Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৭-২০১৯

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে কিছু কথা

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী


হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে কিছু কথা

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা গেলেন। এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার চার বছর আগে আমি দেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। তার শাসনামলে আমি দেশে ফেরার সুযোগ খুঁজছিলাম। পরিবেশটাকে আগের মতো এত প্রতিকূল মনে করিনি।

তাছাড়া একবার শুনেছিলাম, এরশাদ বঙ্গবন্ধুকে তার যথোপযুক্ত জায়গায় সংস্থাপন করবেন এবং তার জাতির পিতা অভিধাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে মেনে নেবেন। ১৯৮৫ সালে দেশে ফিরলাম, না এলে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিটা চলে যাবে।

দেশে ফিরে দেখলাম আমার চাকরিটা আর নেই। আমার নিকটতম বন্ধু ও একই রাজনৈতিক চিন্তার সহযোগীরা নিজেদের প্রফেসর পদপ্রাপ্তি সুগম করতে আমার চাকরিটা খেয়ে ফেলেছেন। আমার পদচ্যুতি শর্তযুক্ত ছিল। আমি যদি দেশে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিই, তাহলে আমার অপরাধ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

এই সীমা অতিক্রান্তের কিছু পর আমি দেশে ফিরে এলাম; কিন্তু আমার পদটি বিশেষত সহযোগী অধ্যাপকের পদটি আর ফিরে পেলাম না। আমাকে দয়া করে সহকারী অধ্যাপকের পদটিতে যোগ দেয়ার অনুমতি দেয়া হল। তদানীন্তন উপাচার্য প্রফেসর ড. শামসুল হক অবশ্য তা চাননি; কিন্তু তার সহকর্মীদের প্রচণ্ড চাপে আমার প্রতি এমন অবিচারটা করলেন।

শামসুল হক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাই এ অধম মুক্তিযোদ্ধার প্রতি তার কিছু মায়া বা করুণা ছিল। আমি সহকারী অধ্যাপকের পদে যোগ দিতে অস্বীকার করে বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী শামসুল হক ও শিক্ষা সচিব মুজিবুল হকের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করলাম।

আমার আবেদনের পর আমার বন্ধুরা কৌশলে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে আমার প্রতি নেতিবাচক একটি সিদ্ধান্তের জন্য তদবির সেরে ফেলেন। সে সময়ে সিদ্ধান্তকারী বেশ ক’জন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিভিন্ন পদে বসতে চেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, তাদের এই প্রয়াস খালেদা জিয়ার শাসনামলেও বলবৎ ছিল, তবে শেখ হাসিনার শাসনামলে তারা সফল হয়েছিলেন।

আমার আবেদনটি শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়েছিল। যুক্তি হিসেবে বলা হল, বিলম্বে ফেরত এলেও আমাকে পূর্ণ যোগদানের সুযোগ দেয়া যায়। সত্যি কী মিথ্যা জানি না, সচিব মুজিবুল হক ও অতিরিক্ত সচিবের কাছ থেকে আমি এমন কথাই শুনেছি এবং এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি এরশাদ সহমত পোষণ করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, লোকটা তো ফিরে এসেছে, অন্যরা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা খেয়ে তাও করে না।

তারপরও আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে ব্যর্থ হলাম। সিন্ডিকেট সদস্যরা আমার প্রতি বিরূপ ছিলেন, যদিও বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তাদেরসহ সর্বসাকুল্যে ১১২ জনের চাকরি আমি কৌশলে রক্ষা করেছিলাম।

প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে আবার নাইজেরিয়ায় চলে গেলাম। প্রাপ্য টাকাটা উদ্ধার করতে পেরে আমি বড়লোক হয়ে দেশে ফিরলাম এবং সহনশীলতা বাড়ানোর শক্তি হস্তগত করলাম। আরও কয়েকবার আমার প্রসঙ্গটি সিন্ডিকেটে তোলা হল; কিন্তু বারবারই আমাকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেয়ার অনুরোধ করা হল। প্রায় ১৯ মাস এভাবে চলল।

ইতিমধ্যে ছাত্রদলের চাপে পড়ে ড. শামসুল হক পদত্যাগে বাধ্য হলেন এবং জেনারেল নূরুদ্দিনের মাধ্যমে ড. আবদুল মান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োজিত হলেন।

আমি আমার বন্ধুদের, বিশেষত বাংলার অধ্যাপক আবু জাফরের মাধ্যমে আমার পূর্ণ যোগদানের বিষয়টি আবার উত্থাপন করলাম। মজার ব্যাপার, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আইন উপদেষ্টা আগে আমার বিরুদ্ধে কলম চালিয়েছিলেন, তিনিই আমার পক্ষে লিখলেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের এমনই ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা আমি সেখানে আমার চাকরির শেষদিন পর্যন্ত লক্ষ করেছি। আমাকে কয়েক মাসের অতিরিক্ত বিদেশ অবস্থানের কারণে ক্ষমা করা না হলেও আমার সহকর্মী একজনকে ১৭ বছর এবং একজনকে ১৩ বছর বিদেশে অবস্থানের পরও আসামাত্র চাকরিতে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

আমার আবেদন নতুন উপাচার্যের কাছে গৃহীত হল। এরশাদ নিয়োজিত উপাচার্যের বদৌলতে আমি আমার চাকরি ফেরত পাওয়ার পর আমার একই মতের শিক্ষকরা মোটামুটি আমাকে এরশাদের লোক বলে চিহ্নিত করে ফেলল এবং আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পথ রুখতে না পারলেও আমার সুযোগ-সুবিধাদি আটকে দিল।

প্রচার প্রোপাগান্ডা হল যে, এরশাদের আমলে আমি ড. মান্নানের কৃপায় হারিয়ে যাওয়া চাকরিটা যখন ফিরে পেয়েছি তখন আমি এরশাদেরই লোক।

কিছুদিন পর আরও একটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার ঘটল। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পর বাসস্থান সংকটে পড়লাম। আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের ওয়ার্ডেন হিসেবে তদবির করলাম আর আমার এক নিকটাত্মীয় ও সূর্যসেন হলের তদানীন্তন প্রভোস্টের কৃপায় আমি সে পদটি থেকে বঞ্চিত হলাম। আমি হাল ছেড়ে দিলাম।

হঠাৎ একদিন দেখলাম প্রফেসর খালেদ আমার শ্যামলীর বাসায় এসে হাজির। তিনি আমাকে জানালেন, উপাচার্য মান্নানও তার সঙ্গে এসেছিলেন; কিন্তু তার অন্য জরুরি কাজের তাড়া থাকায় চলে গেছেন। খালেদ সাহেব আমার কাছে এসেছেন উপাচার্যের একটি অনুরোধ নিয়ে আর তা হল আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হতে হবে। আমি বিস্ময় লুকাতে না পেরে তাকে বলেই ফেললাম, ‘আমি তো মেঘ চেয়েছিলাম, এখন দেখি মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পেতে যাচ্ছি।’

তখন আমি জানতাম না যে, বিদ্যমান প্রক্টর তার কাম্য একটি বাসা পাওয়ামাত্রই পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি কতিপয় অভিযুক্ত ছাত্রের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অপারগতা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। আমার একটা বাসার প্রয়োজন ছিল বলে প্রক্টরের মতো একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিলাম; তবে সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমিই ছিলাম প্রথম ব্যক্তি, যে শ্যামলী থেকে নিজের গাঁটের পয়সায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে প্রক্টর ও প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন করেছে।

আমাকে প্রক্টর নিয়োগ দেয়ায় একটি বদ্ধমূল ধারণার স্বীকৃতি মিলে গেল যে, আমি এরশাদের লোক। আরেকটি কারণ ছিল। আমার বন্ধু ছিলেন তদানীন্তন শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। ছাত্রলীগ রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে আমরা সহসংগ্রামী ও সহযোদ্ধা ছিলাম। শহীদ এরশাদ মন্ত্রিসভার সদস্য, আবার আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

অতএব, মত ও পথ বদলিয়ে আমি এরশাদপন্থী হয়ে গেছি বলে প্রচারণাটা তুঙ্গে তোলা হল। আমি বরাবরই এরশাদবিরোধী ছিলাম, সামরিক শাসনবিরোধী তো বটেই। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা অভিধায় পুনঃস্থাপন না করার কারণে আমি আরও বিক্ষুব্ধ ছিলাম। তারপরও অনুরোধে ঢেঁকি যে গিলতে হয়, তার প্রমাণ রাখলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মাঝে মাঝে শহীদের কাছে ধরনা দিতাম।

এ সময়ে শহীদ আমাকে একটা গল্প বললেন, সঙ্গে লোক প্রশাসনের শিক্ষক ও আমার সাবেক ছাত্র মাহবুবও ছিলেন। গল্পটার সারমর্ম হচ্ছে, মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা এরশাদের কাছে এই বলে অভিযোগ করেছেন যে, শহীদ বঙ্গবন্ধুর ছবি টানিয়ে রেখেছে। শহীদের কাছে শুনলাম, এরশাদ বলেছেন, ‘শহীদ তার বাসগৃহে তার খালুর ছবি রাখতেই পারে, তাতে কোনো অন্যায় বা অপরাধ নেই।’

এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হল বা বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি লাভ করল। এ অবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রায়ই পুলিশের সাহায্য নিতে হতো এবং পুলিশ কমিশনারের সহকারী আমার বন্ধু লুটু আমাকে সাহায্য করতে থাকল। আমি এরশাদের লোক তা আবার নিশ্চিত হল, তবে আমি জানতাম আমি কার লোক ছিলাম বা কার লোক।

সন্ত্রাসী পরিস্থিতি সামলে দেয়ার পর, সুদীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর ডাকসু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হল। নির্বাচনে অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করার জন্য এরশাদ তার ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের বিলুপ্তি ঘোষণা করলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রসমাজের নেতা-সমর্থকরা ছাত্রদলে যোগ দিয়ে তাকে আরও স্ফীত করে তুলল।

নির্বাচনের জন্য সরকারি সমর্থন প্রয়োজন। ড. মান্নান তাই বাছাবাছা বিপ্লবী ও আমাকে নিয়ে এরশাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। অন্যদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীও ছিলেন। এরশাদ সেটা লক্ষ করেছিলেন।

আমরা চলে আসার পথে এরশাদ আমার কাঁধে হাত রেখে অতি মৃদুস্বরে কী যেন বলতে চাইলেন। আমি উৎকর্র্ণ হলাম ও শুনলাম তিনি বলছেন, ‘প্রক্টর সাহেব, আমি নাকি স্বৈরাচারী, আমি নাকি খুনি, আমি নাকি গণতন্ত্র হত্যাকারী; আমি একজন কবি, আপনি কি বিশ্বাস করেন আমি কাউকে খুন করতে পারি?’ আমি তার কথার কোনো জবাব দিলাম না, তবে বলতে বাধ্য হচ্ছি, তার মৃদু ও মিষ্টি কথা আমাকে মোহিত করেছিল।

আমি প্রক্টর থাকাবস্থায়ই এরশাদবিরোধী আন্দোলন তীব্রতা পেল। কেন জানি সব ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আমার এক ধরনের মিত্রতা গড়ে উঠল, যা আমি পরবর্তী সময়ে ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন ও গণআদালত সংগঠনে কাজে লাগিয়েছি।

ডাক্তার মিলনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলন প্রচণ্ড বেগবান হল, যেমন বেগবান হয়েছিল ’৬৯-এর গণআন্দোলন, যা আসাদ ও মতিউরের আত্মাহুতিতে ভিন্ন মোড় নিয়েছিল।

সে সময় এরশাদবিরোধী আন্দোলন নতুন মাত্রায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল। একপর্যায়ে এরশাদ জেনারেল নূরুদ্দিনকে দিয়ে সেনাশাসন জারি করাতে ব্যর্থ হলেন। আন্দোলনের তীব্রতায় এরশাদ পদত্যাগ ও ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হলেন।

আমার আজও মনে হয় সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা বেঁকে ও রুখে না দাঁড়ালে এরশাদ আরও অনেকদিন ক্ষমতায় থাকতেন। নূরুদ্দিনের সমর্থন পেলে তা আরও দীর্ঘায়িত হতো। এরশাদ যদি জাতীয় ছাত্রসমাজ বিলুপ্ত না করতেন, তাহলেও তার রাজনৈতিক আয়ু আরও একটু বাড়াতে পারতেন।

এরশাদের উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংঘাত, সংঘর্ষ ও অনীহার ফলস্বরূপ তার পদত্যাগ আরও তরান্বিত হয়েছিল। তার সৃষ্ট উপজেলা ও সুপ্রিমকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ জনস্বার্থমুখী ছিল।

এমনকি দেশে ৬৪ জেলা সৃষ্টিও তার এক অবদান। আমি আজও মনে করি, এরশাদের জাতীয় পার্টিকে অবাধ নির্বাচন করতে দেয়া হলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসত।

যাক যা বলতে চেয়েছিলাম। এতবড় ভূমিকা পাঠের পর পাঠকদের কি ধৈর্য থাকবে আমার মূল কথা শোনার? এরশাদ সম্পর্কে দু-একটা ভালো বলতে চাচ্ছি যা তার প্রাপ্য। এরশাদ এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব, যিনি তার পল্লীবন্ধু খেতাব কিংবা কবি পরিচয় স্থায়ী করতে চেয়েছিলেন। তার কবি পরিচয় আজ ইতিহাসের অন্তরালে চলে গেছে।

তিনি বহু সুবিধাভোগী, শুভাকাক্সক্ষী ও শুভানুধ্যায়ী সৃষ্টি করেছিলেন এবং নিজের কর্মগুণে সবার সঙ্গে সহাবস্থান করেছিলেন। তার সঙ্গে উঠবস করতে গিয়ে ডান-বাম ও মধ্যমপন্থীর রাজনীতিকরাই সবচেয়ে বেশি প্রমাণ করেছেন যে রাজনীতিতে শেষ কথা নেই; আর বুদ্ধিজীবীরাও সময় বুঝে পক্ষ বদলাতে পারে।

এরশাদ ক্ষমতাসীন অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। আশ্চর্য, একজন অমুক্তিযোদ্ধা কেমন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান হন? আমাদের সুবিধা ও সুযোগসন্ধানী মুক্তিযোদ্ধারা সেটাও সম্ভব করেছিলেন।

তবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এরশাদের একটা উপহার স্মরণযোগ্য। ‘মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান’- এ কথা বলে তিনি কোন্ উদ্দেশ্য অর্জন করতে চেয়েছিলেন, সে প্রশ্ন না তুলে বলা যায় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অতি উত্তম অভিধায় ভূষিত করেছিলেন। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি ও চরিত্রহননের কাজটা তার আগে শুরু হয়ে বহুকাল অব্যাহত ছিল।

এরশাদের দু’নম্বর কীর্তি হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মাধ্যমে তিনি তা করেছিলেন। এ অভিজ্ঞতা নিয়ে মঞ্জু শেখ হাসিনার প্রথম শাসনামলেও তার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন।

এরশাদ আমলে দেশের ওষুধ শিল্পের অভূতপূর্ব উন্নয়নের সূচনা হয়। আজ সারা বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের ওষুধ সমাদৃত। এর ভিত্তি তৈরি হয়েছে এরশাদের ওষুধ নীতিতে।

এরশাদ এ দেশে ফুলের ব্যবহারকে অনেকটা সর্বজনীন করার পথ সৃষ্টি করেছিলেন। অপরপক্ষে ফুল শুধু দেশে নয়, বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। ফুল ফলানো এখন একটা লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। এটা অবশ্যই অনন্য কৃতিত্ব। অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে অনেক অপবাদের পাশে ক্ষমতাসীন বা ক্ষমতাহীন অবস্থায় তার অনেক অবদান রয়েছে। তাকে বহু অভিধায় ভূষিতকারীরা জীবদ্দশায় তাকে গ্রহণ করে নিয়েছেন। মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে দুটো ভালো কথা না হয় বললামই।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা; উপাচার্য, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

আর/০৮:১৪/১৭ জুলাই

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে