Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৭ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৩-২০১৯

বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে অচল বান্দরবান

বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে অচল বান্দরবান

বান্দরবান, ১৩ জুলাই - কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুরো বান্দরবান জেলা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বান্দরবানের সঙ্গে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটিসহ সব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা। 

শুক্রবার বিকেল থেকে পানি নামতে শুরু করলেও  শনিবার সকাল থেকে ভারি বৃষ্টি হওয়ায় বান্দরবানের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। শহরে ইসলামপুর, হাফেজ ঘোনা, আর্মি পাড়া, মেম্বার পাড়া, বনানী স' মিল, বাস স্টেশন ও সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি এখনও পানির নিচে। সকালে পাড়াস্কুল, শহর মডেল ও বাস স্টেশন আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে, একেকটি আশ্রয়কেন্দ্রে শত শত পরিবার গাদাগাদি করে থাকছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে খিচুরি ও শুকনা খাবার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।

জেলা রেড ক্রিসেন্টের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর জানান, নতুন এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কায় আরও ৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ নিয়ে বান্দরবানে ১৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টানা ভারি বর্ষণে লামা উপজেলাতেও হাজারো পরিবার ও দোকানপাট বন্যাকবলিত হয়েছে। লামা উপজেলা পরিষদের চেয়রম্যান মোস্তফা জামাল জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। 

বান্দরবান জেলা শহরের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কপবাজার ও রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ চারদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। গত বুধবার কয়েকটি এলাকায় পাহাড়ধসের কারনে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচির সড়কে কোনো যানচলাচল করতে পারছে না।

জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধরাণ সম্পাদক ঝন্টু দাশ জানান, সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়া বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাহার ধসে উপজেলা সড়কেও বন্ধ রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম জানান, বন্যাকবলিত ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মাতামুহুরী নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভার অন্তত চার লাখ মানুষ পানিবন্দি। কোথাও কোথাও ঘরের চালা পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে হাজারো মানুষ। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ডুবে থাকায় এবং ভেঙে যাওয়ায় সরাসরি উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে দুই উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের।

সরকারিভাবে এদিন সকাল থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় চাল, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম শুরুহয়েছে।

একই অবস্থা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। পাহাড় ধস ও বন্যাঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত দুই লাখ রোহিঙ্গা। এরই মধ্যে পাহাড়ের পানিতে ভেসে এক নারী ও চার শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বসতঘর।

সূত্র: সমকাল
এনইউ / ১৩ জুলাই

বান্দরবান

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে