Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (48 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২৬-২০১৩

কলারোয়া হাসপাতালে অর্থবরাদ্দ বাড়ালেও খাদ্য সরবরাহ কম ও নিম্নমানের


	কলারোয়া হাসপাতালে অর্থবরাদ্দ বাড়ালেও খাদ্য সরবরাহ কম ও নিম্নমানের

কলারোয়া(সাতক্ষীরা), ২৬ সেপ্টেম্বর- সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সরকারি হাসপাতালে অর্থ বরাদ্ধ বাড়ানোর পরেও টেণ্ডারবাজির কারণে খাদ্য সরবরাহ কমে গেছে। সরবরাহ করা খাদ্যও নিম্নমানের। এসব নিয়ে রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে চরম অসন্তোষ্টি বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশি¬ষ্ট একটি সুত্র জানায়, দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির কারণে হাসপাতালে রোগীদের খাদ্যের জন্য বরাদ্ধ ৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২৫ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারেরা সিণ্ডিকেট করে চলতি বছরের খাদ্য সরবরাহের দরপত্র জমা দেয়। কোন কোন পন্যের বাজার মূল্যের প্রায় ৩/৪ গুণ মূল্য লিখে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার আর্শিবাদে শেষ পর্যন্ত ঠিকাদারের সংগে উচ্চ মূল্যে হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহের দরপত্র চুক্তি সম্পাদিত হয়। সুত্র মতে, কলারোয়া বাজারের ১২০ টাকা থেকে ২শ টাকা কেজি মূল্যের তেলাপিয়া, রুই ও মৃগেল মাছের হাসপাতালে সরবরাহ মূল্য ৪৯৮ টাকা কেজি; ১৬০ টাকা কেজির পোল্ট্রি মুরগীর মাংসের সরবরাহ মূল্য ৪৫০ টাকা; ৪শ টাকা কেজি মূল্যে খাসির মাংসের সরবরাহ মূল্য ৫৮০ টাকা; সাড়ে ৭ টাকা মূল্যের ডিমের সরবরাহ মূল্য ১৫.৬০ টাকা; ২ টাকা পিসের পাকা সাগর কলার সরবরাহ মূল্য ৭.৬০ টাকা; ৭৫ টাকা কেজি দরের মুশুর ডালের সরবরাহ মূল্য ১৭৭ টাকা; ৭/৮ টাকা কেজি দরের লাউ, পেপের সরবরাহ মূল্য ৩৪ টাকা; ১০ টাকা কেজি দরের গোল আলুর সরবরাহ মূল্য ৩৩ টাকা; ৩৫ টাকা কেজি দরের মিনিকেট চাল সরবরাহ মূল্য ৫৫ টাকা; ৪ টাকা কেজি দরের আম কাঠের সরবরাহ মূল্য ১৬ টাকা নির্ধারণ করে ঠিকাদারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কলারোয়া হাসপাতালের রোগীদের এই উচ্চ মূল্যের খাদ্য সরবারাহ শুরু হয়েছে। এতে করে রোগীরা কয়েকদিন ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত ৭৫ টাকায় সরবরাহ করা খাদ্যের তুলনায় এখন নিম্নমানের অনেক কম খাদ্য পাচ্ছে। এতে রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কলারোয়া হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডের ২নং বেডে ভর্তি রোগী ইবাদুল ইসলাম (৪২), ৯নং বেডের রোগী শাহাজান (৫৫), ৬নং বেডের রোগী নূরুল ইসলাম (৭৯), ১৪নং বেডের রোগী আনছার (২০) ও ১৩নং বেডের রোগী শফিয়ার রহমান জানায়, আগে সকালে পাউরুটি, ১টা সাগর কলা এবং একটা ডিম দেওয়া হয়েছে; সেখানে বর্তমানে ১’শ গ্রাম শুকনা চিড়া ও ৫০ গ্রাম চিনি দেওয়া হচ্ছে। দুপুরে ডাল আলুর তরকারি এবং ৮০ গ্রামের এক পিস ছাগলের মাংস দেওয়া হচ্ছে। রাতেও ডাল আলুর তরকারি এবং একটা সিদ্ধ ডিম দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার মাঝে মধ্যে পচা ডিম। কিন্তু  ১ সেপ্টেম্বরের আগে দুপুর ও রাতে প্রায় ১’শ গ্রামের বেশী ওজনের ছাগলের মাংস এবং দেড়’শ গ্রাম মাছ সহ তরিতরকারী পর্যায়ক্রমে দেওয়া হত। রোগীরা বর্তমানে চিড়ায় ধুলা ময়লা থাকার, ৮৫ গ্রাম চিনির স্থলে ৫০ গ্রাম দেওয়ার, খাসির সংগে বকরী ছাগলের মাংস ভেজাল দেওয়া সহ ৬০ টাকা বাজার মূল্যের খাদ্য সরবরাহ করে ১২৫ টাকা বিল নেওয়ার অভিযোগ করে। এ ব্যাপারে ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম বাজার মূল্যের ৩/৪গুণ বেশী মূল্য লিখে দরপত্র দাখিল এবং সরবরাহ আদেশ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাজার দর বাড়ার কারণে সমগ্র জেলায় একই ধরণের মূল্য নির্ধারণ করে হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহ আদেশ দেওয়া হয়েছে। কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমৃকর্তা আব্দুর রহমান খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসে টেণ্ডারের মাধ্যমে রোগীদের খাদ্য সরবরাহ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে