Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৪-২০১৯

যে কারণে ড্র করেও হারল নিউজিল্যান্ড

যে কারণে ড্র করেও হারল নিউজিল্যান্ড

লন্ডন, ১৫ জুলাই- লর্ডস অর্থাৎ ক্রিকেটের বাড়িতে বিশ্বকাপের ফাইনাল। তাও পরস্পরের মুখোমুখি এমন দুটি দল, যারা আগে কখনোই বিশ্বকাপ শিরোপার ছোঁয়া পায়নি। পুরো আসরের পারফরম্যান্স, শক্তিমত্তা ও সৌভাগ্য বিবেচনায় কারো থেকে কাউকে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ক্রিকেটপ্রেমিদের সৌভাগ্য- হল না একপেশে ম্যাচও।

তাই আগের বিশ্বকাপের ফাইনালের মত এবার ফুরফুরে মেজাজে থাকতে পারেননি ম্যাচে দৃষ্টি রাখা দর্শকরা। যদিও স্বাগতিক দলের অভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপের সামনে নিউজিল্যান্ডের ধুঁকতে থাকা ব্যাটিং লাইনআপের আবারো ভেঙে পড়ার শঙ্কা কিংবা অনুমান ছিলই। বিশেষত কিউইদের ওমন মেনিমুখো ব্যাটিং দেখে।

কিন্তু ভাগ্যদেবীর ছোঁয়া আর সুযোগ কাজে লাগানোর দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে নিউজিল্যান্ড তো এবার এত সহজে হারতে আসেনি! ক্রিকেটের তীর্থস্থান লর্ডসে ২৪১ রানও যে ‘যথেষ্ট লড়াকু’ সংগ্রহ, সেই প্রমাণ রেখে নিউজিল্যান্ডের বোলিং লাইনআপ সাংবাদিকদের ব্যস্ত রেখেছে ক্ষণেক্ষণে ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার সাক্ষী হতে।

তবে শেষপর্যন্ত হাসিটা হেসেছে ইংল্যান্ডই! ইয়ন মরগানের নেতৃত্বাধীন দল ঘরে তুলেছেন নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। তবে পঞ্চাশ-পঞ্চাশে একশ ওভারের ম্যাচটি অসহায় হয়ে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল সুপার ওভারের কাছে।

সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। ব্যাটিংয়ে এলেন মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশাম। ইংল্যান্ডের হয়ে গুরুদায়িত্ব মাথায় তুলে নিলেন জোরফা আর্চার।

প্রথম চার বলেই নিশাম তুলে নিলেন ১৩ রান। জয়ের জন্য শেষ দুই বলে প্রয়োজন ৩ রান। সুপার ওভারে ড্র হলেও বাউন্ডারি হিসেবে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হবে ইংল্যান্ড।

নাটকীয়তায় ভরপুর এই ম্যাচে শেষ বলে প্রয়োজন হল নিউজিল্যান্ডের দুই রান। কিন্তু গাপটিল নিতে পারলেন কেবল এক রান। সুপার ওভারে ড্র করেও বাউন্ডারি হিসেবে এগিয়ে থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেল ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপ ফাইনাল বোধ হয় এর চেয়ে আর সুন্দর কখনো হতে পারে না ইতিহাসেও হয়নি। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ গড়ালো সুপার ওভারে।

লডর্সে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২৪১ রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। জবাবে ইংল্যান্ডে ইনিংস থামে ২৪০ রানে।

৫০ ওভার শেষে ম্যাচ ড্র হওয়ায় খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে আগে ব্যাটিং করে ৬ বলে ১৫ রান সংগ্রহ করে বাটলার ও স্টোকস জুটি।

পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ভরসার অন্যতম পাত্র ছিল তাদের উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান জেসন রয় এবং জনি বেয়ারস্টো। আজকের ফাইনালেও এ দুইয়ের দিকেই তাকিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ফর্মে থাকা জেসন রয়কে (২০ বলে ১৭) দলীয় ২৮ রানের মাথায় ফিরিয়ে দিয়ে ইংলিশদের উদ্বোধনী জুটির অর্ধেক বিশ্বাস ভেঙে দেন ম্যাট হেনরি।

পরে জনি বেয়ারস্টোকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিউজিল্যান্ডের হাতে আনার সুযোগ পেয়েছিলেন গ্র্যান্ডহোম। কিউইদের করা ২৪১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো করতে পারেনি ইংল্যান্ড। প্রথম পাওয়ার প্লে’র ১০ ওভারে জেসন রয়ের উইকেট হারিয়ে করতে পেরেছিল মাত্র ৩৯ রান।

ইনিংসের একাদশ ওভারে সবাই যখন প্রথম পরিবর্তন হিসেবে অপেক্ষায় ছিলেন লকি ফার্গুসনকে বল হাতে দেখার, তখন তাকে না দিয়ে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের হাতে বল তুলে দেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। অধিনায়কের এ বাজিটি কাজে লাগিয়েও শেষমুহূর্তে গড়বড় পাকিয়ে ফেলেন গ্র্যান্ডহোম।

মাপা লাইন-লেন্থে করা পুরো ওভারে খুব একটা সুযোগ নেননি বেয়ারস্টো। দেখে শুনে কাটিয়ে দিয়েছিলেন প্রথম পাঁচ বল। শেষ বলে গুড লেন্থের একটু সামনে পড়া ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে গ্র্যান্ডহোমের হাতে ফিরতে ক্যাচ তুলে দেন বেয়ারস্টো। মিডিয়াম পেসার হওয়ায় গ্র্যান্ডহোমের জন্য খুবই সহজ ছিলো ক্যাচটি।

কিন্তু নিজের ফলো-থ্রুতে বলটি নিজের আয়ত্ত্বে রাখতে ব্যর্থ হন এ কিউই অলরাউন্ডার। ফলে ফর্মে থাকা বেয়ারস্টোর উইকেট থেকে বঞ্চিত হয় নিউজিল্যান্ড। আর জীবন পেয়ে কতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন বেয়ারস্টো, আর বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই। এরই মধ্যে ১৪তম ওভারে ম্যাট হেনরিকে পরপর দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দিয়েছেন নিজের উপস্থিতির জানান।

এদিকে বেয়ারস্টোর উইকেট নিতে না পারলেও, ইংল্যান্ডের অন্যতম ভরসার পাত্র জো রুটকে ঠিকই উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন গ্র্যান্ডহোম। ম্যাট হেনরির ১৮ বল থেকে মাত্র ১ রান করা রুট হাঁসফাঁস করছিলেন রানের জন্য। তাই গ্র্যান্ডহোমের খানিক ল্যুজ এক ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বসের উইকেটরক্ষক টম লাথামের হাতে। আউট হওয়ার আগে ৩০ বলে ৭ রান করেন তিনি।

রুটের বিদায়ের পর অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানকে নিয়ে ভালো কিছুর আশা দেখাচ্ছিলেন বেয়ারস্টো। কিন্তু তাকে বেশিদূর যেতে দেননি কিউই গতিতারকা লকি ফার্গুসন। ইনিংসের ২০তম ওভারের তৃতীয় বলে ব্যাক অব আ লেন্থের এক ডেলিভারিতে জায়গা করে খেলতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান ৫৫ বলে ৩৬ রান করা বেয়ারস্টো।

এরপর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানও। ইনিংসের ২৪তম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসে, নিজের প্রথম বলেই মরগ্যানকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। দুর্দান্ত এক ডাইভিং ক্যাচে ২২ বলে ৯ রান করা মরগ্যানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান লকি ফার্গুসন।

একশ’র আগেই টপঅর্ডারের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বেশ ভালো সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু তাদের আশায় গুড়েবালি হয়ে যায় পঞ্চম উইকেটে জস বাটলার ও বেন স্টোকস মিলে ম্যাচ জেতানো জুটি গড়লে।

এ দুই মারকুটে ব্যাটসম্যানের ১০০+ রানের জুটিতে জয়ের পথ সুগম করে ইংল্যান্ড। দুজনই তুলে নেন ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি। তবে জয়ের থেকে ৪৬ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফিরে যান বাটলার, করেন ৬০ বলে ৫৯ রান।

তখনও ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য বাকি ছিল ৩১ বলে ৪৬ রান। উইকেটে সেট ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস থাকায় আশা ছিল স্বাগতিকদের। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান যথাযথ খেলতে থাকলেও টিকতে পারেননি ক্রিস ওকস। দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলে নিউজিল্যান্ড।

শেষের তিন ওভারের ১৮ বলে ৩ উইকেট হাতে রেখে ৩৪ রান করতে হতো ইংল্যান্ডকে। সে পথে ট্রেন্ট বোল্টের করা ৪৮তম ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে শুভসূচনা করেন স্টোকস। তবে সে ওভারের পরের ৫ বলে শুধু ৬ রান খরচ করেন বোল্ট।

ফলে ১২ বলে বাকি থাকে আরও ২৪ রান। শেষের আগের ওভারটি নিয়ে আসেন ডানহাতি মিডিয়াম পেসার জিমি নিশাম। যা করার এ ওভারেই করতে হতো ইংল্যান্ড তথা স্টোকসকে। উল্টো এ ওভারে ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের দিকে হেলে দেন নিশাম। লিয়াম প্লাংকেট ও জোফরা আর্চারের উইকেটসহ মাত্র ৯ রান খরচ করেন তিনি।

যে কারণে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ জেতানোর জন্য শেষের ৬ বলে ১৫ রান করতে হতো স্টোকসকে। বল হাতে নিজের শেষ ওভার নিয়ে আসেন ট্রেন্ট বোল্ট। প্রথম ২ বলেই ডট করে সমীকরণ ৪ বলে ১৫ রানে পরিণত করেন তিনি।

তবে তৃতীয় বলেই বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন স্টোকস। শেষের ৩ বলে ৯ রানে নেমে আসে সমীকরণ। চতুর্থ বলে ভাগ্যের এক বিশাল সহযোগিতা পান স্টোকস। লেগসাইডে ঠেলে দিয়েই ২ রানের জন্য ছোটেন তিনি, দারুণ ফিল্ডিংয়ে স্ট্রাইকিং এন্ডে থ্রো করেন গাপটিল। ডাইভ দিয়ে নিজের উইকেট বাঁচানোর চেষ্টা করেন স্টোকস। ঠিক তখনই গাপটিলের করা থ্রো তার গায়ে লেগে চলে যায় বাউন্ডারিতে। ফলে ওভারথ্রোতে আরও ৪ রান পায় ইংল্যান্ড।

যে কারণে শেষ ২ বলে মাত্র ৩ রান বাকি থাকে স্বাগতিকদের। পঞ্চম বলে ফের ২ রান নিতে গিয়ে নন স্ট্রাইকে রানআউট হন আদিল রশিদ। শেষ উইকেটে শেষ বলে ২ রান প্রয়োজন থাকে ইংল্যান্ডের সামনে। শেষ বলে আবারও ২ রান নিতে গিয়ে ১ রানই নিতে পারে ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

এনইউ / ১৫ জুলাই

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে