Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ , ৩ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১০-২০১৯

‘সবক্ষেত্রেই মূল সমস্যা অস্বীকার করে সরকার’

‘সবক্ষেত্রেই মূল সমস্যা অস্বীকার করে সরকার’

ঢাকা, ১০ জুলাই- গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা সহ অন্যান্য যেসব বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের সমালোচনা করা হয় সেগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে সরকার মূল সমস্যাকে অস্বীকার করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের আলোকচিত্র সাংবাদিক শহিদুল আলম। যুক্তরাজ্য এবং কানাডা সরকারের যৌথ আয়োজনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে দু’দিনের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ লন্ডনে শুরু হচ্ছে – বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের সাথে শহিদুল আলমসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা আছে – সেই প্রশ্ন গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকবার সামনে এসেছে, যে বিষয়টি লন্ডন সম্মেলনে আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের আলোচিত ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতায় কতটুকু স্বাধীনতা আছে, সেই বিষয়টি আলোচনা করা হবে এই সম্মেলনে।

বাংলাদেশে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সমালোচনা এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার বিষয়গুলোকে এই সম্মেলনে তুলে ধরবেন বলে জানান মি. আলম।

‘রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে আদালত, পুলিশের মত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থাকে, যেগুলোকে এক এক করে ভাঙা হয়েছে। গণমাধ্যম এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে না পড়লেও দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমকেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না।’

মি. আলমের মতে, বাংলাদেশে কয়েকটি কণ্ঠ ছাড়া কোনো গণমাধ্যমই সরকারের সমালোচনা করতে পারছে না।

এদিকে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে লন্ডনে শুরু হতে যাওয়া এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে, বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বিবিসি’র কাছে দাবি করেছেন, ব্রিটেনের গণমাধ্যমের চেয়েও স্বাধীন বাংলাদেশের গণমাধ্যম।

অথচ, ২০১৯ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস নামের আন্তর্জাতিক সংগঠন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যে বৈশ্বিক প্রতিবেদন ছেপেছে, সেখানেও ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ নেমে দাড়িয়েছে ১৫০তম অবস্থানে।

উল্লেখ্য, গত বছরে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ভুল খবর প্রচারের অভিযোগে মি. আলমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং ১০০ দিনের বেশি সময় কারাগারে থাকেন তিনি। বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলছে।

তবে বিবিসির পক্ষ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে শহিদুল আলমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “শুধু গণমাধ্যম নয়, সব ক্ষেত্রেই নিজেদের বিরুদ্ধে হওয়া সমালোচনার জবাবে মূল সমস্যাটাই অস্বীকার করে সরকার।”

“সরকারের বক্তব্য কিন্তু সবক্ষেত্রে শুরুই হয় অস্বীকার করার ভিত্তিতে। সরকার বলছে ক্রসফায়ার হয় না, গুম হয় না, দুর্নীতি হয় না, পক্ষপাতিত্ব হয় না এবং তারা বলছে যে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারে কোন বাধাবিপত্তি নেই।”

মি. আলম মনে করেন, সবসময় সরাসরি বাধা দেয়া না হলেও পরোক্ষভাবে বাধা প্রয়োগ করা হয় গণমাধ্যমের ওপর।

“সংবাদমাধ্যমের বিজ্ঞাপণ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাইলে কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে চড়াও হয়ে ওঠে এবং এই মুহূর্তে কতজন সাংবাদিকের ওপর মামলা রয়েছে – সেগুলো যাচাই করলেও কিছুটা বোঝা যাবে যে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান থাকলেও কেন তাদের সত্যিকার অর্থে বাকস্বাধীনতা নেই।”

তবে বাংলাদেশের এসব সমস্যা সমাধানে লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আলোচনা করা কতটা কার্যকর হবে, সেবিষয়েও সন্দেহ পোষণ করেন মি. আলম।

“জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মত কেউ যখন এসব দেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বা তথ্য দেয় – যেসব তথ্যের কারণে তারা বিপদে পড়ে – তখন তারা কী করে আমরা তা’ও দেখেছি।”

পশ্চিমা দেশগুলোর নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করার বিষয়েও সম্মেলনে আলোচনা করবেন বলে জানান মি. আলম।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ

আর/০৮:১৪/১০ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে