Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৮-২০১৯

প্রশান্তি নয়, অস্বস্তির নাম রমনা পার্ক

মো. ইলিয়াস


প্রশান্তি নয়, অস্বস্তির নাম রমনা পার্ক

ঢাকা, ১৮ জুলাই- রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত রমনা পার্ক। ইট-কংক্রিটের এই শহরের ব্যস্ত মানুষের বিনোদনের অন্যতম স্থান রমনা পার্ক। নানান রকম ফুলে সমৃদ্ধ এই ঐতিহ্যবাহী পার্ক। এখানে অতি দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষ যেমন রয়েছে, তেমন রয়েছে চেনা-অচেনা পাখির কলতান। এর মাঝেই প্রশান্তি খুঁজে পায় রাজধানীবাসী। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সবুজের ছোঁয়া পেতে এখানে ছুটে আসে। রমনার ৬৮ একর জায়গা সকাল-বিকাল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়। সারাদিনই দর্শনার্থীদের থাকে উপচেপড়া ভিড়।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী একটি পার্ক হচ্ছে রমনা পার্ক। এটি বর্তমানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন রয়েছে। পার্কের বর্তমান আয়তন ৬৮ দশমিক ৫ একর। এর লেকের আয়তন ৮ দশমিক ৭৬ একর। ১৬১০ সালে ঢাকায় মোগলদের শাসন পাকাপোক্ত হওয়ার পর বাগানের অনুরাগী মোগলরা এ উদ্যান তৈরি করেছিলেন। তখন এর নাম ছিল বাগ-ই-বাদশাহী।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে পার্কে মানুষ আসে একটু প্রশান্তির জন্য, কিন্তু এখানে এসে নানা বিড়ম্বনা শিকার হয়। অনেক শিশুরা ফুল এবং ফুলের মালা বিক্রির জন্য বিরক্ত করে থাকে দর্শনার্থীদের। পার্কের ভেতরে কোন ধরনের হকারের অনুমতি নেই। তবুও নানা কৌশলে হকাররা ভেতরে ঢুকে অনেক সময় ঝামেলা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রমনা পার্কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে কেউ মলমূত্র ত্যাগ করতে পারছেন না। মলমূত্র ত্যাগ করতে না পেরে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেক পুরুষ ঝোপের আড়ালে কিংবা লোকজনের আড়ালে মূত্রত্যাগ করে নেয়। কিন্তু এতে পরিবেশ নষ্ট হলেও কারও কোন নজর নেই। শৌচাগার বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় মহিলাদের। পুরুষের মতো মহিলাদের তেমন সুযোগ হয়ে ওঠে না। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শৌচাগার বন্ধ থাকে কিন্তু এ সময় মানুষ মলমূত্রত্যাগ করতে কোথায় যাবে এমন প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের।

গাজীপুর থেকে ঘুরতে আসা মোহাম্মদ জুয়েল খান শৌচাগার তালাবদ্ধ পেয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, আমার প্রাকৃতিক চাপ পড়ায় টয়লেটে এসে দেখি তালাবদ্ধ। এত বড় একটি পার্কের মধ্যে যদি প্রতিটি টয়লেট তালাবদ্ধ থাকে তাহলে মানুষ মলমূত্রত্যাগ করবে কোথায়। তাহলে এই টয়লেট রাখার প্রয়োজনীয়তা কি?

পার্কে ঘুরতে আসা আরেক ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম বলেন, পার্কে ঘুরতে আসছি একটু বিনোদনের জন্য। কিন্তু শৌচাগার বন্ধ থাকাতে মানুষের সেই আনন্দ বিনোদন নষ্ট হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শৌচাগারে যাওয়ার জন্য এখানে সময় বেধে দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মানুষ মলমূত্রত্যাগ করতে কোথায় যাবে?

পার্কে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য বলেন, টয়লেটে তালা ঝুলানো বিষয়টা আসলে একটি অস্বস্তিকর বিষয়। যে সময়ে টয়লেটে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এ সময় মানুষের অনেক কষ্ট হয়। সেটা আমি নিজে উপলব্ধি করতে পেরেছি, তালাবদ্ধ থাকার কারণ আমার নিজের অনেক জায়গা ঘোরাঘুরি করে বাহিরে এক জায়গায় মূত্রত্যাগ করতে হয়েছে।

রমনা পার্কের দায়িত্বরত সুপারভাইজার মো. সামছু বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী টয়লেটে তালা মেরে রাখা হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টা থেকে ৮টা পর্যন্ত তালা খুলে রাখার নির্দেশ রয়েছে। সেই অনুযায়ী তালা খুলে রাখা হয়। আর বাকি সময় তালা মেরে রাখা হয়। এটা আমাদের কোন ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে না।

টয়লেটের চাপতো মানুষের যেকোন সময় আসতে পারে? যে সময়ে তালা মেরে রাখা হলে মানুষ কি করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি কেউ পার্কে আসে তাকে মলমূত্র ত্যাগ করতে হলে বিকেল চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে তালা খোলার কোনো নির্দেশনা নেই।

এ সময় তিনি আরও বলেন, সব মানুষ টয়লেট ব্যবহার করতে জানে না। টয়লেট অপরিষ্কার করে ফেলে। যা বারবার আমাদের পক্ষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়, সেজন্যই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ

আর/০৮:১৪/১৮ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে