Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৬ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২৩-২০১৯

জেনে নিন বিশ্বে কোন ধর্মে কত লোক 

জেনে নিন বিশ্বে কোন ধর্মে কত লোক 

পাড়া-মহল্লা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ধর্ম নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলে সব জায়গাতেই। ধর্ম নিয়ে নানা মতপার্থক্য থাকলেও একটা বিষয় সকলেই জানেন যে, বিশ্বের প্রধান ধর্ম চারটি। পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষই হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ নয়তো খ্রিস্টান। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না এই চারটি ধর্মের বাইরে এখনও পৃথিবীতে টিকে আছে চার হাজারেরও বেশি ধর্ম। তবে বৃহত্তম ১০টি ধর্মের বাইরে অন্য ধর্মগুলোর অনুসারীর সংখ্যা একেবারেই কম।

আমাদের আজকের প্রতিবেদন বৃহত্তম ১০টি ধর্ম নিয়ে। চলুন জেনে নিই, অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকে কোন ধর্মের স্থান কোথায়।

১০. শিন্তো ধর্ম

জাপানের স্থানীয় এবং অনানুষ্ঠানিক একটি রাষ্ট্রীয় ধর্ম শিন্তো। এই ধর্মের অনুসারীরা কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না। তাদের কোনো ধর্মপ্রচারক বা ধর্মগুরু নেই। পরকালেও বিশ্বাস করেন না তারা। মজার বিষয় হলো শিন্তোদের কোনো  ধর্মগ্রন্থও নেই। এই ধর্মের মূল কথাই হলো, সৃষ্টিকর্তা বলতে কেউ নেই, তবে কিছু স্বাধীন আত্মা বা স্বর্গীয় স্বত্ত্বা আছেন, যাদের নাম ‘কামি’। এই কামিরা পৃথিবীর মানুষের কল্যাণকামী। তাই মানুষের উচিৎ তাদের পূজা করা, বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খুশি রাখা। এ ধর্মের মন্দিরগুলোয় কোনো বৃহৎ লোক সমাগম হয় না। বরং অধিকাংশ মানুষের বাড়িতেই ছোট্ট একটি মন্দির থাকে। সেখানেই তারা পূজা করে। যেহেতু শিন্তো ধর্মের কোনো বাঁধাধরা নিয়মকানুন নেই, তাই যে কেই চাইলেই এ ধর্মের অনুসারী হতে পারেন। জাপানজুড়ে ৮১ হাজার শিন্তো মন্দির রয়েছে, যেগুলোতে শিন্ত ধর্মাবলম্বীর চেয়ে সাধারণ মানুষের আনাগোনাই বেশি। পৃথিবীতে এ ধর্মের অনুসারী রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ। এদের প্রায় সবারই বাস জাপানে।

৯. জৈন ধর্ম

জৈন ধর্মের উৎপত্তি ভারতে। এ ধর্মের আচার, রীতিনীতিও ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জৈন ধর্মের মূল বিশ্বাস হলো পৃথিবীতে ২৪ জন ‘তীর্থঙ্কর’ তথা বিজয়ী মহাপুরুষের আগমন, যারা নিজ নিজ সময়ে মানবজাতির ত্রাণকর্তা এবং শিক্ষক ছিলেন। এই ২৪ জনের মাঝে সর্বপ্রথম পৃথিবীতে এসেছিলেন ঋষভ, যার আগমন ঘটেছিল লক্ষ লক্ষ বছর আগে। আর সর্বশেষ ২৪ তম তীর্থঙ্কর মহাবীরের আগমন ঘটে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে। নির্দিষ্ট কোনো ঈশ্বর নয়, বরং কালে কালে তীর্থঙ্কররাই পৃথিবীতে মানবজাতির দিকনির্দেশনার জন্য আসেন। মোটামুটি জৈন ধর্মের মূল বিশ্বাস এটিই। বিশ্বে ৪০ লক্ষাধিক জৈন ধর্মানুসারী মানুষ আছেন, যাদের এক-তৃতীয়াংশের বসবাস ভারতে। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা এবং কিছু ইউরোপীয় দেশেও জৈনদের বসবাস রয়েছে।

৮. বাহাই ধর্ম

বাহাই ধর্মের ইতিহাস একেবারেই আনকোরা। উনবিংশ শতাব্দীতে মির্জা হুসাইন আলী তথা বাহাউল্লাহ তৎকালীন পারস্যে (বর্তমান ইরান) এ ধর্মের সূচনা করেন। অনেকেই একে ধর্ম না বলে একটি বিশেষ বিশ্বাস হিসেবেও উল্লেখ করতে চান। ‘কিতাবুল আকদাস’ এ ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ। আর মানবজাতির ঐক্য ও মেলবন্ধনই এ ধর্মের মূল লক্ষ্য। বাহাই বিশ্বাস হচ্ছে হযরত ইব্রাহীম (আ:), গৌতম বুদ্ধ, যীশুখ্রিস্ট বা হযরত ঈসা (আ:) ও হযরত মুহাম্মদ (স:)- প্রত্যেকেই ছিলেন একেকজন স্বর্গীয় প্রতিনিধি, যারা নিজেদের যুগের প্রয়োজনানুসারে একেকটি ধর্ম প্রবর্তন করেছেন। তাদের পৃথিবীতে আগমনের সেই ধারাবাহিকতা বাহাউল্লাহর মাধ্যমে শেষ হয়েছে। বিশ্বের ২০০টির অধিক দেশে ৭০ লক্ষাধিক মানুষ বাহাই ধর্মের অনুসারী।

৭. ইহুদী ধর্ম

পৃথিবীজুড়ে ইহুদী ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের মতো। এই ধর্মের ৪৩ ভাগেরই বসবাস ইসরায়েলে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রয়েছেন আরও ৪৩ শতাংশ ইহুদী ধর্মাবলম্বী। বাকিরা লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা আর এশিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। ইহুদীদের মূল ধর্মগ্রন্থ হিব্রু বাইবেল, যা তানাখ নামে পরিচিত। ইহুদী ধর্মের প্রধান তিনটি সম্প্রদায় হলো অর্থোডক্স, কনজারভেটিভ এবং রিফর্মিস্ট।

৬. শিখ ধর্ম

বিশ্বজুড়ে শিখ ধর্মের অনুসারী প্রায় ৩ কোটি। এদের প্রায় সবারই বাস উত্তর ভারতের পাঞ্জাবে। ১৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে পাঞ্জাবেই এ ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। শিখদের প্রথম ধর্মগুরু গুরু নানক। তারপর একে একে ৯ জন গুরুর দায়িত্ব পালন করেছেন। একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করা এ ধর্মানুসারীদের জীবনধারণের দিকনির্দেশনা ঠিক করে দেন গুরুগণ। তবে, শিখদের দশম তথা বর্তমান গুরু, গুরু গোবিন্দ সিং এই গুরু পরম্পরার ইতি টেনেছেন। শিখ ধর্মের পবিত্র গ্রন্থকেই তিনি নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করেছেন। অর্থাৎ, এ ধর্মগ্রন্থই অনাগত দিনে শিখদের পথচলার নিদর্শন হবে। তিনি এর নামকরণ করেছেন ‘গুরু গ্রন্থ সাহিব’।

৫. হ্যান ধর্ম

চীনের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্প্রদায় হলো হানজু বা হ্যান সম্প্রদায়। তারা যে ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী তাকেই চীনা লোক ধর্ম বা হ্যান ধর্ম বলা হয়। তারা একাধিক দেবতায় বিশ্বাস করে। প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তিকে পূজাও করে। বর্তমানে এ ধর্মের অনুসারী ৪০ কোটির কাছাকাছি।

৪. বৌদ্ধ ধর্ম

পৃথিবীজুড়ে বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৫১ কোটি। প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম ত্রিপিটক। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বৌদ্ধধর্মালম্বী মানুষের বসবাস চীনে। তাছাড়া থাইল্যান্ড, জাপান, মায়ানমার, শ্রীলংকা, নেপাল ও ভুটানে বৌদ্ধধর্মালম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদেরও বড় অংশ বৌদ্ধ।

৩. হিন্দুধর্ম

বিশ্বে বর্তমানে হিন্দু ধর্মের অনুসারী প্রায় ১২০ কোটি। এদের প্রায় সবারই বাস দক্ষিণ এশিয়ায়। হাজার হাজার বছর পূর্বে মানুষের প্রকৃতি পূজার মাধ্যমে এই ধর্মের সূচনা হয়। বেদ, উপনিষদ, গীতা হলো হিন্দুধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। হিন্দুধর্মে সৃষ্টিকর্তার সংখ্যা নিয়ে একাধিক বিশ্বাস রয়েছে, রয়েছে একেশ্বরবাদ ও বহু-ঈশ্বরবাদ উভয়ই। তবে ত্রিমূর্তি নামে পরিচিত তিনজন প্রধান ঈশ্বরেই অধিকাংশ হিন্দু বিশ্বাস করেন। তারা হলেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিব। এ ধর্মে রয়েছে মানুষের চারটি বর্ণ- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র।

২. ইসলাম ধর্ম

পৃথবীতে ইসলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা ১৮০ কোটির বেশি। পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্মও ইসলাম। প্রায় সকল মুসলিমই দুটি সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। সুন্নি মতাবলম্বী ৮৫-৯০ ভাগ এবং শিয়া মতাবলম্বী ১০-১৫ ভাগ। পৃথিবীর ৫০টি দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ।

১. খ্রিস্টান ধর্ম

পৃথিবীজুড়ে প্রায় ২৪০ কোটির মতো মানুষ খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। এই ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বাইবেল, যার রয়েছে দুটি খণ্ড, ‘ওল্ড টেস্টামেন্ট’ এবং ‘নিউ টেস্টামেন্ট’। খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদের বড় দুটি সম্প্রদায় হলো ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট। এরমধ্যে রোমান ক্যাথলিক চার্চের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৩০ কোটির মতো। অন্যদিকে প্রোটেস্ট্যান্ট মতের অনুসারী আছে ৯০ কোটির অধিক।

বিশ্বের প্রধান এই ধর্মগুলোর বাইরেও একটি বড় অংশ হলো ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক। এদের সংখ্যা ১২০ কোটিরও বেশি।

এমএ/ ০৮:২২/ ২৩ জুলাই

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে