Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯ , ১০ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২১-২০১৯

গণপিটুনিতে মারা যাওয়া রেনুর যাওয়া হলো না আমেরিকা 

গণপিটুনিতে মারা যাওয়া রেনুর যাওয়া হলো না আমেরিকা 

ঢাকা, ২১ জুলাই- স্বপ্নগুলো যেন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল। কতো আশাই না ছিল! বলছিলাম ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মারা যাওয়া তাসলিমা বেগম রেনুর (৪০) কথা। যার কিনা আর কদিন বাদেই আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে তার ভাই আলী আজগর বসবাস করছেন দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে। কিন্তু হলো কি!

রোববার (২১ জুলাই) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামে এসব কথা বলেন মারা যাওয়া রেনুর ভাগনি নুর জাহান বেগম মুন্নি। এ সময় পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চান তিনি।

তিনি জানান, আমেরিকা যাওয়ার সব প্রস্তুতিও গুছিয়ে নিয়েছিলেন রেনু। যেদিন সে গণপিটুনিতে মারা গেলেন সেদিন বের হয়েছিলেন সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র ফটোকপি করার জন্য। পথে মেয়েকে ভর্তি করানোর বিষয়ে কথাবার্তা বলতে খোঁজ নিতে যান উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মুহূর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

রেনুকে হত্যার জন্য পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম ও অফিস সহকারী জান্নাতুল ফেরদাউসকে দায়ী করেছেন।

তারা বলছেন, প্রধান শিক্ষক ইচ্ছা করলে রেনুকে বাঁচাতে পারতেন। যখন ছেলেধরা বলে স্কুলের ভেতরে গুজব ছড়াচ্ছিল, তখন রেনুকে রুমে বসিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যেত। তাহলে আর নির্মম পিটুনির বলি হয়ে রেনু মারা যেত না। এজন্য প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীকে গ্রেফতারের দাবি জানান রেনুর পরিবারের সদস্যরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাসলিমা বেগম রেনুর এক ভাই ও পাঁচ বোন। মাস্টার্স শেষ করা রেনু সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। গত দুই বছর তিনি প্রাইভেট পড়াতেন। পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে রেনুর ডিভোর্স হয়। তাদের সংসারে তাসফিক আল মাহি (১১) ও তাসলিমা তুবা (৪) নামের দুই সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর ছেলে বাবার সঙ্গে থাকে। আর মেয়ে মায়ের কাছে থাকত।

মারা যাওয়ার ভগ্নিপতি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী মো. বদিউজ্জামান বলেন, অভিভাবকরা সন্তান ভর্তি করার জন্য স্কুলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে গুজব ছড়িয়ে একজন শিক্ষিত-সংগ্রামী নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করতে হবে। এ সভ্য সমাজে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাচ্ছি। যেন আর কোনো নারী এভাবে গুজবের বলি না হয়।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ
এমএ/ ১১:৫৫/ ২১ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে