Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯ , ২ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২০-২০১৯

এবার বানভাসী বাঘ, গেরস্থের বাড়িতে ঢুকে দিল এক ঘুম!

এবার বানভাসী বাঘ, গেরস্থের বাড়িতে ঢুকে দিল এক ঘুম!

দিসপুর, ২০ জুলাই- বাঘিনী বন থেকে পালিয়ে স্থানীয় এক গেরস্থ বাড়িতে ঢুকে খাটে শুয়ে আরাম করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক থেকে সে চলে এসেছে। কিন্তু এমনি এমনি আসেনি। ভারতের বন্যা-কবলিত আসাম রাজ্যের একটি জঙ্গল থেকে একটি ওই বাঘিনী স্থানীয় এক বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে সেই বাড়ির খাটে শুয়ে ছিল।

কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে সাম্প্রতিক ব্যাপক বন্যায় ৯২টি প্রাণি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনের কর্মকর্তারা সেই বাড়িতে যান এবং বাঘটি যেন নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করেন। বাঘটিকে জঙ্গলের পথের দিকে ঠেলে দেয়া হয়।

ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুসারে, ওই বাঘিনীকে প্রথম দেখা যায় বৃহস্পতিবার সকালে একটি মহাসড়কের কাছে, যে জায়গাটি ছিল জাতীয় উদ্যান থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত।

ব্যস্ত সড়কের যানবাহন হয়তো তাকে বিরক্ত করিছিল এবং এরপর সে মহাসড়কের কাছে অবস্থিত এক গেরস্থ বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে আশ্রয়ের খোঁজে।

রথিন বর্মণ এই বাঘ উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই বাঘিনী একটি দোকানের পার্শ্ববর্তী ওই বাড়িটিতে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢোকে এবং দিনের বেলা পুরোটা ঘুমিয়ে কাটায়।

বিবিসিকে মিস্টার বর্মণ বলেন, সে ছিল ভীষণ ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত এবং দিনভর একটা ভালো ন্যাপ নিয়েছে সে।

কিন্তু জলজ্যান্ত এক বাঘ যাদের ঘরের ভেতর সেই বাড়ির মালিকের কী অবস্থা?

বাড়ির মালিকের নাম মতিলাল। তিনিই নিকটবর্তী দোকানটির মালিক। বাঘটিকে তার বাড়ির ভেতর ঢুকতে দেখেই পরিবারের লোকজনকে নিয়ে তিনি ভয়ে পালিয়েছেন।

'সবচেয়ে দারুণ বিষয় ছিল যেটি সেটা হলো যে, তার বিশ্রামে কেউ বাধা দিতে আসেনি। এই অঞ্চলের মানুষদের মাঝে বন্যপ্রাণীর প্রতি ব্যাপক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কাজ করে, বলেন বর্মণ।

বাড়ির মালিক মতিলাল বলেছেন, বাঘটি যে বিছানায় শুয়েছিল সেই বিছানার চাদর ও বালিশ তিনি যত্ন সহকারে তুলে রাখবেন।

ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার কর্মকর্তাদের পরে খবর দেয়া হয় এবং তারা এসে ক্লান্ত বাঘিনীর নিরাপদ বেরোনোর পথ খোঁজার উদ্যোগ নেন।

এক ঘণ্টার জন্য মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়, এবং বাঘটিকে জাগিয়ে তোলার জন্য আতশবাজি ফাটানো হয়। বাঘটি শেষপর্যন্ত স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িটি থেকে বেরিয়ে যায়, এরপর সে মহাসড়ক অতিক্রম করে এবং তাকে নির্দেশ করা নির্দেশনা মোতাবেক জঙ্গলের দিকে রওনা হয়।

বর্মণ অবশ্য বলেন, মেয়ে বাঘটি আসলেই জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে গেছে নাকি সে আশেপাশের এলাকায় হাটাহাটি করেছে-সেটা নিশ্চিত নয়।

ইউনেস্কোর হিসেবে, কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে ১১০টি বাঘের বসবাস, কিন্তু তাদের একটিও বন্যায় মারা যায়নি। এই পার্কের নিহত প্রাণীদের মধ্যে ৫৪টি হরিণ, সাতটি গণ্ডার, ছয়টি বুনো শূকর এবং একটি হাতি রয়েছে।

ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার ফলে আসাম ও বিহার রাজ্যে ব্যাপকভাবে তাণ্ডবে শতাধিক মানুষের মৃত্যুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বাস্তু-চ্যুত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। বর্ষার মৌসুম, যার ব্যাপ্তি মূলত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, তাতে নেপাল ও বাংলাদেশে ফসলে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।

আর/০৮:১৪/২০ জুলাই

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে