Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৫-২০১৯

দুধ নিয়ে গবেষণা : অধ্যাপক ফারুকের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ শিক্ষকের বিবৃতি

দুধ নিয়ে গবেষণা : অধ্যাপক ফারুকের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ শিক্ষকের বিবৃতি

ঢাকা,১৫ জুলাই- সাম্প্রতিক দুধ নিয়ে গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বায়োমেডিক্যাল রিসার্স সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ জন শিক্ষক। আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের ৬৬ জন শিক্ষকের পক্ষে গণমাধ্যমে এই বিবৃতি পাঠায় ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক।

এ ছাড়া অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকির প্রতিবাদ জানিয়েছে মানববন্ধন করেছে গৌরব ৭১ নামের একটি সংগঠন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের ‘সদ্য-সাবেক’ পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণা কার্যক্রমকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি এবং অন্যায়ভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অধ্যাপক ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক এবং গবেষক। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অনুদানের সাহায্যে অধ্যাপক ফারুক বিভিন্ন কোম্পানির বাজারজাতকৃত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ার দাবি করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক এই ঘটনাটি প্রচারে আসা মাত্রই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং সরকারি আমলাদের কেউ কেউ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় অধ্যাপক ফারুককে আক্রমণ করছেন এবং চাপ প্রয়োগ করছেন বলে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যেই ফার্মেসি অনুষদভুক্ত চারটি বিভাগের চেয়ারম্যান এই গবেষণার দায়ভার থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন। এই অবস্থায় অধ্যাপক ফারুকের মতো আমরাও বিপন্ন বোধ করছি।

এই পরিস্থিতির মুখেও অধ্যাপক ফারুক দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় আবারও দুধের নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পেয়েছেন। জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় পরীক্ষার এই ফলটি তিনি প্রকাশ করেছেন, এবং এই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তিনি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ, সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এই গবেষণারফলাফল প্রকাশ করে তিনি নীতিনৈতিকতা বিরোধী কোনো কাজ তো করেননি বরং তার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, বিএসটিআই দুধের মাননির্ণয়ে ১৭ বছর আগে যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছিল তা দুধের মান নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের মতো কোনো পদ্ধতি বিএসটিআইয়ের নেই। অধ্যাপক ফারুক কর্তৃক এই গবেষণাটি প্রচারে না এলে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত এই বিষয়টি অজানাই থেকে যেত। এই ধরনের গবেষণাকে উৎসাহিত করা যেখানে কাম্য ছিল, তা না করে উল্টো অধ্যাপক ফারুককেই দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে, তাকে বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা বলেন, অধ্যাপক ফারুকের গবেষণার ফলাফল নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরকারি কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুধের মান নিয়ে জনমনে সন্দেহের অবসান ঘটাতে পারতেন। তা না করে অধ্যাপক ফারুককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে জনপ্রতিনিধি, সরকারি আমলা ও বিভিন্ন কোম্পানির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যে আচরণ করছেন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার পরিবেশের জন্য এক বিরাট হুমকি। এই ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা গবেষণার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা ও নতুন জ্ঞান সৃজনের ক্ষেত্রটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।

তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এখানে অধ্যাপক ফারুককে কোনো সুরক্ষা ও সমর্থন তো দিচ্ছেই না বরং নানাভাবে তার ওপর আরও চাপ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষকরা অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত এইসব বিষয়ে আরও গবেষণাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেযথাযথ পদক্ষেপ নিতে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বিবৃতি প্রদানকারী শিক্ষকরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গীতি আরা নাসরীন, সামিনা লুৎফা, তাসনীম সিরাজ মাহবুব, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, কাবেরী গায়েন, অর্পিতা শামস মিজান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, রায়হান রাইন, স্বাধীন সেন, সাহিদ সুমন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেহরীন আতাউর খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌভিক রেজা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান প্রমুখ।

অধ্যাপক ফারুককে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

এছাড়াও অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে গৌরব ৭১ নামের একটি সংগঠন। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। ৯ জুলাই অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে হুমকি দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। এর প্রতিবাদে সংগঠনটি আজ বিক্ষোভ করে।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে কয়েকজন শিক্ষকও বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষক আবদুল জাহের বলেন, ‘অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে গত ৩০ বছর থেকে চিনি। তার সততা, নিষ্ঠা নিয়ে কখনো প্রশ্ন ওঠেনি। ফার্মেসি অনুষদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগারে তিনি গবেষণাটি করেছেন। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আমি বলতে পারি, ওই কর্মকর্তা কোনো গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। গবেষণায় ক্রুটি থাকলে তা ক্রস চেক করা যেতে পারে, হুমকি কেন? দেশীয় পণ্যের মান নির্ণায়ক সংস্থা বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ফারুক স্যার একজন দেশপ্রেমিক এবং একজন প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষক ও গবেষক। আমরা তার পাশে আছি।’

মানববন্ধনে অন্যান্যদের আরও বক্তব্য দেন- বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজশিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলাম প্রমুখ।

সূত্র: আমাদের সময়
এনইউ / ১৫ জুলাই

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে