Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (44 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৪-২০১১

টিপাইমুখ বাঁধ ঠেকাতে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য: নিউ ইয়র্কে সেমিনারে বক্তারা

টিপাইমুখ বাঁধ ঠেকাতে প্রয়োজন জাতীয়
ঐক্য: নিউ ইয়র্কে সেমিনারে বক্তারা
নিউ ইয়র্ক, ৪ ডিসেম্বর: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞরা নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ভারতের একতরফাভাবে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতকে এই বাধ নির্মাণ প্রকল্প থেকে সরে আসার আহবান জানিয়েছেন। তারা বলেন, পানি সমস্যা বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলে এর যে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া পড়বে তা মোকাবেলার উদ্দেশ্যে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (বাংলাদেশে ৪ ডিসেম্বর রোববার সকাল) সন্ধ্যায় সিটির এস্টোরিয়ার হোটেল হলিডে ইন এ বাংলাদেশ আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাংক ও আমেরিকান এসোসিয়েশন বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্টস (এএবিইএ) এর যৌথ উদ্যোগে টিপাইমুখ বাঁধের ওপর আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডা. মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসি ডিপার্টমেন্ট অফ জেনারেল সার্ভিসেস এর সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার হারিস এম সাঈদ।

সাপ্তাহিক বাংলাদেশ?র সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খানের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মার্ক ফারম্নকী এবং অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন্এএবিইএ?র ওয়াশিংটন চ্যাপ্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার, এএবিইএ?র নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট  হাফিজুর রহমান, নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার শামসুল ইসলাম সিদ্দিকী, লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর শওকত আলী, জাতিসংঘে কর্মরত সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, এটিএন বাংলা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফখরম্নল আলম, বিশিষ্ট সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের, ডাঃ মুজিবুর রহমান মজুমদার, নিউ ইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাপ্তাহিক বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, মূলধারার রাজনীতিবিদ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, হিউম্যান রাইটস ফর বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট মাহতাবউদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সোলায়মান ভূঁইয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ?টিপাইমুখে বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশ যে সংকটে পতিত হবে তা কোন রাজনৈতিক দলের সংকট নয়, এটিকে একটি জাতীয় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। ইতোমধ্যে এটি প্রমাণিত হয়ে গেছে যে বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশে কি ক্ষতি হবে তা নিয়ে ভারতের কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু টিপাইমুখে পানি আটকে দিলে সুরমা অববাহিকায় পানি ঘাটতির কারণে শুধুমাত্র বোরো মওসুমে ধানের উৎপাদন ঘাটতি হবে বছরে ৪০ লাখ টন। মৎস্য সম্পদ বিলুপ্ত হবে এবং সুরমা কুশিয়ারা নদীর ওপর জীবন জীবিকার জন্য নির্ভরশীল মানুষ উদ্বাস্ত্ততে পরিণত হবে। খাদ্যাভাবে এক ধরণের নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে এবং এটাও অস্বাভাবিক নয় যে সীমামত্মবর্তী এলাকার লোকজন জীবিকার অন্বেষায় ভারতে পাড়ি জমাবে, যা নতুন আরেক সমস্যার সৃষ্টি করবে।?

তারা বলেন, ?ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে প্রয়োজনে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যস্থতায় ভারতকে বাংলাদেশের সাথে টিপাইমুখ বাঁধসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে উপনীত হতে বাধ্য করতে হবে।  এ বিষয়গুলো মনিটর করার জন্য তারা একটি ?কমিশন অফ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্টস? গঠনেরও প্রস্তাব দেন।?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ?বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি প্রবাহের উৎস বরাক নদীর উপর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে পানির স্বাভাবিক প্রাপ্যতা থেকে যে শুধু বঞ্চিত করছে তা নয়, দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত সকল অভিন্ন নদীর পানি কোনো না কোনোভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এর পরিণতিতে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইতোমধ্যে মরুকরণ শুরু হয়েছে। শুষ্ক মওসুমে পানির অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, মিঠাপানির মাছ আর পাওয়াই যায় না, এমনকি মানুষ সুপেয় পানি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালু করে পানি প্রত্যাহার করে নেয়া ছিল ভারতের পক্ষ থেকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের উপর চরম আঘাত, যার খেসারত বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে বিগত সাড়ে তিন দশক ধরে। তিসত্মা নদীর পানি বন্টনের কোনো সুরাহা আজো হয়নি। টিপাইমুখ নিয়ে সৃষ্ট নতুন সংকট বাংলাদেশের জনগণকে দিশেহারা করে ফেলেছে। টিপাইমুখে বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে সেই উদ্বেগের কথা ভারতকে জানানোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে আশ্বসত্ম করেছিলেন যে বাংলাদেশের ক্ষতি হতে পারে, এমন কোন কিছু ভারত করবে না। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বাংলাদেশের সকল মহল প্রতিবাদী হয়ে উঠলে সরকার এ সম্পর্কে ভারতের অবস্থান জানতে সম্প্রতি যে দুই দূতকে দিতে পাঠিয়েছিলেন তাদের কাছেও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তার আশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং এরই মধ্যে তিনি মনিপুর সফরে গিয়ে বাঁধ নির্মাণে কোনো ব্যতিক্রম হবে না বলে ঘোষণা করে এসেছেন।?

তারা বিভিন্ন ভারতীয় সমীক্ষার তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে বলেন, ?টিপাইমুখে বাঁধ নির্মিত হলে তা বাংলাদেশের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বিপজ্জনক মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের কারণ হবে। কারণ বাঁধ নির্মাণের ফলে যে কৃত্রিম জলাধার বা হ্রদ সৃষ্টি হবে, তাতে ১৫.৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি সংরক্ষিত হবে। বাংলাদেশের পানি বিজ্ঞানীদের মতে, বরাক ও টুইভাই নদের অববাহিকায় সারা বছর ধরে যে বৃষ্টিপাত হয় যার ফলে পারস্পরিক সংযুক্ত নদী দুটিতে জলপ্রবাহ সৃষ্টি হয়, সেই পরিমাণ পানি জলাধারে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে বাংলাদেশের সুরমা, কুশিয়ারা ও মেঘনা নদীতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। সুরমা-কুশিয়ারা ও এই দুই নদীর শাখাগুলোর উপর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং এক সমীক্ষায় উল্লেখ করেছে যে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের করলে এর কিছু দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া কয়েকশ? বছর পরও দেখা যাবে।?

তারা আরো বলেন, ?সৎ প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের উচিত টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পের ব্যাপারে আরো অগ্রসর হওয়ার আগেই বাংলাদেশের এ ব্যাপারে যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা করা এবং নিরপেক্ষ সমীক্ষার পাশাপাশি উভয়পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানে উপনীত হতে একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষকে সম্পৃক্ত করা।?

যূক্তরাষ্ট্র

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে