Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৭-১৬-২০১৯

নুসরাত হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণে বাড়ানো হয় আদালতের নিরাপত্তা

নুসরাত হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণে বাড়ানো হয় আদালতের নিরাপত্তা

ফেনী, ১৬ জুলাই- আলোচিত নুসরাতের মামলার সাক্ষ্য গ্রহণকে ঘিরে ফেনীর আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জেরদার করা হয়েছিল। আদালত এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। এছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে তল্লাশি করে সবাইকে ভেতরে ঢোকানো হয়।

কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে একটি হত্যা মামলার আসামিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সতর্ক অবস্থা নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেলা ১২টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের এজলাসে মামলার সাক্ষী ও আসামীদেরকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আদালতে পৌঁছায় পুলিশ। এরপর আসামিদের উপস্থিতিতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

ফেনীর আদালতের পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ জিলানী এ বিষয়ে জানিয়ে বলেন, সাক্ষী ও আসামিদের নিরাপত্তাসহ ফেনীর আদালতে সার্বিক নিরাপত্তা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে। তবে কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে হত্যা মামলার আসামিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ফেনীর আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

কোর্ট পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় নুসরাত হত্যার মামলার ১৯ নম্বর সাক্ষী হল সুপার নুরুল আফসার ফারুকী, ২০ নম্বর সাক্ষী তাজনিলা বেগম সাথী, ২১ নম্বর সাক্ষী বিবি জাহেদা তামান্নাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পুলিশের গাড়ি করে তাদের গ্রামের বাড়ি সোনাগাজী থেকে আদালতে আনা হয়। এরআগে, মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ আসামিকেও ফেনী কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আনা হয়ে। ওই তিন জনের সাক্ষ্য শেষে তিন জনকে পুলিশের গাড়িতে তুলে সোনাগাজী পৌঁছে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে , মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ফেনীর আদালত চত্বরে আসামিদের অসংখ্য স্বজন এবং অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার শুভাকাঙ্ক্ষী ও কিছু ছাত্রকে দেখা যায়। এজলাস এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশও ছিল।

 ফেনী জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ বলেন, আদালতের গেটে আগের তুলনায় পুলিশ বেশি বসানো হয়েছে। এ ছাড়া বিচারকদের প্রবেশ মুখে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন দেখা গেছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হবে।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম শাহজাহান সাজু বলেন, ‘ফেনীর আদালতে বাদীর পক্ষে দু’জন আইনজীবী কাজ করছেন। আসামির পক্ষে ১৬ জন আইনজীবী। এছাড়া সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামির স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আদালত চত্বরে অবস্থান নেন।

ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নুসরাতের সাক্ষীদের নিরাপত্তা ছাড়াও আসামির স্বজনদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়েছে ।

উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এনইউ / ১৬ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে