Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ , ৩ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৯-২০১৯

হারানো পদ ফিরে পেতে খাদেম হানিফকে খুন

হারানো পদ ফিরে পেতে খাদেম হানিফকে খুন

ঢাকা, ৯ জুলাই - আজিমপুর কবরস্থান জামে মসজিদের খাদেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাইফুল ইসলাম (৩৮)। তবে তার কাজে সন্তুষ্ট না হতে পেরে গত মে মাসে সাইফুলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন কর্তৃপক্ষ। তার জায়গায় হানিফ শেখকে (৩০) প্রধান খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে, পদ হারিয়ে সহকারী খাদেম হয়ে পড়া সাইফুলকে প্রায়ই বিভিন্ন কাজের নির্দেশনা দিতেন হানিফ। সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়া এবং নিজের পদ ফিরে পাওয়ার আশায় হানিফকে খুন করেন সাইফুল।

গত ২ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে খাদেম হানিফকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন সাইফুল ইসলাম। পরদিন ৩ জুলাই (বুধবার) মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে হানিফের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সোমবার (০৮ জুলাই) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে সাইফুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো। যিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) রাজধানীর ধানমন্ডি পিবিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, আজিমপুর গোরস্থান মেয়র হানিফ জামে মসজিদটি গত ৪ নভেম্বর উদ্বোধনের পর সাইফুল খাদেম হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় কর্তৃপক্ষ গত রমজানের আগে হানিফকে খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেয়।

হানিফ তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাইফুলকে বিভিন্ন কাজের জন্য নির্দেশ দিতেন এবং সাইফুলের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বলতেন। এই বিষয় নিয়ে সাইফুলের সঙ্গে হানিফের মনোমালিন্য দেখা দেয়। এর জের ধরে এবং নিজের পদ ফিরে পেতে হানিফকে খুনের পরিকল্পনা করেন সাইফুল।

পিবিআই প্রধান বলেন, গত ২ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে কাজ করতে বলায় সাইফুল অস্বীকৃতি জানায় এবং এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিকেল চারটার দিকে হানিফ খাবার শেষ করে ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়েন। ওই সময়ে রুমে কেউ ছিলেন না। এই সুযোগে সাইফুল রান্নঘর থেকে একটি চাকু এনে ঘুমন্ত হানিফের পেটে আঘাত করে। হানিফ জেগে উঠলে তার মুখ বাম হাত দিয়ে চেপে ধরে সাইফুল উপর্যুপুরি তার বুকে, পেটে ও গলায় ১১টি আঘাত করে।

হানিফের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সাইফুল বাইরে থেকে প্লাস্টিকের বস্তা ও পলিথিন নিয়ে আসেন এবং মরদেহ বস্তায় ঢুকিয়ে ব্যালকনিতে একটি বাঁশের ঝুড়িতে রেখে দেন। এ অবস্থায় রাত ৯টার দিকে সুস্থ মস্তিষ্কে সে বাইরে খাওয়া-দাওয়া করে রুমে ফেরত আসে। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে হানিফের মরদেহ বাইরে একটি ভাঙ্গা কবরস্থানে রেখে আসবে বলে পরিকল্পনা করে। কিন্তু অন্যরা জেগে থাকায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধান্ত বদল করেন খুনি সাইফুল। তার বাবা মারা গেছেন বলে মসজিদ থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান।

পরদিন রাতে মসজিদের ক্লিনার বাহাউদ্দিন ও নতুন নিয়োগকৃত খাদেম ফরিদ নিহত খাদেম হানিফের কক্ষে ঘুমাতে যায়। সেই সময় তারা দুর্গন্ধ পেয়ে পাশের ব্যালকনির থাই গ্লাস টান দিয়ে একটি বাশের খালি ঝুড়ির মধ্যে বস্তাটি দেখতে পায়। সেটি খুলে তারা খাদেম হানিফের মরদেহ সনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেয়।

এদিকে, খুনি সাইফুল দাড়ি কেটে চট্টগ্রামে আত্মগোপন করেন। পরে সোমবার চট্টগ্রামে তার খালার বাসা থেকে সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়।


সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

এন এইচ, ৯ জুলাই.

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে