Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৭ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১১-২০১৯

ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি ঢলে বহু পরিবার পানিবন্দী

ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি ঢলে বহু পরিবার পানিবন্দী

শেরপুর, ১১ জুলাই- শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় গত চার দিনের প্রবল বর্ষণে ও সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০ গ্রামের শতশত পরিবারের ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। প্লাবিত গ্রাম গুলোর কাঁচা ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, রোপা আমন ধানের বীজতলা, সবজি, পুকুরের মাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন বলেন, গত চার দিন ধরে ঝিনাইগাতী উপজেলায় থেমে থেমে ও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে সীমান্তের ওপার সীমান্তের উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢলে ঝিনাইগাতী সদর, ধানশাইল, মালিঝিকান্দা, হাতিবান্দা, গৌরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। তবে তার ইউনিয়নের আটটি গ্রামের সিংহভাগ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে বলে জানান। এসব গ্রামের রোপা আমন বীজতলা, সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বেরিয়ে গেছে অনেক পুকুরের মাছ।

ধানশাইল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল, গৌরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মন্টু, মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতা জানান, তাদের ইউনিয়ন গুলোর প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে আমন ধানের বীজতলা, পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দীও রয়েছে সহস্রাধিক পরিবার। ৬নং হাতীবান্ধা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা জানান, আমার হাতীবান্ধায় অনেক পুকুর তলিয়ে গেছে এবং কি আমার দু জায়গায় দুটি মাছের প্রজেক্ট তলিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি সাধন হয়েছে। সদর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের গৃহবধু রসুনারা বেগম বলেন, রবিবার ও সোমবার দুইদিন ধরে ঘরের মেঝে ও চুলায় পানি উঠেছে। তাই রান্না বান্নাও করতে পারছিনা শুকনা খাবার খাচ্ছি। পোলা-পান (বাচ্চা) নিয়ে শুকনো খাবার খেয়ে বেচে আছি। তবে গৃহপালিত পশুগুলো শুকনো খড় ছাড়া অন্য কোন খাদ্য খেতে পায়নি। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে তাদের কোন খোঁজ-খবর নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।

সারিকালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোমাইয়া, ফয়সাল জানান, বৃষ্টি ও ঢলের পানির জন্য গত তিন ধরে বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। সড়িকালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্বপ্না বেগম বলেন, তার বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ছিল বৃহস্পতিবার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ঢলের পানিতে ১৫ হেক্টর জমির সবজি ও ২৫ হেক্টর রোপা আমন ধানের বীজ তলা নিমজ্জিত হয়ে আছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে পানি নেমে না গেলে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সিরাজুস সালেহীন বলেন, ১০ থেকে ১৫ হেক্টর জমির ৫০ থেকে ৬০টি মাছের প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে গেছে আমার জানা মতে, বৃষ্টির পরিমাণ আরো বেরে গেলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন, আনুমানিক ৫ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী রয়েছেন। তবে আজকের মধ্যে পানি নেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেন, আমি বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছি। পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। অবস্থার উন্নতি না হলে খুব শ্রীঘ্রই বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবারসহ তাদের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: যুগান্তর
এমএ/ ০৯:১১/ ১১ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে