Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ , ২ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৯-২০১৯

পুলিশে চাকরি পেলেন রিকশাচালক হাসান

স্বপন চন্দ্র দাস


পুলিশে চাকরি পেলেন রিকশাচালক হাসান

সিরাজগঞ্জ, ১০ জুলাই- বেশ কয়েক বছর আগে পিতৃহারা হয়েছেন হাসান। বড় ভাই শাহ আলম বিয়ে করে মা-ভাইকে ফেলে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে উঠেছেন। বাধ্য হয়ে লেখাপড়া ছেড়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় হাসানকে। সংসার চালাতে রিকশা চালানোর পেশা বেছে নেন। পরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। লেখাপড়া করে বড় কিছু করার স্বপ্ন থাকলেও জীবিকার তাগিদে সেটা হয়নি হাসানের। তবে ভাগ্য তার দিকে মুখ ফিরিয়েও থাকেনি। মাত্র ১০৩ টাকায় পুলিশে নিয়োগ পেলেন রিকশাচালক হাসান।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে ড্রিল শেড ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ফলাফল ঘোষণার সময় নিজের নাম শুনে খুশিতে কেঁদেই ফেলেন তিনি।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) টুটুল চক্রবর্তী যখন অন্যান্যদের সঙ্গে তাকেও ফুল দিয়ে বরণ করেন। তখন হাসান আবেগে এসপি টুটুল চক্রবর্তীর পা ছুঁয়ে সালাম করেন। এ সময় এসপি তাকে বুকে জড়িয়ে নেন।

ফলাফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা শেষে কথা হয় সদর উপজেলার বহুলী গ্রামের মৃত আকতার হোসেনের ছেলে মো. হাসানের সঙ্গে।

আবেগঘন কন্ঠে তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। বড় ভাই বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। মা ও আমাকে বাড়িতে রেখে যান। সংসার চালাতে রিকশা চালানোর পথ বেছে নিতে হয়।

তিনি বলেন, পুলিশে চাকরি পাবো এমন ধারণা ছিল না। তবুও বন্ধুদের সঙ্গে হুজুগের বশে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে গেলাম। তারপর লিখিত পরীক্ষাতেও টিকে গেলাম। তারপরও মনে হচ্ছিল আমাদের মতো গরিব মানুষের চাকরি হবে না। কারণ আমরা তো টাকা দিতে পারবো না। মৌখিক পরীক্ষাতে ঠিকই বাদ পড়ে যাবো। মৌখিক পরীক্ষাও ভালোভাবে দিলাম। আজ চূড়ান্ত বাছাইয়ের সময় আমার নাম বলায় আমি আর স্থির থাকতে পারিনি। আমার চোখে পানি চলে এসেছে।

কথা হয় নিয়োগপ্রাপ্ত উল্লাপাড়ার শ্রীফলগাঁতী গ্রামের জোহর আলীর মেয়ে জোবেদা, সলঙ্গার জগজীবনপুর গ্রামের ভ্যানচালক মোক্তার হোসেনের ছেলে রাকিবুল ইসলাম, উল্লাপাড়ার দমদমা গ্রামের মুদি দোকানি মনজিলের মেয়ে মুক্তি খাতুন, কামারখন্দের ঠাকুরঝিপাড়া গ্রামের তাঁতশ্রমিক সোবহান শেখের মেয়ে সাহিদা, দিনমজুর আনোয়ার হোসেনের ছেলে মনিরুজ্জামান, রিকশাচালক আব্দুল আব্দুল আলীমের মেয়ে আঁখি খাতুনসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে।

তারা বলেন, এখানে আসার আগেও আমরা ভাবতে পারিনি টাকা ছাড়া চাকরি পাবো। মাত্র ১০৩ টাকা খরচ করে পুলিশে চাকরি পেলাম। এবার আমাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারবো।

রায়গঞ্জের তিন নান্দিনা গ্রামের শ্রমিক নজরুল ইসলাম বলেন, তার মেয়ে নীলা খাতুন চাকরি পেয়েছে। কোনো তদবির বা টাকা-পয়সা দিতে হয়নি।

অপর অভিভাবক হায়দার আলী খান পুলিশ বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এভাবে টাকা-পয়সার লেনদেন ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে দুস্থ মানুষের সন্তানেরাও চাকরি পাবে।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার টুটুল চক্রর্বর্তী বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর অনেক আগে থেকেই ব্যাপক প্রচারণা করা হয়েছে। কেউ যাতে দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে অর্থনৈতিক লেনদেন না করেন। সেজন্য লিফলেট বিতরণ ও পোস্টারিং করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পর প্রাথমিক বাছাইপর্ব থেকে সব পরীক্ষায় প্রার্থীরা কারও সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন করেছে কিনা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ বিভাগের সব কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। 

সিরাজগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল পদে প্রায় সাড় তিন হাজার নারী-পুরুষ প্রাথমিক বাছাইপর্বে অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে ১৫০৫ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় ৩০৮ জন উত্তীর্ণ হলে তাদের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১৩৬ জন পুরুষ ও ৪৩ জন নারী মোট ১৭৯ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলা নিউজ
এমএ/ ০৯:১১/ ১০ জুলাই

সিরাজগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে