Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৫-২০১৯

সব শিক্ষক অধ্যক্ষ সিরাজের কাছে জিম্মি ছিল: ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

সব শিক্ষক অধ্যক্ষ সিরাজের কাছে জিম্মি ছিল: ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

ফেনী, ১৬ জুলাই- ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১৮তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।

সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সোনাগাজী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন ও ড্রাইভার নুরুল করিম সাক্ষ্য দেন।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার রাফির সহপাঠী তানজিনা বেগম সাথি, বিবি জাহেদা বেগম তামান্না ও পরীক্ষার হলরুমের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ফারুকের সাক্ষ্যগ্রহণ হবে।

এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু বলেন, এ পর্যন্ত ১৮ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন ও দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, জহিরুল ইসলাম, হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও শিক্ষক আবুল খায়ের, শেখ আবদুল হালিম মামুন ও মো. ইউসুফ সোনাগাজী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন এবং ড্রাইভার নুরুল করিম সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাজেফ আহম্মদ ও মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন আদালতকে বলেন- আমরা অধ্যক্ষ সিরাজের বিভিন্ন অপকর্ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন কৌশলে তিনি প্রতিশোধ নিতেন। সব শিক্ষক ছিল তার কাছে জিম্মি।

মো. হোসাইন আদালতকে আরও বলেন, বিভিন্ন সময় অপকর্মের কথা শুনতাম কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস পেতাম না। অধ্যক্ষ সিরাজ মাদ্রাসার টাকায় তার খাওয়া-দাওয়া ও ভরণপোষণ চলতো।

প্রতিদিন বহিরাগত একটি গ্রুপকে মাদ্রাসা তহবিলের টাকায় খাওয়াতেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজের অফিসে অবস্থান করতেন। বহিরাগতদের নিয়ে আড্ডা বসাতেন। এতে পরিচালনা কমিটির কয়েক সদস্যকেও যোগ দিতে দেখা যেতো। অনেক শিক্ষককে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হতো।

সোনাগাজী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন আদালতকে জানান, রাফির যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করার সময় তার মা শিরিন তাকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় যান। অধ্যক্ষ সিরাজকে রাফির যৌন হয়রানির কারণ জানতে চান। এর কিছু সময়ের মধ্যে পুলিশ নিয়ে কমিটির সভাপতি রুহুল আমি ও মাকসুদ আলম হাজির হন।

সাক্ষ্য শেষে ১৬ আসামির আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেন।

অভিযোগ গঠনের ছয়দিনের মাথায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীপক্ষের তিনজন সাক্ষীকে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য উপস্থাপন করা হয়। ২০ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দেন আদালত। মামলার চার্জশিট জমা দেয়ার আগে সাতজন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতহানির মামলা তুলে না নেয়ায় তাকে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে মৃত্যুশয্যায় নুসরাত বলে গেছেন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃত্যু হয়।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে চার্জশিট জমা দেন।

চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামি হলেন- মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অন্য পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করে পিবিআই। আদালত তা অনুমোদন করেন।

এ ছাড়া যৌন হয়রানির মামলার পর নুসরাতের জবানবন্দি গ্রহণের সময় ভিডিও ধারণ করে- তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সূত্র: যুগান্তর

আর/০৮:১৪/১৫ জুলাই

ফেনী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে