেন, আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে সেদেশের বিভিন্ন খাতে সহায়তা করতে চায় বাংলাদেশ৷
পাকিস্তানের এই বর্জনের ফলে বন সম্মেলন কিছুটা গুরুত্ব হারিয়েছে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ কেননা, পাকিস্তানের স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য সমর্থন ব্যতিত আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনা অত্যন্তু দুরুহ এক কাজ৷ এছাড়া গত জুন মাসে শোনা যাচ্ছিল, তালেবানের সঙ্গে আফগানিস্তান সরকারের শান্তি আলোচনার শুরু হতে পারে বন সম্মেলন থেকে৷ কিন্তু পরবর্তীতে তালেবান এই সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দেয়৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে/বিবিসি।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে