Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩০ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১১-২০১৯

এসওপি করলেও বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে পারছে না ইইউ

জেসমিন পাপড়ি


এসওপি করলেও বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে পারছে না ইইউ

ঢাকা, ১১ জুলাই- ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশে ৯০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি আছে জানিয়ে নানা রকম চাপ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষর করেছিল ইইউ। কিন্তু ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে ধীরগতিতে। গত দুই বছরে দুইশ বাংলাদেশিকেও ফেরত দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

বাংলাদেশের কর্মকর্তা বলছেন, ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে পারছে না। তাছাড়া ইউরোপে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর জাগো নিউজকে বলেন, ইইউয়ের সাথে এসওপির আওতায় এখন পর্যন্ত মাত্র ১৯০ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে ১৬০ জনই এসেছে জার্মানি থেকে। বাকিরা অস্ট্রিয়া এবং গ্রিস থেকে এসেছেন।

ফেরত আনতে না পারার দায় বাংলাদেশের নয় জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, তারা (সংশ্লিষ্ট দেশগুলো) যে কয়জনের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে পেরেছে সে কয়জন এসেছে। সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল জার্মানির দিক থেকে। অথচ তারা মাত্র ১৬০ জনকে ফেরত পাঠাতে পেরেছে। এসওপি সই করলেই সব লোক গড়গড় চলে আসে না, এটা তার প্রমাণ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে এই এসওপি স্বাক্ষর করে ইইউ। সে সময় ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দফতর ইউরোস্ট্যাট তথ্য দিয়েছিল, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৯৩ হাজার ৪৩৫ জন বাংলাদেশি ইউরোপের দেশগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে। এসওপি স্বাক্ষরে বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের ভিসা প্রক্রিয়াও কড়াকড়ি করতে নির্দেশ দিয়েছিল ইইউ।

এদিকে ইউরোপে অবস্থানকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে খোরশেদ আলম খাস্তগীর বলেন, ইউরোপে অবৈধ বাংলাদেশিদের সংখ্যার সঠিক কোনো হিসাব নেই। তাদের সিস্টেম থেকে একেক সময় একেক তথ্য জানায়। ইউরোপের দেশগুলোর কোনো বর্ডার না থাকায় এক দেশে যাকে গণনা করা হচ্ছে অপর দেশেও একই ব্যক্তি গণনা হন।

এসওপি করার পাশাপাশি ফেরত পাঠানো বাংলাদেশিদের পুনর্বাসনের জন্যেও কাজ করে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক এবং আইওএমের যৌথভাবে প্রত্যাশা নামে তিনবছর মেয়াদী একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে ইইউ।

ব্র্যাক জানায়, এর আওতায় গত দুই বছরে (চলতি বছরের মে পর্যন্ত) ৪২৮ জন ইউরোপ ফেরত বাংলাদেশিকে জরুরি সহায়তা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জার্মানি থেকে এসেছেন ১০৪, গ্রিস থেকে ১৩১, ইতালি থেকে ৯২ জন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সাইপ্রাস, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া থেকেও দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশিরা।

এছাড়া ব্র্যাক ও ইউরোপিয়ান রিটার্ন অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (ইআরআরআইএন) পৃথক এক কর্মসূচির আওতায় দেশে ফেরা ৩৮ জন বাংলাদেশিকে সাবলম্বী হওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেয়া হয়েছে বলে এ প্রতিবেদককে জানান ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান।

এদিকে ইউরোপে বাংলাদেশিদের অবৈধ অভিবাসন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানিয়ে খোরশেদ আলম খাস্তগীর জানান, লিবিয়া হলো ইউরোপে প্রবেশের মেইন রুট। লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে যায়। সরকারের পলিসি অনুযায়ী, লিবিয়াতে কোনো বাংলাদেশি কাজে যেতে পারবে না। লিবিয়ার ভিসা অফিসিয়ালি বন্ধ আছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কেউ নেপাল বা ভারতে বা দুবাই যায়। সেখান থেকে লিবিয়া যাচ্ছে। সবদিক আসলে বন্ধ করা যায় না।

তবে আশার কথা হলো, এ বছর ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবেশ করেছে মাত্র দুইশ। এ সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম। মোট ৩০ হাজার অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৭ শতাংশ বাংলাদেশি। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯ হাজার। এটা ইতালি প্রশংসা করেছে। তার মানে সরকারের সিদ্ধান্ত কাজ করছে বলে জানান খোরশেদ আলম খাস্তগীর।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১১ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে