Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২০-২০১৩

পদ্মা সেতুতে তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগ - বিভ্রান্তিকর

প্রকৌশলী সফিকুর রহমান অনু



	পদ্মা সেতুতে তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগ - বিভ্রান্তিকর
গত ১৯শে সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের বিভিন্ন TV ও প্রচার মাধ্যমে  প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুতে তথাকথিত দুর্নীতির উপরে প্রধান (লীড) নিউজ ছিল - পদ্মা সেতু প্রকল্পে বাংলাদেশী কর্মকর্তাকে ‘ঘুষ দেয়ার’ (ষড়যন্ত্রের) ‘কারণে’ কানাডার পুলিশ ‘অভিযুক্ত’ করেছে বাংলাদেশের আবুল হাসান চৌধুরী (প্রাক্তন মন্ত্রী, কিন্তু বর্তমানে উনি চরম শেখ হাসিনা বিরোধী এবং সংস্কার বাদী, পিডিপি ও কিংস পার্টির নেতা) সহ আরও চার জনকে! আমাদের মিডিয়া, আবুল হাসান চৌধুরীর ‘প্রাক্তন’ পরিচয়টা বললেও, ‘বর্তমান’ পরিচয়টা, পিডিপি ও কিংস পার্টির নেতা, কিন্তু একবারও বলল না! কারণ, উনার বর্তমান পরিচয়টা বললে, শেখ হাসিনা এবং বর্তমান সরকার কিছুটা সুবিধা পাবে! হায়রে হলুদ সাংবাদিকতা!
 
পদ্মা সেতু প্রকল্পের তথাকথিত দুর্নীতির আরো যে নতুন এবং অতি সাম্প্রতিক তথ্য গুলি বা খবরগুলি বের হচ্ছে, সেগুলি কিন্তু আমাদের মিডিয়া একবার উল্লেখ করল না! সেগুলি হলো- প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে তথাকথিত দুর্নীতির মূল এবং  প্রথম অভিযোগকারী - বিশ্বব্যাংক - যে দুই জনকে কখনো অভিযুক্ত করা তো দুরের কথা , কখনো সন্দেহও করে নাই! এমন দুই জনকেই  এবার কানাডার পুলিশ প্রথম বারের মত অভিযুক্ত করেছে! তারা হলেন কানাডার নাগরিক এসএনসি-লাভালিনের সাবেক উর্ধতন কর্মকর্তা কেভিন ওয়ালেস এবং কানাডার নাগরিক জুলফিকার আলী ভূঁইয়া!
 
পক্ষান্তরে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে  বাংলাদেশের প্রধান যে ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী (মন্ত্রী-উপদেষ্টা-সচিব) কে প্রথম থেকেই  এবং বার বার ‘ঘুষ চাওয়ার’  (ষড়যন্ত্রের) ‘কারণে’ অভিযুক্ত ও দোষী বলে আসছিল - বিস্ময়কর ভাবে, কানাডার পুলিশ এখন পর্যন্ত সেই সাবেক মন্ত্রী আবুল হোসেন, উপদেষ্টা ড মশিউর রহমান এবং সেতু সচিবকে  --  অভিযুক্ত করে নাই! এতে কি প্রমাণিত হয়?
পদ্মা সেতু প্রকল্পে তথাকথিত দুর্নীতির মূল এবং প্রথম অভিযোগকারী - বিশ্বব্যাংক - যাদেরকে মূল বা আসল অভিযুক্ত ও দোষী হিসাবে সন্দেহ করেছিল - দুই - তিন বছরের তদন্তে, কানাডার  পুলিশ তাদেরকে অভিযুক্ত করার মত কোন প্রমান পায় নাই! তাই কানাডার  পুলিশ তাদেরকে অভিযুক্ত করে নাই!
 
আরেকটি খুবই উল্লেখ যোগ্য ও প্রধান জিনিস আমাদের মিডিয়া কখনো উল্লেখ করে না, সেটি হলো--- আমাদের মিডিয়া সহ বিশ্বব্যাংক প্রথম থেকেই বলে আসছিল যে, বাংলাদেশের মন্ত্রী-উপদেষ্টা-সচিব কানাডার কোম্পানীর কাছে ঘুষ “চেয়েছিল” এবং বিশ্বব্যাংক পরে বলে, ‘ঘুষ পাওয়ার “ষড়যন্ত্র” করেছিল’। কিন্তু এখন বিশ্বব্যাংক এবং কানাডার পুলিশ - উভয়ই বলছে – কানাডার ওই এসএনসি লাভালিন কোম্পানীই বাংলাদেশের  মন্ত্রী-উপদেষ্টা-সচিবদের ঘুষ “দিতে চেয়েছিল” কাজ পাওয়ার জন্য!
 
এখানেও বিরাট সন্দেহ বা কিন্তু আছে! কানাডার ওই এসএনসি লাভালিন কোম্পানীর সংশ্লিস্ট প্রকৌশলী ও বিশ্বব্যাংক কর্তিক অভিযুক্ত ওই কোম্পানীর অন্তর্জাতিক প্রকল্পের সাবেক পরিচালক কানাডার নাগরিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসমাইল কানাডার আদালতে বলেন ও দাবী করেছেন যে, "কোনো ধরনের উৎকোচ, উৎকোচের প্রতিশ্রুতি বা তথাকথিত প্রজেক্ট কনসালটেন্সী কষ্ট (পিসিসি) ছাড়াই পদ্মাসেতু প্রকল্পের কাজের প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছিলো! " তাছাড়া, প্রথমে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, ঘুষের ‘পরিমান’ এবং ঘুষ ‘পরিকল্পিত গ্রহীতাদের’ নাম - কানাডার ওই এসএনসি লাভালিন কোম্পানীর কর্মকর্তা রমেশ শাহর "ব্যক্তিগত  ডায়েরিতে" লিখা ছিল! আমি ৭ সমুদ্রের ওপার থেকে আপনার নাম ডায়েরিতে লিখে রাখলাম আর আপনি চোর হয়ে গেলেন।
 
এখন মজার ব্যাপার হচ্ছে, ওই "ব্যক্তিগত ডায়েরি" টিও (‘ডায়েরি তত্ত্ব’, আমাদের ‘জজ মিয়া’ নাটকের মত) এখন উধাও হয়ে গেছে! এখন বলা হচ্ছে আসলে ওটি ‘ডায়েরি’ ছিল না।ওটা নাকি, একটি ‘ডেস্ক ক্যালেন্ডার’ ছিল! কোটি কোটি টাকা ঘুষ দেয়ার কথা এবং গুরুত্তপুর্ন ও প্রভাবশালী (মন্ত্রী-উপদেষ্টা-সচিব) দের নাম - কেউ তার অফিসের টেবিলের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে  লিখে রাখবে  - এমন আহাম্মক কি এই দুনিয়াতে আছে? এই যুক্তি বা প্রমানকি বিশ্বাসযোগ্য এবং কেউ কি বিশ্বাস করবে? কিন্তু বাংলাদেশে আছে, করে এবং করবে! ওই সব কেতাদুরস্ত, দুর্নীতিবাজ ও দুর্নীতি সমর্থক, নীতি-আদর্শ হীন, জ্ঞানপাপী, মিথ্যুক, লোভী, নিঃলজ্জ, ভীরু, অপেশাদার এবং মেরুদন্ড হীন সুশীলরা – সাংবাদিকরা - সম্পাদকরা সময় ও সুযোগ পেলেই - টিভি টক শো  হোক আর সেমিনার হোক বা  গোলটেবিল আলোচনা হোক  - এমনকি  সাধারণ মানুষকেও  তারা হরদম এই অনুমান নির্ভর মিথ্যা কথা - দিনের পর দিন  বলেই চলছেন।
 
সেলুকাস, কী বিচিত্র আমাদের এই সব দুর্নীতিবাজ ও দুর্নীতি সমর্থক, নীতি-আদর্শ হীন, জ্ঞানপাপী, মিথ্যুক, লোভী, নিঃলজ্জ, ভীরু অপেশাদার এবং মেরুদন্ড হীন সুশীল! সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশের সাংবাদিকতা! সেলুকাস! কী বিচিত্র আমাদের নিঃলজ্জ, দুর্নীতিবাজ ও দুর্নীতি সমর্থক, নীতি-আদর্শ হীন, জ্ঞানপাপী, মিথ্যুক, লোভী, অপেশাদার এবং মেরুদন্ড হীন সাংবাদিক-সম্পাদক, মিডিয়া!
 
অকলেন্ড, নিউজিলেন্ড
 

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে