Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ , ২ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৭-০৯-২০১৯

সাপের ভয়ে বেঞ্চিতে পা উঠিয়ে ক্লাস!

সাপের ভয়ে বেঞ্চিতে পা উঠিয়ে ক্লাস!

নাটোর, ১০ জুলাই- নাটোরের সিংড়ার উপজেলার ৮নম্বর শেরকোল ইউনিয়নের সোনাপুর-পমগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবারও সাপের উপদ্রব বেড়েছে। গত ৩দিন ধরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস চলাকালীন সময়ে ১০টি সাপ মেরেছে।

সাপের উপদ্রবের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরাও রয়েছেন আতঙ্কে। বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভয়ে বাড়ি চলে গেছে। অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বেঞ্চিতে পা তুলে ক্লাস করছে।

গত বছর প্রায় একই সময়ে স্কুলটিতে সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছিল। সে সময় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে, বাইরে, বারান্দায়, টেবিল-বেঞ্চের নিচে এমনকি শিক্ষকদের কক্ষ ও শিক্ষার্থীদের বইপুস্তকের ভেতর থেকে আচমকাই বের হতে দেখা যায় ছোট-বড় বিষধর সাপ।

ওই সময় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তায় হাতে লাঠি তুলে নেয়। মারতে সক্ষম হয় ২০টির অধিক সাপ। কর্তৃপক্ষকে ক্লাস নিতে হয় স্কুল ভবনের বারান্দায়।

এবারও একমাত্র প্রাক-প্রাথমিক ক্লাস রুম থেকেই ১০টি সাপ মারা হয়। ফলে বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। তবে কোমলমতি শিশুদের মনে সাপ আতঙ্ক ভর করায় অনেকেই বাড়ি চলে যায়।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে লাঠি নিয়ে সাপের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। স্কুল চত্বরের জঙ্গলে অথবা বাতাসে বইপুস্তক নড়ে ওঠলেই ওই শিক্ষার্থীরা লাঠি নিয়ে ছুটে যায় সেদিকে।

লাঠি নিয়ে পাহারারত পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শাহেদ আলী ও সিফাত রহমান জানায়, তারা স্কুলে এসে সাপ দেখে। তারা প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ থেকে ১০টি সাপ মেরেছে। গত বছরও তারা অনেক সাপ মেরেছে।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানায়, তারা এখন ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে। বেঞ্চিতে পা উঠিয়ে বসে ক্লাস করছে।

এদিকে স্কুল ভবনে আবারও সাপের উপদ্রব দেখা দেয়ায় অভিভাবকরা ছুটে যান স্কুলে। অভিভাবকদের কেউ কেউ সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাড়ি নিয়ে যান। ফলে বিপাকে পড়েন স্কুলের শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষ।

অভিভাবকরা জানান, তারা স্কুলে সাপের উপদ্রবের কথা শুনে স্কুলে ছুটে এসেছেন। যে সব সাপ মারা পড়েছে সবগুলোই বিষধর ও বিষাক্ত সাপ। তবে সেগুলো বাচ্চা সাপ। সাপের মা কোথাও লুকিয়ে রয়েছে। সুযোগ পেলে কাউকে না কাউকে কামড়ে দেবে। তাই সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। এখানে এখন কোনো শিশুই নিরাপদ নয়।

পুরাতন ভবনের কারণেই সাপের উপদ্রব বলে জানান অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা সুলতানা জানান, মঙ্গলবার তার ক্লাস চলাকালীন সময়ে ৩টি সাপ বের হয়েছে। তারপর ওই কক্ষের ক্লাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন সাপের উপদ্রবে আমরা চিন্তিত। আর সাপের কারণে শিশুদেরও মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এবং সাপ আতঙ্কে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমছে।

তিনি আরও জানান, গত বছর সাপের উপদ্রবে শিশুরা বেশ কিছুদিন স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছিল।

প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরও এই একই সময়ে সাপ ও পোকা মাকড়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছিল। গত ৩দিনে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ থেকে ১০টি সাপ মারা হয়। সাপের উপদ্রব দেখে অনেক শিক্ষার্থীই আতঙ্কে স্কুলে আসছে না। আর বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানোর পর তিনি মঙ্গলবার সরেজমিনে স্কুল পরিদর্শন করে শিশু শ্রেণি ছুটি দিয়ে ওই কক্ষ সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন।

সিংড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল হাসান মোবাইল ফোনে জানান, তিনি বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে ওই স্কুল পরিদর্শন করেছেন। আর সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে শিশু শ্রেণি সংস্কার করাসহ স্কুলের আশেপাশে পরিষ্কার করা হচ্ছে। যাতে সাপের আর কোনো আতঙ্ক না থাকে।

সূত্র: যুগান্তর
এনইউ / ১০ জুলাই

নাটোর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে