Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ , ৫ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২৬-২০১৩

কুমিল্লায় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মরিয়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা


	কুমিল্লায় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মরিয়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা

কুমিল্লা, ২৪ সেপ্টেম্বর- আগামী নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের সবকটিতে বিজয় নিশ্চিত করতে মহাজোট এবং ১৮ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। উভয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নলাভের প্রত্যাশায় নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্নভাবে আকৃষ্ট করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন শক্তিশালী বলয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব তৎপরতায় ইউনিয়ন, গ্রাম ও পাড়া মহল্লার জনগণের মাঝে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে এলাকার লোকজনের সাথে কুশল বিনিময়, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান, এলাকার দরিদ্র মানুষের খোঁজ খবর নেয়া ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং শাড়ি লুঙ্গি বিতরণসহ বিভিন্নভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পোস্টার, ডিজিটাল ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ফ্যাস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। বিভিন্ন জাতীয় দিবস কিংবা ধর্মীয় দিবসে প্রার্থী নিজেই কিংবা অনুসারীদের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা জানান দিচ্ছেন।
একাধিক আসনের জনগণের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তৎপরতা ততই বেড়ে চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঘন ঘন এলাকায় এসে গণসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। অনেক প্রার্থী এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেয়ার পাশাপাশি অনুদান দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এতে এলাকায় অনেকের ভাগ্য প্রসন্ন হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে উভয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ সমানে সমান।
তবে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টি আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আগামী নির্বাচনেও জেলার ১১টি আসনেই বিজয় নিশ্চিত করতে আমরা সক্রিয় রয়েছি।
অপরদিকে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, কুমিল্লার প্রায় সবকটি আসনে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। এছাড়া মহাজোট সরকারের নানা কর্মকান্ডে জনগণ তাদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, যা সর্বশেষ পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে। নির্দলীয় বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এ জেলার সবকটি আসনে আঠারো দলের মনোনীত প্রার্থীর বিজয় হবে।
প্রধান দুই জোট বা দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং রয়েছে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায়। তা নিরসন করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে জয় পরাজয়। এসব আসনে স্থানীয় এমপিদের পাশাপাশি প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দলের টিকিট পেতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন। প্রত্যেকে নিজের গুরুত্ব ও জনসমর্থন দেখাতে দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করছেন। নির্বাচনী এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান এমপিরা এলাকায় তাদের যাতায়াত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের অনেকে দিন বদলের ৪ বছর শিরোনামে চার রঙা স্মরণিকায় উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে বিলি করছেন। এদিকে নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও এলাকার জন্য ব্যক্তিগতভাবে কি কি অবদান রেখেছেন এবং আগামীতে কি কি করবেন তা উল্লেখ করে বুকলেট ও লিফলেট ছাপিয়ে বিলি করছেন। দোয়া চেয়ে চার রঙা পোস্টার, ফেস্টুনে এলাকা ছেয়ে ফেলেছেন।
১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এ জেলায় প্রথমবারের মতো সর্বাধিকসংখ্যক আসনে জয়লাভ করে। তাই আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সবগুলো আসনে বিজয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেন, আগামী নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লার ১১টি আসনে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষেই জেলা আওয়ামী লীগ ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলো কাজ করবে। আশা করি আগামী নির্বাচনে আমরা সবগুলো আসনে জয়লাভ করবো। অপরদিকে কুমিল্লার ১১টি আসনেই ১৮ দলীয় জোট জয় পাবে বলে মনে করছে। তাই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। কুমিল্লার দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম রাবেয়া চৌধুরী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কুমিল্লায় অধিকসংখ্যক আসনেই বিএনপি জয়লাভ করবে।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা): দুটি উপজেলার ২৩টি ইউনিয়ন ও দাউদকান্দি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী, টানা চারবারের নির্বাচিত এমপি ও তিনবারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে হারিয়ে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের টিকিটে মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়া। ১৯৭৩ সালের পর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করে। এবারও তিনি আসনটিকে ধরে রাখার জন্য উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরাসহ নির্বাচনী এলাকায় বিচরণ করছেন। অপরদিকে আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভা সমাবেশ, প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনেও এ আসনে ড. মোশাররফ বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস): দুটি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও হোমনা পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে প্রতিটি নির্বাচনের মতো বিএনপি থেকে হেভিওয়েট প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, বর্তমান এমপি ও সাবেক মন্ত্রী এম.কে আনোয়ার এবং আওয়ামী লীগ থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর): উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসনটি গঠিত। এ আসনের বর্তমান এমপি আলহাজ্ব কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় ও অসুন্থতার কারনে নির্বাচনের পর থেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে। তবে গ্রেনেড হামলা মামলায় কায়কোবাদের নাম চলে আসায় আইনগত কোন জটিলতার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার পরিবারের যে কেউ মনোনয়ন পাবেন এমন গুঞ্জনও চলছে ওই নির্বাচনী এলাকায়। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে। অপরদিকে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত নির্বাচনে এ দুইজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিজয় সহজ হয়েছে। উভয় নেতার মধ্যে দূরত্বের অবসান না হলে এবারও একই ফল বয়ে আনবে বলে জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি এ.বি.এম গোলাম মোস্তফা ছাড়াও সাবেক অর্থ উপমন্ত্রী এ.এফ.এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, এম. হুমায়ুন মাহমুদ, তরুণ শিল্পপতি, আ’লীগের ত্যাগী নেতা আলহাজ্ব রোশন আলী মাষ্টার প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি থেকে চারবারের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একক প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে নামার কথা শোনা যাচ্ছে। আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি ছাড়াও মাজেদা আহসান মুন্সী, রিজভীউল আহসান মুন্সী এলাকায় প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া): দু'টি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি দলীয় প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে ব্যানার ফেস্টুন লাগানো ছাড়াও সভা সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি থেকে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক শওকত মাহমুদের রয়েছেন দুই উপজেলায় দল গুছানোর দায়িত্বে। এছাড়া সাবেক এমপি অধ্যাপক মো. ইউনুসের, আলহাজ্ব এসএম আলাউদ্দিনের নামও শোনা যাচ্ছে।
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর): জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের বর্তমান এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন। দলীয় ঐক্যের কারণে ১৯৭৩ সালের পর গত নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। এ এমপির সঙ্গে দলীয় নেতাদের দূরত্বের বিষয়টি বেশ আলোচিত। আগামী নির্বাচনে তিনি ছাড়াও জেলা ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান অ্যাডভোকেট সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি থেকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি হাজী আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনের ব্যাপক প্রচারণা চলছে। এছাড়া জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর ছোট ভাই অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু ও জিয়া ন্যাশনালিস্ট ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিকুর রহমান শফির নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে শোনা যাচ্ছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির (এ) কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি এয়ার আহমেদ সেলিমেরও প্রচারণা রয়েছে।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা): এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনের বর্তমান এমপি সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশ্রাফ ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান মজুমদার রিপন প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে এ আসনে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। তিনি সভা সমাবেশ করে এলাকায় নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা জাতীয় পার্টির (এ) লুৎফর রেজা খোকন প্রচারণা চালাচ্ছেন।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া): গত নির্বাচনে এ আসনটি জেলার বরুড়া ও সদর দক্ষিণ উপজেলার একাংশ ছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশন আসনটি পুনর্বিন্যাস করে বরুড়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে পৃথক সংসদীয় আসনে রূপান্তর করায় এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী ছাড়াও সাবেক এমপি আবদুল হাকিম, নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার এডমিরাল এ. তাহেরের নাম শোনা যাচ্ছে। অপরদিকে বিএনপি থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন একক প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টির (এ) কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলনেরও প্রচারণা রয়েছে।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ): দুটি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও লাকসাম পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি তাজুল ইসলাম ও বায়রার সভাপতি শাহজালাল মজুমদারের প্রচারণা রয়েছে। অপরদিকে বিএনপি থেকে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিম, সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজির আহমেদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক রশীদ আহমেদ হোছাইনী গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ ও নাঙ্গলকোট): ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনটি জেলার নাঙ্গলকোট ও সদর দক্ষিণ উপজেলার একাংশ ছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশন আসনটি পুনর্বিন্যাস করে সদর দক্ষিণ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড এবং নাঙ্গলকোট উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে পৃথক সংসদীয় আসন করে। এ আসনে বিএনপি থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরীর ব্যাপক প্রচারণা রয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও উপজেলা অক্ষুন্ন রেখে আসন বিন্যাসের আন্দোলনে সফলতা অর্জনের দাবিদার সদর দক্ষিণ উপজেলা ও মহানগর ঐক্য সংহতি পরিষদের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে একাট্টা হয়ে দীর্ঘদিন যাবত নির্বাচনের মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভুঁইয়া ও মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক আ.হ.ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপির প্রচারণা রয়েছে।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম): উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বর্তমান এমপি ও রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক একক প্রার্থী হিসাবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ সরকারের শেষ সময়ে মন্ত্রী হলেও তিনি প্রতি সপ্তাহে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সভা সমাবেশ ছাড়াও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা অব্যাহত রাখেন। এ আসনে সবচেয়ে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে বলে জেলাব্যাপী প্রচারণা রয়েছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ এলাকায় সভা সমাবেশ ও গণসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার অন্যান্য আসনেও দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল করার জন্য সভা সমাবেশ করছেন। এছাড়া ১৮ দলীয় জোটভুক্ত জামায়াতের সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

কুমিল্লা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে