Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ , ৩ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৯-২০১৯

চট্টগ্রাম-বান্দরবান-কক্সবাজার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

চট্টগ্রাম-বান্দরবান-কক্সবাজার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

চট্টগ্রাম, ১০ জুলাই- ভারি বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। নগরীর নিুাঞ্চলের কিছু এলাকা থেকে পানি না নামায় মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো এসব এলাকার লোকজনকে পোহাতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

জলাবদ্ধতায় যানজটের কারণে ফ্লাইট ধরতে পারেননি হজযাত্রীসহ অনেকে। নগরীর বাইরে বিভিন্ন উপজেলার নিুাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

সাতকানিয়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ হয়ে পড়েছেন পানিবন্দি। এই উপজেলার বাজালিয়ায় সড়কে পানি ওঠার কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

একই সঙ্গে বান্দরবানের সঙ্গে কক্সবাজারের যোগাযোগও হয়ে পড়েছে বিচ্ছিন্ন। ফলে আটকা পড়েছেন পর্যটকরা। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় দুটি স্থানে ছোট আকারের পাহাড় ধস হয়েছে। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। নগরী ও জেলার বিভিন্ন পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে সরিয়ে নেয়া অব্যাহত রয়েছে। শঙ্খ, মাতামুহুরি, হালদাসহ কয়েকটি খালের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খাগড়াছড়িতে নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

দেখা দিয়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও বন্যা আতঙ্কে রয়েছে রোহিঙ্গারা। বন্ধ রয়েছে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে যান চলাচল। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম ও সাতকানিয়া : নগরীর নিুাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা সোমবার জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। রাতের দিকে কিছু এলাকার পানি নেমে গেলেও হালিশহর, আগ্রাবাদ সিডিএ, ব্যাপারীপাড়া, শান্তিবাগ, মুহুরিপাড়া, রঙ্গিপাড়া, ছোটপুল, বড়পুল এলাকা থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত পানি সরেনি। এসব এলাকার বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সড়কে পানি জমে থাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের সামনের সড়কে মঙ্গলবার দুপুরেও হাঁটুসমান পানি দেখা গেছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৬১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আজ বুধবারও চট্টগ্রামে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান আবহাওয়া অফিসের ডিউটি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রদীপ কান্তি রায়।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, সাতকানিয়া-বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া এলাকায় সড়কের ওপর পানি উঠে গেছে। সকাল থেকে এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হওয়া ও সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায় নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজট। কাস্টম হাউস মোড় থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে যানজটের চিত্র ছিল ভয়াবহ। তিন ঘণ্টায়ও এ এলাকা অতিক্রিম করে বিমানবন্দরে যেতে পারেনি অনেক যাত্রী। ফ্লাইট মিস করেছেন তাদের অনেকে। এর মধ্যে হজযাত্রীও রয়েছেন।

বান্দরবান : বান্দরবানে প্রধান সড়কের কয়েকটি স্থানে সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে বান্দরবানের নিুাঞ্চল।

ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনকে বসতি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্র অথবা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন, পৌরসভার এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলায় খোলা ১২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে প্রায় সাড়ে ছয়শ’ দুর্গত মানুষ। বৈরী আবহাওয়ায় থানছিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জিন্নাপাড়ায় আটকা পড়েছে ১৬ জন পর্যটক।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১৮৫ মিলিমিটার জানিয়েছেন বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম।

বর্ষণে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের বাজালিয়া, বরদুয়ারাসহ তিনটি পয়েন্টে প্রধান সড়কটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, ঢাকা, কক্সবাজারসহ সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

উখিয়া (কক্সবাজার) : উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে অবস্থানকারী ২৫ হাজার পরিবারের প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা দিন কাটাচ্ছেন পাহাড় ধস ও বন্যার ঝুঁকি আতঙ্কে। গত পাঁচ দিনে মৃত্যু হয়েছে শিশুসহ তিনজনের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজারের বেশি বসতঘর।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের হিসাব মতে, পাঁচ দিনের ভারি বর্ষণ এবং ঝড়ো হাওয়ায় উখিয়া-টেকনাফে ভূমিধসে এক হাজার ১৮৬টি, বন্যায় ২১৬টি এবং ঝড়ো হাওয়ায় এক হাজার ৮৪০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ১৫ হাজার ৫৩৪ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া ক্যাম্পগুলোতে ৩৯১টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে ৫১ বার।

খাগড়াছড়ি : পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছে খাগড়াছড়ির স্থানীয়রা। পাহাড়ি ঢলে চেঙ্গী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে নদী পাড়ে গঞ্জপাড়া, মুসলিমপাড়া, দক্ষিণ মাথাসহ একাধিক এলাকা। এছাড়া শহরের শালবাগান, মোল্লাপাড়া ও কুমিল্লা টিলা এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি আশঙ্কায় রয়েছেন। মূলত টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

টানা বৃষ্টির কারণে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি সড়কের একাধিক স্থানে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে মহালছড়ির সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর : সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের বেশকিছু জায়গা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিকল্প হিসেবে নৌকা দিয়ে পার হচ্ছেন যাত্রীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের কারণে বাড়ছে জেলার নদ-নদীর পানি। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৭৫ মিলিমিটার।

সূত্র: যুগান্তর
এমএ/ ০৯:২২/ ১০ জুলাই

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে