Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৮ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৮-২০১৯

গাইবান্ধায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বন্যা, ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি  

গাইবান্ধায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বন্যা, ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

 

গাইবান্ধা, ১৮ জুলাই - গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আজও বন্যার পানিতে একের পর এক ব্রিজ, কালভার্ট ও পাকা রাস্তা ভাঙছে। গত কয়েক দিনে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সবগুলো বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে জেলার ৭ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। জেলা প্রশাসক ও জেলা দায়রা জজের বাসভবনের সামনেও হাঁটু পানি। গাইবান্ধা পৌরসভার প্রায় সবগুলো ওয়ার্ড ২ থেকে ৩ ফুট বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে জেলার পানিবন্দি ৫ লক্ষাধিক মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, জেলার বন্যাকবলিত ৭ উপজেলার ৪০০টি গ্রামের প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু নিয়ে আশেপাশের উঁচু স্থান ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে ঘাঘট রক্ষা বাঁধসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে ধস নেমেছে। ফলে জেলার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকার মানুষজন সব থেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গবাদিপশু নিয়ে। গবাদি পশুর থাকা এবং খাবার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া সংকট সৃষ্টি হয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির। চরাঞ্চল ও নদী বেষ্টিত চারটি উপজেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে ২৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি ও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ৩৫টি বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৮ জন ।

পানির চাপে সদর উপজেলার বাদিয়াখালীতে রেললাইন ধসে পানির নিতে নিমজ্জিত হওয়ায় সান্তাহার, লালমনিরহাট, রংপুর রেলপথে গাইবান্ধার ওপর দিয়ে সকল ট্রেন চলাচল দুইদিন থেকে বন্ধ আছে। তবে সান্তাহার থেকে গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন লোকাট ট্রেন চলাচল করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাঘাটা উপজেলার অর্ধশত গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সাঘাটা উপজেলার সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ হয়ে বগুড়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাকা সড়কসহ কয়েকটি কালভার্ট ধসে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন উপজেলায় পানি প্রবেশ করছে ।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন, বন্যা ভয়বহ রূপ নিয়েছে । ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তাসহ বিভিন্ন সহায়তায় আমরা পাশে আছি ।

সাঘাটা উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা মো. ছবিউল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সাঘাটায় বেশ কয়েকটি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাইবান্ধা-সাঘাটা পাকা রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলার বানভাসি মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১০৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত সব উপজেলায় কাজ করছে ৬১টি টিম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর গাইবান্ধার উপ-পরিচালক এসএম ফেরদৌস জানান, এ জেলায় রোপা আউশ ৯৭৭ হেক্টর, পাট ২ হাজার ৪৩৯ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৪৬১ হেক্টর, বিভিন্ন ধরনের সবজি ২৪৭ হেক্টর, পান ৩ হেক্টর এবং তিল ২৫ হেক্টরসহ মোট ৪ হাজার ১৫২ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগস্ত কৃষকদের তালিকা করে বিস্তারিত পরে জানানো হবে ।

গাইবান্ধা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল দাইয়ান জানান, জেলার চার উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকার ১ হাজার ৯৫৫টি পুকুরের ৪৯৯ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। ভেসে যাওয়া মাছের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এছাড়া ২৪ লাখ টাকার ১৯ লাখ মাছের পোনা ভেসে গেছে।

গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোছা. রোখছানা বেগম জানান, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা প্রদান অব্যহত আছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত ৫৮৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৯ লাখ টাকা ও ২ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও এক হাজার মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ টাকা এবং পাঁচ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বানভাসিদের জন্য ১২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা তিন লাখ ৫৮ হাজার ৬১৮ জন ।

সুত্র : জাগো নিউজ
এন এ/ ১৮ জুলাই

গাইবান্দা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে