Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ , ২ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৬-২০১৯

বিশ্বকাপে প্রাপ্তি শুধু সাকিব-মোস্তাফিজ

জ্যোতির্ময় মণ্ডল


বিশ্বকাপে প্রাপ্তি শুধু সাকিব-মোস্তাফিজ

লন্ডন, ০৭ জুলাই- ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল শঙ্কা নিয়ে। ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় শঙ্কা কাটিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছিলেন মাশরাফিরা। এমনকি অধিনায়ক জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

শুরুটা যেমন আশাজাগানিয়া ছিল, শেষটা ততটাই বিষাদময়। মাশরাফির কথায়, ব্যর্থ বিশ্বকাপ।

চার বছরের প্রস্তুতির ফল আট ম্যাচ খেলে মাত্র তিনটি জয়। শুক্রবার শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সপ্তম স্থান নির্ধারণ হয়ে যায়। শনিবার অস্ট্রেলিয়াকে দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়ে দিলে আটে নেমে শেষ হবে। সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের যতই ইতিহাসের পাতা রাঙান না কেন- আক্ষেপ, হতাশা আর ব্যর্থতার আলোচনাতে আগামী চার বছর কাটবে বাংলাদেশের।

২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। ওই বছরেই অসামান্য পারফরম্যান্সে বদলে যায় টাইগাররা। এক সময় বাংলাদেশ উঠে যায় র‌্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানেও। সেই ধারাবাহিকতা রেখে ২০১৭ সালে এ ইংল্যান্ডের মাটিতেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলা, গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের ফাইনালেও খেলেছে দল। দেশে ও দেশের বাইরে জয় ও সিরিজ জয় এসেছে। সাফল্যের পথ ধরেই ছুটে চলা অব্যাহত ছিল। কঠিন কন্ডিশন জেনে বিশ্বকাপে নিজেদের ওপর আস্থা ছিল বাংলাদেশের। ছিল অগাধ বিশ্বাস। বাংলাদেশ দল ছুঁতে চেয়েছিল স্বপ্নের চূড়া। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর মনে হচ্ছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল স্বপ্ন ছিল আষাঢ়ে গল্প।

ব্রিস্টলে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় সে কি আফসোস! কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ওই ম্যাচেও যে বাংলাদেশ জিততে পারত তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশ্বকাপের আগে আশার ফানুস উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত হতাশা উপহার দিলেন মাশরাফিরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে যারাই ব্যাট করেছে, প্রায় সব দলই বড় সংগ্রহ গড়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২৪৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচটা জিততে জিততে দুই উইকেটে হেরে যায় টাইগাররা।

পরের ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একেবারেই উড়ে যান মাশরাফিরা। স্বাগতিকরা প্রথম ব্যাট করে ৩৮৬ রানের পাহাড় গড়ে। সেই রান টপকাতে নেমে ভালো শুরু করলেও তিনশ’ ছোঁয়া হয়নি। অস্ট্রেলিয়াও বাংলাদেশের বিপক্ষে নেমে চারশ’র কাছাকাছি রান করে। তখনই নিজেদের দুর্বলতাগুলো বেরিয়ে আসতে থাকে। নখদন্তহীন বোলিং নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। কিন্তু টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবং সাউদাম্পটনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পাওয়ায় স্বপ্ন যাত্রার পথে টিকে ছিল বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে যেতে হলে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে অবশ্যই জিততে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু বার্মিংহামে ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনাল দৌড় থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জিততে পারলেও বাংলাদেশ পাঁচে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করতে পারত। সেটাও হাতছাড়া হল বড় ব্যবধানে হেরে।

পুরো টুর্নামেন্টে প্রত্যাশার চেয়েও ঢের বেশি ভালো করেছেন সাকিব আল হাসান। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকভাবে নিজেকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের শীর্ষে রেখেছেন। টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন ৬০৬ রান নিয়ে। আট ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি ফিফটি। বোলিংয়ে নিয়েছেন ১১ উইকেট। টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার দৌড়ে এখনও ভালোভাবে এগিয়ে আছেন সাকিব। সেমিফাইনালে না যেতে পেরে সাকিবের জন্য আরও বেশি হতাশা প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিমের পারফরম্যান্সও ছিল দুর্দান্ত। তবে হতাশ করেছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। প্রত্যেক ম্যাচে ভালো শুরু করার পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি সৌম্য। একটি হাফ সেঞ্চুরিও নেই তার। তামিম কয়েক বছর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও বিশ্বকাপে তিনি বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ভালো করতে পারেননি ২০১৫ বিশ্বকাপে দুটি সেঞ্চুরি করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও।

তবে সবচেয়ে হতাশার জায়গা বোলিং। মোস্তাফিজুর রহমান ২০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু রান দিয়েছেন দু’হাত ভরে। নতুন বলে একটি উইকেটও পাননি তিনি। প্রথম স্পেলে বরাবরই ধারহীন দেখিয়েছে তাকে। রুবেল দুই ম্যাচে সুযোগ পেলেও নিজেকে চেনাতে পারেননি। তবে যে স্পিনারদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় ছিল, সেই সাকিব-মিরাজই ধারাবাহিকতা রেখে বোলিং করেছেন। বাংলাদেশ দলে তেমন গতিময় পেসার নেই। নেই লেগ-স্পিনারও। কাজটা কঠিন হবে বলে আগেই ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু যেটুকু প্রত্যাশা ছিল তার কিছুই করতে পারলেন না বোলাররা।

সবচেয়ে বেশি হতাশার ছিল অধিনায়ক মাশরাফির বোলিং। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে দশ ওভার বোলিং করতে পেরেছেন। নিয়েছেন একটি উইকেট! অধিনায়ক না হলে টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে সব ম্যাচ খেলাত না। ২০০৭, ২০১১ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ তিনটি করে ম্যাচ জিতেছিল। এবারও সেই তিন জয়। এ দলটাকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ দল।

অথচ কাজে তার কিছুই দেখা গেল না। হতাশা প্রকাশ করে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা যত যাই বলি না কেন, এই বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয়েছি। সাকিব ও মুশফিক দারুণ খেলেছে। মোস্তাফিজ উইকেট পেয়েছে। কিন্তু এটাই সব না। সাকিব যে পারফরম্যান্স করেছে তার জন্য হলেও আমাদের সেমিফাইনালে যাওয়া দরকার ছিল। সবাই বিশ্বকাপের ফল নিয়ে হতাশ।’

এমএ/ ০১:৩৩/ ০৭ জুলাই

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে