Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ , ৭ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১০-২০১৯

না’গঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর-চট্টগ্রাম রুটে রেলের মহাপরিকল্পনা

শিপন হাবীব


না’গঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর-চট্টগ্রাম রুটে রেলের মহাপরিকল্পনা

ঢাকা, ১০ জুলাই- রেলে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। জরাজীর্ণ রেলপথ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। নতুন লাইনের সঙ্গে নতুন ট্রেনের সংখ্যা বাড়লেও রেলের লোকসান লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সুফল মিলছে না! এমন অবস্থায় রেলপথমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ট্রেনের গতি বাড়াতে এবং লোকসান কমাতে ইলেকট্রিক ট্রেনের বিকল্প নেই। সর্বশেষ রোববার ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন (ওভারহেড ক্যাটিনারি ও সাব-স্টেশন) প্রবর্তনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ প্রকল্পের ওপর পরিকল্পনা কমিশনের আবার পিইসির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানান, রেলকে আরও অত্যাধুনিক করতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী গণপরিবহনে রূপান্তরিত করতে হলে ইলেকট্রিক ট্রেনের কোনো বিকল্প নেই। এক কথায় রেলে আমূল পরিবর্তন আনতে হলে পুরো রেলপথকেই ইলেকট্রিক লাইনে উন্নীত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুট দিয়ে প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করা হবে। এ নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে কাজ করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এজন্য নতুন সব লাইনই ইলেকট্রিক লাইনের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।

রেলপথমন্ত্রী সুজন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ইলেকট্রিক লাইনে রূপান্তর করা সহজ হবে। এজন্য পুরো লাইনই প্রস্তুত। এতদিন বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল। এখন সে সমস্যা অনেকটা মিটে গেছে। আমরা আশা করছি, আগামী এক বছরের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে পুরোদমে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারব।

এ প্রকল্পে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। ২০ বছর মেয়াদি মাস্টার প্ল্যান আমরা তৈরি করেছিলাম। মাস্টারপ্ল্যানটি হালনাগাদ করে ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন অনুমোদিত মহাপরিকল্পনায় ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০৪৫ সালের জুন পর্যন্ত ছয়টি ফেজে বাস্তবায়ন করা হবে।

এজন্য পাঁচ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি ব্যয়ে ২৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে বুলেট ট্রেনসহ দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর প্রকল্প রয়েছে। মহাপরিকল্পনার অধিকাংশ প্রকল্প ইলেকট্রিক লাইনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে যেমন রেলে আমূল পরিবর্তন আসবে তেমনি লোকসানের পরিবর্তে রেল ব্যাপক লাভের মুখ দেখবে।

রেলওয়ে পরিকল্পনা ও অর্থনীতি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেল লাভের মুখ দেখবে। ইলেকট্রিক ইঞ্জিনের দাম অনেক কম। মাত্র দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। অথচ ডিজেল ইঞ্জিনের দাম গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা।

এছাড়া বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের মেরামত ব্যয়ও অনেক কম। ডিজেল ইঞ্জিন বড় ধরনের মেরামতে (ওভারহোলিং) যেখানে ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হয়, সেখানে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে তা হবে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া রেলে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তেল লাগে। ইলেকট্রিক লাইন হলে তেলের অর্থ বেঁচে যাবে। রেলে তেলচুরির হিড়িক রয়েছে। কর্তৃপক্ষ কিছুতেই তেল চুরি রোধ করতে পারছে না। ইলেকট্রিক ট্রেন হলে সেটা থেকেও কর্তৃপক্ষ রক্ষা পাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের ঊর্র্ধ্বতন এক প্রকৌশলী জানান, বর্তমান ট্র্যাকের ওপরও ইলেকট্রিক ট্রেন চালানো সম্ভব। বিশ্বের সব দেশেই একই ট্র্যাকে ইলেকট্রিক ও ডিজেলচালিত ট্রেন চলাচল করে। গত ১০ বছরে নির্মিত সব রেলপথ খুবই মজবুত ও ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উপযোগী।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইনের কাজ ২০২১ সালের মধ্যে শেষ হবে। ঢাকা থেকে আখাউড়া, লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নতুন ডুয়েল গেজ লাইন প্রস্তুত রয়েছে। এতে পথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপন এখন সময়ের ব্যাপার। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলেই ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বসানো শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, রেলে আমূল পরিবর্তন আনতে হলে নিশ্চিত ইলেকট্রিক ট্র্যাকশনের কোনো বিকল্প নেই। তবে রেলে লোকসান কমিয়ে লাভের মুখ দেখতে হলে আধুনিক উপায়ে রেলকে সাজাতে হবে। এতদিন রেলের উন্নয়নে সরকার বিনিয়োগ বাড়ালেও ইলেকট্রিক রেলপথ নির্মাণ বাস্তবায়ন না হওয়াটা দুঃখজনক। দেশে বিদ্যুৎ বাড়ছে। বর্তমানে অনেক উন্নত বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন আবিষ্কার হয়েছে।

এতে খুব বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় না। ইলেকট্রিক ট্র্যাকশনে যাওয়ার আগে বর্তমান লাইনের যে অবস্থা সেটির ওপরে জোর দিতে হবে। হাজার হাজার বৈধ-অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এগুলো একটি কাঠামোর মাধ্যমে আনতে হবে। এটা নিশ্চিত যে দ্রুত গতি কিংবা বুলেট ট্রেন চালাতে হলে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন লাগবেই।

রেলওয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ এসএম সলিমুল্যাহ বাহার এ প্রতিবেদককে জানান, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু প্রকল্প নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে কাজ করা হচ্ছে।

মহাপরিকল্পনার আওতায় ঢাকা-টঙ্গী-চট্টগ্রাম সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা- জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে মাঠ পর্যায়ে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। রেলওয়ে মহাপরিচালক শামছুজ্জামান বলেন, রেলকে গণবান্ধব করতে হলে ও লাভবান করতে হলে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনে যেতেই হবে। আমরা সেদিকেই সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে- যত দ্রুত সম্ভব বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর পর্যন্ত প্রথমে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর। আমরা এ নিয়ে বেশ এগোচ্ছি।

রেলওয়ে প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুত গতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ সমীক্ষা প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।

গত বছরের ৩১ মে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এর সমীক্ষা চলছে। এ ছাড়া ঢাকা-খুলনা ও ঈশ্বরদী-রাজশাহী রুটে এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ও জয়দেবপুর-টাঙ্গাইলে এলিভেটেড রেলওয়ে নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর

আর/০৮:১৪/১০ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে