Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ , ২ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৮-২০১৯

ভালো দাম পাওয়ায় কুষ্টিয়ায় পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের

কুদরতে খোদা সবুজ


ভালো দাম পাওয়ায় কুষ্টিয়ায় পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের

কুষ্টিয়া, ০৮ জুলাই- কুষ্টিয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার পাটের চাষ বেড়েছে। ধানের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার অনেক কৃষক পাটের চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ মৌসুমে পাটের প্রবৃদ্ধিও ভালো হয়েছে।  বর্তমানে পাট ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

জেলার মুখ্য পাট পরিদর্শকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, এ বছর কুষ্টিয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ১০ হেক্টর। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাট চাষ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় পাট চাষ করা হয়েছে ২ হাজার ২৫০ হেক্টরে, কুমারখালিতে ৪ হাজার ৬৭৫ হেক্টর, খোকসায় ৩ হাজার ৭৪০ হেক্টর, মিরপুরে ৪ হাজার ৪৫ হেক্টর, ভেড়ামারায় ৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর এবং দৌলতপুর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এবছর পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৯৫১ বেল। প্রতি বেল ১৮০ কেজি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের পাট চাষি মেজবাহউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর চার বিঘা জমিতে পাচের চাষ করেছি। পাটের প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো হয়েছে। তবে এবার পোকা-মাকড়ের অক্রমণ অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশি। এছাড়া, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে জমিতে বেশি সেচ দিতে হয়েছে। এতে গতবারের চেয়ে পাটের উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। আশা করছি, বাজারে পাটের ন্যায্য দাম পাবো।’

একই গ্রামের সামসুল প্রামাণিক জানান, এ অঞ্চলে এবার অনেক কৃষক পাটের আবাদ করেছেন। তবে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া না গেলে পাট জাগ (পানিতে ডুবিয়ে রেখে পচানো) দেওয়ায় সমস্যা হবে। এছাড়া,এখনও তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টিপাত বাড়লে পাট জাগ দেওয়ায় সুবিধা হবে। পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দিলে পাটের মানটা ভালো হয়। তিনি আরও জানান, এক বিঘা জমিতে পাটের চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। এরমধ্যে জমির চাষের খরচ বাবদ ৯শ’ টাকা, বীজ কেনা বাবদ ৩৫০ টাকা, সেচ খরচ বাবদ ১২শ’ টাকা, নিড়ানি বাবদ দুই হাজার টাকা, পাট কাটা বাবদ দুই হাজার টাকা, বহন খরচ ২৫শ’ টাকা এবং পাট ধোয়া বাবদ খরচ হয় প্রায় ৩৬শ’ টাকা। মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের পাট চাষি ইদ্রিস আলী জানান, গত বছর পাটের ফলন ভালো হাওয়ায় এবং চাষিরা কিছুটা ভালো দাম পাওয়ায় এবারও পাট চাষের দিকে ঝুঁকেছেন তারা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। একই উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের পাট চাষি সেলিস হোসেন জানান, এবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধাসসহ বেশ কিছু রবি শস্যের ক্ষতি হয়েছিল। তা ছাড়াও ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক পাট আবাদে ঝুঁকেছেন। গত মৌসুমে কৃষক পাটের দামও ভালো পেয়েছেন। এ কারণে পাট চাষে আগ্রহটা এবার বেশি।

তিনি মনে করেন, সরকার ন্যায্য দিলে কৃষকরা পাট চাষে আরও বেশি আগ্রহী হবেন। সদর উপজেলার বড় আইলচারা গ্রামের নাজমুল ইসলাম জানান, এখন প্লাস্টিকের বস্তার বদলে চটের বস্তার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পাটের চাহিদাও বেড়ে গেছে।  ফলে  ভালো দাম পাওয়ার কারণে পাট আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। এছাড়া পাটকাঠিরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

পাট ব্যবসায়ী সাবদেল আলী বলেন, ‘প্রতি মৌসুমেই কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাট কিনে আনি।  এতে খরচ বাদে ভালোই লাভ থাকে। এখনও নতুন পাট ওঠা শুরু হয়নি। আশা করছি, এ মাসের শেষের দিক থেকেই পাট কিনতে পারবো। ’

কুষ্টিয়া জেলার মুখ্য পাট পরিদর্শক মো. সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘গত বছর কৃষকরা পাটের ন্যায্য দাম পাওয়ায় এবার তাদের আগ্রহ বেড়েছে। এ ছাড়াও আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার মাঠে পাটের প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ মাসের মধ্যেই সরকারিভাবে পাট ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।  এরপর বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কুষ্টিয়ার একটি পাটক্রয় কেন্দ্রে সরকারিভাবে পাট কেনা শুরু হবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এনইউ / ০৮ জুলাই

 

কুষ্টিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে