Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৮ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৩-২০১৯

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে টাইগারদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে টাইগারদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

লন্ডন, ১৩ জুলাই- ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের মিশন শেষ করে গত রবিবার (৭ জুলাই) দেশে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের মিশনে যাওয়ার আগে টাইগাররা দেশ ছাড়ার সময় বলেছিলো সেমিফাইনাল খেলতে চায় বাংলাদেশ কিন্তু কিছু ভুলের কারণে বাংলাদেশের সেই সেমিফাইনলারে স্বপ্ন আর পূরন হয়নি। তবে চলমান এই আসর থেকে বাংলাদেশের ছিলো অনেক প্রপ্তি কিন্তু আক্ষেপ যে নেই তা বলা যাবে না। খেলতে নেমে মাঠে প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেকই তার সেরাটা দিতে ব্যর্থ ছিলো।

তাই বিশ্বকাপে টাইগারদের প্রপ্তি ও অপ্রাপ্তি গুলো পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো:

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের এই আসরে ৯টি ম্যাচে ৩ টিতে জিতে ও ১টি ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দেশে ফিরে আসতে হয় মাশরাফি-সাকিবদের। এদিকে ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপের আসরেও তিনটি ম্যাচ জিতেছিলো লাল-সবুজেরা। সেই অনুপাতে জয়ের সংখ্যা ঐ আসরের মত সমান এই আসরে। শুধু প্রাপ্তি ১ ম্যাচে ড্র। ভুল গুলো যদি ভুল না হত তাহলে হয়তো সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাংলাদেশের পূরন হয়েই যেত।

এদিকে বিশ্বকাপের আগে অভিজ্ঞ পাঁচ পঞ্চপাণ্ডব কথা বলা হয়েছিল বারবার কিন্তু অভিজ্ঞ এই পাঁচ পঞ্চপাণ্ডবের পারফরম্যান্স কেমন ছিলো চলমান এই আসরে চলুন চোখ বুলিয়ে আসি।

মাশরাফি বিন মর্তুজা: হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ভোলা সম্ভব কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন মাশরাফির অবদান কতটুকু তা ভোলা সম্ভব নয় কিন্তু বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী টাইগার কাপ্তানের পারফরম্যান্স ছিলো নাজুক অবস্থা। ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক এই আসরে ৮ ইনিংসে ৩৬১.০০ গড়ে উইকেট পেয়েছেন মাত্র ১টি। আর ব্যাট হতে করেছে মাত্র ৩৪ রান। নিয়মিত ১০ ওভার বল শেষ করতে না পারাও নিয়েও রয়েছে বেশ আক্ষেপ। দলের প্রোয়জনে জ্বলে উঠতে ব্যার্থ ছিলেন ম্যাশ। মাশরাফির মনোবলের দিক থেকে ১০০ ভাগ ফিট থকলেও ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ছিলো বিবর্ন।

তামিম ইকবাল: বিশ্বকাপে এক প্রকার ব্যর্থ দেশ সেরা এই ওপেনার। তবে আশার বানী হচ্ছে তামিমের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সটি ছিলো অন্য বিশ্বকাপের চেয়ে সেরা পারফরম্যান্স। এই বিশ্বকাপে তামিম যা করতে পেরেছে আগের আসর গুলোতে তামিম তা করতে পারেনি। বিশ্বকাপের এই আসরে ৮ ইনিংসে তামিম ইকবাল ২৯.৩৭ গড়ে রান করেছে ২৩৫। তার এই পারফরম্যান্সে যেমন প্রাপ্তি ছিলো তেমনি অপ্রাপ্তিও ছিলো চোখে পরার মত। তবে কোটি ক্রিকেট প্রেমীর আক্ষেপ ছিলো রোহিত শর্মার ক্যাচটি তালুবন্ধি না করতে পারা। হয়তো তামিম সেই ক্যাচটি তালুবন্ধি করতে পারলে বাংলাদেশ ভালো কিছু করতে পারতো সেই ম্যাচে।

সাকিব আল হাসান: বিশ্বকাপের নিজেকেও ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ দলকে যেন একাই টেনে নিতে চাইছিলেন পাহারের চুড়ায় কিন্তু একার পক্ষে তো আর সব করা সম্ভব নয়। যার ফলে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহক থেকেই টুর্নামেন্ট শেষ করেন তিনি। ব্যাট আর বোলিংয়ে বিশ্বের সেরাদের কাতারে এখনও রয়েছেন সাকিব। বিশ্বকাপের ৮ ইনিংসে ৬০৬ রান করেন তিনি তার ব্যাটিং ৮৬.৫৭। আর বল হাতে ১১ উইকেট নেয় তিনি তার বোলিং গড় ৩৬.২৭। একমাত্র সাকিবের পারফরম্যান্সেই ছিলো টাইগারদের বড় প্রাপ্তি।

মুশফিকুর রহিম: বিশ্বকাপের এই আসরে তারার মত মিটমিট করে জ্বলেছে উইকেটরক্ষক ও ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। দলের প্রোয়জনে জ্বলে উঠেছে কিন্তু তার কিছু ভুলের জন্য বাংলাদেশ হেরেছেও। চলমান এই আসরে ৮ ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ৫২.৪২ গড়ে রান করেছে ৩৬৭। টাইগারদের মধ্যে বিশ্বকাপের যেকোনো আসরে তার থেকে বেশি রান কেবল সাকিবেরই। তবে আক্ষেপের বড় বিষয় হলো ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রানআউট হয়ে মুশফিকের ফিরে যাওয়ায় দলের বড় পার্টনারশিপে বাধা হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উইলিয়ামসনকে মুশফিকের নিশ্চিত রান আউট মিস করাটাও ভুলতে পারছে না ক্রিকেটপ্রেমীরা।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ: মির্ডল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে দলের জন্য প্রায় সব ম্যাচেই যুদ্ব চালিয়ে গেছেন সাইলেন কিলার খ্যাত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বিশ্বকাপের এই আসরে ৬ ইনিংসে ৪৩.৮ গড়ে রান করেছে ২১৯। তামিম, মুশফিক আর মাহামুদুল্লাহ এই তিন জনেই বিশ্বকাপে খুব একটা খারাপ করেনি কিন্তু আবার খুব ভালোও করতে পারেনি। তাদের এই পারফরম্যান্সেই আক্ষেপ বাড়িয়েছে অনেক বেশী।

এত গেলো অভিজ্ঞ পাঁচ পঞ্চপাণ্ডবের পারফরম্যান্স বিবরণ তবে তাদের পাশাপাশি দলের জন্য জ্বলে উঠেছে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। প্রথম বিশ্বকাপেই নিজের সেরাট দেওয়ার জানান দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচে ১৩টি উইকেট নিয়েছে আর ব্যাট ৫টি ম্যাচে ব্যাটির সুযোগ পেয়ে ২৯ গড়ে ৮৭ রান করেন তিনি। বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিবের পরেই দলের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাইফউদ্দিনই নতুন প্রাপ্তি। আর কাঁটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান নতুন বলে ছিলো বিবর্ন।

শুরুর দিকে উইকেট না পাওয়াও কম আক্ষেপের ছিলো না। তবে ম্যাচের প্রায় সময় জ্বলে উঠেন তিনি। বিশ্বকাপের ৮ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে সেরা দ্বিতীয় উইকেট সংগ্রাহক তিনি। এছাড়া বড় আসরে সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের নাম মাত্র ফলাফল মনে আশার আলো ফোটাতে পারেনি। তবে এরাই বাংলাদেশের আগামীর আসার আলোর পাল উড়াবে বিশ্বের দরবারে।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ
এমএ/ ১০:৩৩/ ১৩ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে